ঢাকা ১১:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বারকোলা: লিভারপুলে ফরাসি তারকার হাইভোল্টেজ আগমন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:৩৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৪

লিভারপুলের নতুন ফরোয়ার্ড বারকোলা। ছবি: সংগৃহীত

বারকোলা এখন লিভারপুলের। কয়েক সপ্তাহের গুঞ্জনের পর অবশেষে পিএসজি ছেড়ে ইংলিশ ক্লাবটিতে যোগ দিলেন ফ্রান্সের এই তারকা ফরোয়ার্ড। দুই ক্লাবই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলবদলের খবর নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, পাঁচ বছরের চুক্তিতে অ্যানফিল্ডে এসেছেন তিনি। প্রাথমিকভাবে তাঁর জন্য লিভারপুলের খরচ হচ্ছে ১২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা। পারফরম্যান্সভিত্তিক বিভিন্ন শর্ত পূরণ হলে আরও ২ কোটি ইউরো পাওয়ার সুযোগ রয়েছে পিএসজির। সব শর্ত পূরণ হলে লিভারপুলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়দের তালিকায় ওপরের দিকেই জায়গা করে নেবেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

পিএসজিতে তিন মৌসুম কাটিয়ে এবার ইংলিশ ফুটবলে নতুন অধ্যায় শুরু করছেন বারকোলা। প্যারিসের ক্লাবটির হয়ে এরই মধ্যে সম্ভাব্য বড় প্রায় সব ট্রফির স্বাদ পেয়েছেন তিনি। তিনবার ফরাসি লিগ জয়ের পাশাপাশি দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ফ্রেঞ্চ কাপ জিতেছেন। পিএসজির জার্সিতে ১৫২ ম্যাচে তাঁর গোল ৩৯টি, সঙ্গে আছে ৩৭টি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ শুধু গোল করাই নয়, সতীর্থদের গোল করাতেও নিয়মিত অবদান রেখেছেন তিনি। এই পারফরম্যান্সই তাঁকে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজরে নিয়ে আসে এবং শেষ পর্যন্ত লিভারপুলের আক্রমণভাগে নতুন মুখ হিসেবে জায়গা করে দেয়।

গতি আর ক্ষিপ্রতার জন্য বারকোলার আলাদা পরিচিতি রয়েছে। হালকা গড়নের সঙ্গে দ্রুত দিক পরিবর্তন এবং বল নিয়ে ছুটে যাওয়ার ক্ষমতার কারণে তাঁকে ‘ঘাসফড়িং’ নামেও ডাকা হয়। সর্বশেষ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের আটটি ম্যাচেই মাঠে নেমেছিলেন তিনি এবং করেছিলেন তিন গোল। জাতীয় দলের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও নিজের জায়গা শক্ত করেছেন এই উইঙ্গার। পিএসজিতে থাকাকালীন তাঁর উন্নতির গতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বয়স কম হলেও বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা এখন তাঁর সম্পদ। লিভারপুলের মতো ক্লাবে এসে সেই অভিজ্ঞতাকে আরও বড় মঞ্চে কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

লিভারপুলে বারকোলার আসার পেছনে দলটির আক্রমণভাগের বর্তমান পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। মোহাম্মদ সালাহর বিদায়ের পর সামনের সারিতে নতুন সমন্বয় তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে হুগো একিতিকের দীর্ঘমেয়াদি চোট এবং কোডি গাকপেকে ঘিরে দলবদলের সম্ভাবনা থাকায় আক্রমণভাগে বাড়তি বিকল্প প্রয়োজন ছিল। বিভিন্ন পজিশনে খেলতে পারা বারকোলা সেই ঘাটতি পূরণ করতে পারেন। বাঁ প্রান্ত থেকে আক্রমণ তৈরির পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য জায়গাতেও খেলতে পারেন তিনি। ফলে তাঁর আগমন শুধু একজন তারকা ফরোয়ার্ড যোগ করা নয়, পুরো স্কোয়াডের আক্রমণভাগে গভীরতা বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ।

