ঢাকা ১০:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৫ জরুরি পদক্ষেপ

জ্বালানি সংকট ও গ্রিডের সীমাবদ্ধতায় দেশে লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং সারাদেশে তীব্র আকার ধারণ করায় গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক ও শিল্প মালিকরা। জ্বালানি সরবরাহ ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের যান্ত্রিক ত্রুটি ও জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতা এবং তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দেশে এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বর্তমানে উৎপাদনের পর্যাপ্ত সক্ষমতা থাকলেও মূল জ্বালানির অভাবে অনেকগুলো তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চাহিদার সঙ্গে যোগানের বড় ফারাক তৈরি হয়ে গ্রিড ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

মঙ্গলবার বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাঠানো এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, বিদ্যমান সংকট সামাল দিতে বেশ কিছু কৌশলগত সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং কমানোর এই প্রক্রিয়ায় গ্রামাঞ্চলে সরবরাহ বৃদ্ধিকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। রাজধানী ঢাকার দুই প্রধান বিতরণ সংস্থা ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) এবং ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) তাদের আওতাধীন এলাকাগুলোতে লোডশেডিং সুষমভাবে বণ্টন করছে। ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক অঞ্চলে সাময়িক বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে সেই বিদ্যুৎ ঢাকার বাইরের বিদ্যুৎ বঞ্চিত পল্লী ও মফস্বল এলাকায় পাঠানো হচ্ছে।

ঢাকায় পরিকল্পিত বিদ্যুৎ সমন্বয়ের ফলে অর্জিত বাড়তি বিদ্যুৎ দ্রুততম সময়ে গ্রামাঞ্চল এবং প্রত্যন্ত এলাকার শিল্প-কারখানায় পুনর্বণ্টন করা সম্ভব হচ্ছে। বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং মোকাবেলার এই নীতির ফলে ঢাকার বাইরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও শিল্প খাতের উৎপাদন কিছুটা হলেও সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে ঢাকার বাইরের গ্রামগুলোতে আগের মতো দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার প্রবণতা অনেকটাই কমে এসেছে বলে দাবি করছে কর্তৃপক্ষ। নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলকে টানা বিদ্যুৎহীন না রেখে সারা দেশে সমতাভিত্তিক বিদ্যুৎ বণ্টনের দিকে নজর দেওয়া সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

চলতি সংকটের পেছনে গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং চাহিদা অনুযায়ী প্রাথমিক জ্বালানি আমদানি না করতে পারাকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে সরকার বিকল্প উপায়ে গ্যাস ও তেল সরবরাহের গতি বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ আশা ব্যক্ত করেছে যে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর যান্ত্রিক গোলযোগ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ দ্রুত শেষ হলে এবং প্রাথমিক জ্বালানির স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হলে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

সার্বিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিশেষজ্ঞ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের আধুনিকায়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তার কোনো বিকল্প নেই। বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে নাগরিক ও শিল্প গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছুটা সাশ্রয়ী ও সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরকার আশা করছে, গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি ও গ্রিডের জরুরি সংস্কার কাজ আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সম্পন্ন হলে গ্রাহকরা লোডশেডিংয়ের অতিরিক্ত চাপ থেকে অনেকটাই রেহাই পাবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৫ জরুরি পদক্ষেপ

Update Time : ০৮:০৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং সারাদেশে তীব্র আকার ধারণ করায় গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক ও শিল্প মালিকরা। জ্বালানি সরবরাহ ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের যান্ত্রিক ত্রুটি ও জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতা এবং তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দেশে এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বর্তমানে উৎপাদনের পর্যাপ্ত সক্ষমতা থাকলেও মূল জ্বালানির অভাবে অনেকগুলো তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চাহিদার সঙ্গে যোগানের বড় ফারাক তৈরি হয়ে গ্রিড ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

মঙ্গলবার বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাঠানো এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, বিদ্যমান সংকট সামাল দিতে বেশ কিছু কৌশলগত সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং কমানোর এই প্রক্রিয়ায় গ্রামাঞ্চলে সরবরাহ বৃদ্ধিকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। রাজধানী ঢাকার দুই প্রধান বিতরণ সংস্থা ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) এবং ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) তাদের আওতাধীন এলাকাগুলোতে লোডশেডিং সুষমভাবে বণ্টন করছে। ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক অঞ্চলে সাময়িক বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে সেই বিদ্যুৎ ঢাকার বাইরের বিদ্যুৎ বঞ্চিত পল্লী ও মফস্বল এলাকায় পাঠানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন  মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিতে তেলের দামে নিম্নগতি

ঢাকায় পরিকল্পিত বিদ্যুৎ সমন্বয়ের ফলে অর্জিত বাড়তি বিদ্যুৎ দ্রুততম সময়ে গ্রামাঞ্চল এবং প্রত্যন্ত এলাকার শিল্প-কারখানায় পুনর্বণ্টন করা সম্ভব হচ্ছে। বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং মোকাবেলার এই নীতির ফলে ঢাকার বাইরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও শিল্প খাতের উৎপাদন কিছুটা হলেও সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে ঢাকার বাইরের গ্রামগুলোতে আগের মতো দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার প্রবণতা অনেকটাই কমে এসেছে বলে দাবি করছে কর্তৃপক্ষ। নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলকে টানা বিদ্যুৎহীন না রেখে সারা দেশে সমতাভিত্তিক বিদ্যুৎ বণ্টনের দিকে নজর দেওয়া সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

আরও পড়ুন  মাদক কারবারে বাধা দিতে গিয়ে নোয়াখালীতে প্রাণ গেল এক তরুণের

চলতি সংকটের পেছনে গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং চাহিদা অনুযায়ী প্রাথমিক জ্বালানি আমদানি না করতে পারাকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে সরকার বিকল্প উপায়ে গ্যাস ও তেল সরবরাহের গতি বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ আশা ব্যক্ত করেছে যে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর যান্ত্রিক গোলযোগ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ দ্রুত শেষ হলে এবং প্রাথমিক জ্বালানির স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হলে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

আরও পড়ুন  রাজধানীতে সন্তানকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা

সার্বিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিশেষজ্ঞ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের আধুনিকায়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তার কোনো বিকল্প নেই। বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে নাগরিক ও শিল্প গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছুটা সাশ্রয়ী ও সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরকার আশা করছে, গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি ও গ্রিডের জরুরি সংস্কার কাজ আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সম্পন্ন হলে গ্রাহকরা লোডশেডিংয়ের অতিরিক্ত চাপ থেকে অনেকটাই রেহাই পাবেন।