ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ঠাকুরগাঁওয়ে বজ্রাঘাতে একই দিনে তিনজনের মৃত্যু, আহত ২ Logo বাংলাদেশে EO G2 অফ-গ্রিড ইনভার্টার উন্মোচন করল গুডউই Logo দোহারে শিক্ষা, বিজ্ঞান, নারীর ক্ষমতায়ন ও সবুজায়নে জেলা প্রশাসনের বহুমুখী উদ্যোগ Logo যোগদানের ৬ দিন পর বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন প্রত্যাহার Logo গবেষণা প্রত্যাহার: বাংলাদেশি গবেষণায় বড় সতর্কবার্তা Logo আদালত প্রাঙ্গণে আসামিকে স্বজনের দেওয়া পাউরুটিতে ইয়াবা-গাঁজা Logo সীমান্তে কেনাকাটা চলছে নার্কো-কারেন্সিতে : নিত্যপণ্যের বিনিময়ে আসছে মাদক Logo কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত হচ্ছে মহানগর এক্সপ্রেস Logo হাতুড়িপেটা করে থানায় স্বামী, হাসপাতালে গৃহবধূর মৃত্যু Logo ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হামলা, আটক ৩

হঠাৎ রেগে যাচ্ছেন? এটি হতে পারে মারাত্মক মানসিক রোগ

অতিরিক্ত রাগ বা হঠাৎ বিস্ফোরক আচরণ একটি মানসিক রোগ হতে পারে।ছবি- সংগ্রহীত

অতিরিক্ত রাগ বা হঠাৎ বিস্ফোরক আচরণ অনেক সময় শুধু ব্যক্তিত্বের সমস্যা নয়—এটি একটি মানসিক ব্যাধিও হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে Intermittent Explosive Disorder (আইইডি) বলা হয়।

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সামান্য কারণেই তীব্র রাগে প্রতিক্রিয়া দেখান, যা পরিস্থিতির তুলনায় অনেক বেশি হয়ে থাকে। গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচালিত একাধিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৫ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই সমস্যায় ভোগেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, এই ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণ সময় স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎ করেই রাগের বিস্ফোরণ ঘটাতে পারেন। এতে তারা চিৎকার, আক্রমণাত্মক আচরণ বা সহিংসতা প্রদর্শন করতে পারেন।

Lebanese American University Medical Center-এর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ Jocelyne Azar বলেন, এই রোগ অনেক সময় অন্যান্য মানসিক সমস্যার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়, যেমন বাইপোলার ডিসঅর্ডার বা ব্যক্তিত্বজনিত সমস্যা।

এই রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—খিটখিটে মেজাজ, অতিরিক্ত উত্তেজনা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, শরীর কাঁপা এবং হঠাৎ রাগের বিস্ফোরণ। রাগের পর রোগীরা সাধারণত ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং পরে নিজেদের আচরণের জন্য অনুতপ্ত হন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি তিন মাস ধরে নিয়মিত রাগের এমন বিস্ফোরণ ঘটে বা বছরে অন্তত তিনবার গুরুতর আক্রমণ দেখা যায়, তবে এটি আইইডির লক্ষণ হতে পারে।

এই রোগের পেছনে শৈশবের মানসিক আঘাত, পারিবারিক সমস্যা, নির্যাতন বা জেনেটিক কারণ কাজ করতে পারে। মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশ Amygdala অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে পড়লে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT), শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের কৌশল এবং প্রয়োজন হলে ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। সময়মতো চিকিৎসা নিলে এই সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে বজ্রাঘাতে একই দিনে তিনজনের মৃত্যু, আহত ২

হঠাৎ রেগে যাচ্ছেন? এটি হতে পারে মারাত্মক মানসিক রোগ

Update Time : ০৬:১৩:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

অতিরিক্ত রাগ বা হঠাৎ বিস্ফোরক আচরণ অনেক সময় শুধু ব্যক্তিত্বের সমস্যা নয়—এটি একটি মানসিক ব্যাধিও হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে Intermittent Explosive Disorder (আইইডি) বলা হয়।

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সামান্য কারণেই তীব্র রাগে প্রতিক্রিয়া দেখান, যা পরিস্থিতির তুলনায় অনেক বেশি হয়ে থাকে। গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচালিত একাধিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৫ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই সমস্যায় ভোগেন।

আরও পড়ুন  রাতে ভাত খাওয়া ভালো নাকি ক্ষতি? জানালেন পুষ্টিবিদ

বিশেষজ্ঞরা জানান, এই ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণ সময় স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎ করেই রাগের বিস্ফোরণ ঘটাতে পারেন। এতে তারা চিৎকার, আক্রমণাত্মক আচরণ বা সহিংসতা প্রদর্শন করতে পারেন।

Lebanese American University Medical Center-এর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ Jocelyne Azar বলেন, এই রোগ অনেক সময় অন্যান্য মানসিক সমস্যার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়, যেমন বাইপোলার ডিসঅর্ডার বা ব্যক্তিত্বজনিত সমস্যা।

আরও পড়ুন  বুক জ্বালাপোড়া কমানোর ৬ ঘরোয়া উপায়, জানুন এখনই

এই রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—খিটখিটে মেজাজ, অতিরিক্ত উত্তেজনা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, শরীর কাঁপা এবং হঠাৎ রাগের বিস্ফোরণ। রাগের পর রোগীরা সাধারণত ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং পরে নিজেদের আচরণের জন্য অনুতপ্ত হন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি তিন মাস ধরে নিয়মিত রাগের এমন বিস্ফোরণ ঘটে বা বছরে অন্তত তিনবার গুরুতর আক্রমণ দেখা যায়, তবে এটি আইইডির লক্ষণ হতে পারে।

আরও পড়ুন  শুধু টক নয়, পুষ্টির ভাণ্ডার তেঁতুল! জানুন অবাক করা স্বাস্থ্য উপকারিতা

এই রোগের পেছনে শৈশবের মানসিক আঘাত, পারিবারিক সমস্যা, নির্যাতন বা জেনেটিক কারণ কাজ করতে পারে। মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশ Amygdala অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে পড়লে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT), শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের কৌশল এবং প্রয়োজন হলে ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। সময়মতো চিকিৎসা নিলে এই সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।