লিভারপুলের জার্সিতে বারকোলার নম্বরও ঠিক হয়ে গেছে। ২৯ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামবেন তিনি। নতুন ক্লাবে পা রেখেই নিজের লক্ষ্যও পরিষ্কার করে দিয়েছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। তাঁর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন এখন প্রিমিয়ার লিগ জেতা। লিভারপুলে খেলার সুযোগ পেয়ে নিজের আনন্দের কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই সুযোগ পেয়ে তিনি খুব খুশি এবং দলের হয়ে বড় কিছু অর্জন করতে চান। ইউরোপের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগে প্রথমবার নিয়মিত খেলার সুযোগ পেয়ে বারকোলা এখন নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করার অপেক্ষায়।

বারকোলার লিভারপুলে আসার গল্পের শুরু অবশ্য আরও কয়েক বছর আগে। ২০২৩ সালে প্রায় ৩ কোটি ৮৫ লাখ পাউন্ডের দলবদল ফিতে লিওঁ থেকে তাঁকে প্যারিসে নিয়েছিল পিএসজি। এবার সেই দলবদলের আর্থিক কাঠামোর একটি অংশও নতুন চুক্তিতে প্রভাব ফেলেছে। লিওঁকে দেওয়া পিএসজির নির্দিষ্ট ‘সলিডারিটি পেমেন্ট’ লিভারপুল বহন করতে রাজি হওয়ায় সেটিও বর্তমান দলবদল ফিতে যুক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে বারকোলাকে দলে নিয়েছে লিভারপুল। এখন সেই বিনিয়োগের প্রতিদান মাঠে দেওয়ার পালা। অ্যানফিল্ডে নতুন জার্সিতে তাঁর গতি, গোল ও সৃষ্টিশীলতা কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিই হবে আগামী মৌসুমের অন্যতম আকর্ষণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

বারকোলা: লিভারপুলে ফরাসি তারকার হাইভোল্টেজ আগমন

Update Time : ০৯:৩৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

বারকোলা এখন লিভারপুলের। কয়েক সপ্তাহের গুঞ্জনের পর অবশেষে পিএসজি ছেড়ে ইংলিশ ক্লাবটিতে যোগ দিলেন ফ্রান্সের এই তারকা ফরোয়ার্ড। দুই ক্লাবই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলবদলের খবর নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, পাঁচ বছরের চুক্তিতে অ্যানফিল্ডে এসেছেন তিনি। প্রাথমিকভাবে তাঁর জন্য লিভারপুলের খরচ হচ্ছে ১২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা। পারফরম্যান্সভিত্তিক বিভিন্ন শর্ত পূরণ হলে আরও ২ কোটি ইউরো পাওয়ার সুযোগ রয়েছে পিএসজির। সব শর্ত পূরণ হলে লিভারপুলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়দের তালিকায় ওপরের দিকেই জায়গা করে নেবেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

পিএসজিতে তিন মৌসুম কাটিয়ে এবার ইংলিশ ফুটবলে নতুন অধ্যায় শুরু করছেন বারকোলা। প্যারিসের ক্লাবটির হয়ে এরই মধ্যে সম্ভাব্য বড় প্রায় সব ট্রফির স্বাদ পেয়েছেন তিনি। তিনবার ফরাসি লিগ জয়ের পাশাপাশি দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ফ্রেঞ্চ কাপ জিতেছেন। পিএসজির জার্সিতে ১৫২ ম্যাচে তাঁর গোল ৩৯টি, সঙ্গে আছে ৩৭টি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ শুধু গোল করাই নয়, সতীর্থদের গোল করাতেও নিয়মিত অবদান রেখেছেন তিনি। এই পারফরম্যান্সই তাঁকে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজরে নিয়ে আসে এবং শেষ পর্যন্ত লিভারপুলের আক্রমণভাগে নতুন মুখ হিসেবে জায়গা করে দেয়।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে পস্তাতে হবে না: বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয় পর্বে যুক্তরাষ্ট্র

