ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ বাংলাদেশির মরদেহ হস্তান্তর

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৭:৩৯:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০২

স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রতীকী চিত্র। | ছবি: সংগৃহীত

৯ বাংলাদেশির মরদেহ সৌদি আরব থেকে দেশে আনার পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহগুলো পৌঁছালে স্বজনদের কাছে তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এসব বাংলাদেশি নিহত হন। দেশে মরদেহ পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে তৈরি হয় শোকাবহ পরিবেশ। স্বজনরা তাদের প্রিয়জনের মরদেহ গ্রহণ করেন।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকারের উদ্যোগে নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। স্বজনদের কাছে মরদেহ যথাযথ মর্যাদায় পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি জানাজা ও দাফনের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, নিহতদের ওয়ারিশদের তালিকা পাওয়ার পর পরিবারের হাতে সরকারি আর্থিক সহযোগিতা তুলে দেওয়া হবে। নিহতদের পরিবারের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যায়, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজ করেছেন। এ কাজে সৌদি সরকারও সহযোগিতা করেছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী।

তবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত আরও সাত বাংলাদেশির মরদেহ এখনো দেশে আনা সম্ভব হয়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে কয়েকজনের ক্ষেত্রে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হওয়ায় কিছুটা সময় লাগছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ডিএনএ পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে বাকি মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

সৌদি আরবের রিয়াদে কর্মরত এসব বাংলাদেশির মৃত্যু প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্য বড় ধরনের শোকের ঘটনা। জীবিকার প্রয়োজনে বিদেশে থাকা স্বজনদের এমন ঘটনায় দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।

সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। মরদেহ দেশে ফেরানোর পাশাপাশি দাফন, আর্থিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতার বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বাকি সাতজনের পরিচয় শনাক্ত ও মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তাদের পরিবার। ডিএনএ পরীক্ষার ফল ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন হলে তাদের মরদেহও দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় নিহতদের পরিবার যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কাজ করছে। মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি সহায়তার প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

রিয়াদের ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে নয়জনের মরদেহ ইতোমধ্যে দেশে ফিরেছে। বাকি সাতজনের মরদেহ ফেরানোর প্রক্রিয়া চলমান। ফলে এখন স্বজনদের অপেক্ষা দ্রুত শেষ করে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে দেওয়াই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান কাজ।

সরকার জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া শেষ করে বাকি মরদেহগুলোও যত দ্রুত সম্ভব দেশে আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ বাংলাদেশির মরদেহ হস্তান্তর

Update Time : ০৭:৩৯:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

৯ বাংলাদেশির মরদেহ সৌদি আরব থেকে দেশে আনার পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহগুলো পৌঁছালে স্বজনদের কাছে তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এসব বাংলাদেশি নিহত হন। দেশে মরদেহ পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে তৈরি হয় শোকাবহ পরিবেশ। স্বজনরা তাদের প্রিয়জনের মরদেহ গ্রহণ করেন।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকারের উদ্যোগে নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। স্বজনদের কাছে মরদেহ যথাযথ মর্যাদায় পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি জানাজা ও দাফনের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

আরও পড়ুন  সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় ধান রোপণ করল এলাকাবাসী

তিনি বলেন, নিহতদের ওয়ারিশদের তালিকা পাওয়ার পর পরিবারের হাতে সরকারি আর্থিক সহযোগিতা তুলে দেওয়া হবে। নিহতদের পরিবারের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যায়, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজ করেছেন। এ কাজে সৌদি সরকারও সহযোগিতা করেছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী।

তবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত আরও সাত বাংলাদেশির মরদেহ এখনো দেশে আনা সম্ভব হয়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে কয়েকজনের ক্ষেত্রে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হওয়ায় কিছুটা সময় লাগছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ডিএনএ পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে বাকি মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন  সৌদি আরবে আগুনে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, হৃদয়বিদারক ঘটনা

সৌদি আরবের রিয়াদে কর্মরত এসব বাংলাদেশির মৃত্যু প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্য বড় ধরনের শোকের ঘটনা। জীবিকার প্রয়োজনে বিদেশে থাকা স্বজনদের এমন ঘটনায় দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।

সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। মরদেহ দেশে ফেরানোর পাশাপাশি দাফন, আর্থিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতার বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বাকি সাতজনের পরিচয় শনাক্ত ও মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তাদের পরিবার। ডিএনএ পরীক্ষার ফল ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন হলে তাদের মরদেহও দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন  কাতারের শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

এ ঘটনায় নিহতদের পরিবার যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কাজ করছে। মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি সহায়তার প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

রিয়াদের ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে নয়জনের মরদেহ ইতোমধ্যে দেশে ফিরেছে। বাকি সাতজনের মরদেহ ফেরানোর প্রক্রিয়া চলমান। ফলে এখন স্বজনদের অপেক্ষা দ্রুত শেষ করে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে দেওয়াই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান কাজ।

সরকার জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া শেষ করে বাকি মরদেহগুলোও যত দ্রুত সম্ভব দেশে আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।