গতি আর ক্ষিপ্রতার জন্য বারকোলার আলাদা পরিচিতি রয়েছে। হালকা গড়নের সঙ্গে দ্রুত দিক পরিবর্তন এবং বল নিয়ে ছুটে যাওয়ার ক্ষমতার কারণে তাঁকে ‘ঘাসফড়িং’ নামেও ডাকা হয়। সর্বশেষ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের আটটি ম্যাচেই মাঠে নেমেছিলেন তিনি এবং করেছিলেন তিন গোল। জাতীয় দলের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও নিজের জায়গা শক্ত করেছেন এই উইঙ্গার। পিএসজিতে থাকাকালীন তাঁর উন্নতির গতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বয়স কম হলেও বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা এখন তাঁর সম্পদ। লিভারপুলের মতো ক্লাবে এসে সেই অভিজ্ঞতাকে আরও বড় মঞ্চে কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

আরও পড়ুন  হাসান মাহমুদের অবিশ্বাস্য কীর্তি, অস্ট্রেলিয়ায় গড়লেন ইতিহাস

লিভারপুলে বারকোলার আসার পেছনে দলটির আক্রমণভাগের বর্তমান পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। মোহাম্মদ সালাহর বিদায়ের পর সামনের সারিতে নতুন সমন্বয় তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে হুগো একিতিকের দীর্ঘমেয়াদি চোট এবং কোডি গাকপেকে ঘিরে দলবদলের সম্ভাবনা থাকায় আক্রমণভাগে বাড়তি বিকল্প প্রয়োজন ছিল। বিভিন্ন পজিশনে খেলতে পারা বারকোলা সেই ঘাটতি পূরণ করতে পারেন। বাঁ প্রান্ত থেকে আক্রমণ তৈরির পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য জায়গাতেও খেলতে পারেন তিনি। ফলে তাঁর আগমন শুধু একজন তারকা ফরোয়ার্ড যোগ করা নয়, পুরো স্কোয়াডের আক্রমণভাগে গভীরতা বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ।

লিভারপুলের জার্সিতে বারকোলার নম্বরও ঠিক হয়ে গেছে। ২৯ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামবেন তিনি। নতুন ক্লাবে পা রেখেই নিজের লক্ষ্যও পরিষ্কার করে দিয়েছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। তাঁর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন এখন প্রিমিয়ার লিগ জেতা। লিভারপুলে খেলার সুযোগ পেয়ে নিজের আনন্দের কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই সুযোগ পেয়ে তিনি খুব খুশি এবং দলের হয়ে বড় কিছু অর্জন করতে চান। ইউরোপের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগে প্রথমবার নিয়মিত খেলার সুযোগ পেয়ে বারকোলা এখন নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করার অপেক্ষায়।

আরও পড়ুন  দোষ কি গোলরক্ষকদের, নাকি বিশ্বকাপের নতুন বলের?

বারকোলার লিভারপুলে আসার গল্পের শুরু অবশ্য আরও কয়েক বছর আগে। ২০২৩ সালে প্রায় ৩ কোটি ৮৫ লাখ পাউন্ডের দলবদল ফিতে লিওঁ থেকে তাঁকে প্যারিসে নিয়েছিল পিএসজি। এবার সেই দলবদলের আর্থিক কাঠামোর একটি অংশও নতুন চুক্তিতে প্রভাব ফেলেছে। লিওঁকে দেওয়া পিএসজির নির্দিষ্ট ‘সলিডারিটি পেমেন্ট’ লিভারপুল বহন করতে রাজি হওয়ায় সেটিও বর্তমান দলবদল ফিতে যুক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে বারকোলাকে দলে নিয়েছে লিভারপুল। এখন সেই বিনিয়োগের প্রতিদান মাঠে দেওয়ার পালা। অ্যানফিল্ডে নতুন জার্সিতে তাঁর গতি, গোল ও সৃষ্টিশীলতা কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিই হবে আগামী মৌসুমের অন্যতম আকর্ষণ।