আলভারেজকে ঘিরে দলবদলের উত্তাপ থামলেও তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা এখনো থামেনি। বার্সেলোনায় যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আতলেতিকো মাদ্রিদেই থেকে যেতে হয়েছে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে। কাতালান ক্লাবের আগ্রহ, আলভারেজের নিজের ইচ্ছা—সব মিলিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউরোপীয় ফুটবলে আলোচনার বড় বিষয় ছিল এই দলবদল। শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা না হওয়ায় নতুন মৌসুমে আতলেতিকোর হয়েই তাঁকে পথ চলতে হচ্ছে। ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর চুক্তি ২০৩০ সাল পর্যন্ত।
এই পরিস্থিতিতে জাতীয় দলের সতীর্থ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু লাওতারো মার্তিনেজের কাছ থেকে এল গুরুত্বপূর্ণ সমর্থনের বার্তা। চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ইন্টার মিলানের অধিনায়ককে প্রশ্ন করা হয়েছিল আলভারেজকে নিয়ে। জবাবে মার্তিনেজ বুঝিয়ে দিয়েছেন, মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর ব্যক্তিগত বন্ধুত্বকে তিনি আলাদা করে দেখেন। আর্জেন্টিনা দলে দুজনই আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ফলে একাদশে জায়গা পাওয়ার লড়াই থাকলেও মাঠের বাইরে তাঁদের সম্পর্কটা একেবারেই অন্য রকম।
মার্তিনেজ জানিয়েছেন, আলভারেজ যখন এই কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। সরাসরি কথা বলার পাশাপাশি বার্তা পাঠিয়েও বন্ধুর পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। মার্তিনেজের ভাষায়, জাতীয় দলে একই পজিশনে খেলার কারণে তাঁদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা কেবল মাঠের ভেতরের। মাঠের বাইরে আলভারেজ তাঁর কাছে একজন বন্ধু, একজন সতীর্থ এবং এমন একজন মানুষ, যাঁর কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোটা স্বাভাবিক।
দলবদলের শেষ মুহূর্তের অনিশ্চয়তা একজন ফুটবলারের মানসিক অবস্থায় কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিও বুঝতে পারছেন মার্তিনেজ। তাঁর মতে, আলভারেজ যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা মোটেও সহজ নয়। নিজের পছন্দের ক্লাবে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত সেই দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে হতাশার। তবে ফুটবলে অনেক সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়ের হাতে থাকে না। ক্লাব, কর্তৃপক্ষ ও সভাপতির সিদ্ধান্তও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। তাই বন্ধুর জন্য আপাতত শুভকামনা জানানো ছাড়া তাঁর হাতে খুব বেশি কিছু নেই।
তবে হতাশার এই অধ্যায়কে ক্যারিয়ারের স্থায়ী গল্প বানাতে চান না মার্তিনেজ। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, আলভারেজ খুব দ্রুত এই মানসিক চাপ কাটিয়ে উঠবেন এবং মাঠেই নিজের উত্তর দেবেন। ইতিমধ্যেই চ্যাম্পিয়নস লিগে তাঁর পারফরম্যান্সের শক্ত প্রমাণ রয়েছে। UEFA-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম চার মৌসুমে প্রতিযোগিতাটিতে ৪২ ম্যাচে ২৫ গোল ও ৯টি অ্যাসিস্ট করেছেন আলভারেজ। আতলেতিকোর হয়ে গত মৌসুমেই চ্যাম্পিয়নস লিগে করেছেন ১০ গোল, যা ক্লাবটির হয়ে এক মৌসুমে নতুন রেকর্ড।
তাই বার্সেলোনায় যাওয়া হলো না—এই হতাশার মধ্যেই গল্প শেষ হয়ে যাচ্ছে না আলভারেজের। বরং এখন তাঁর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ, আতলেতিকোর জার্সিতে নিজের জায়গা আরও শক্ত করা এবং গোলেই নিজের জবাব দেওয়া। মার্তিনেজও সেটিই আশা করছেন। তাঁর বিশ্বাস, নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ আলভারেজ আগেও দিয়েছেন, ভবিষ্যতেও দেবেন। আর বন্ধুর কঠিন সময়ে এই সমর্থনের বার্তাই হয়তো তাঁকে নতুন করে মনোযোগ ফেরাতে সাহায্য করবে। আতলেতিকোর অফিসিয়াল প্রোফাইলেও আলভারেজকে দলের গুরুত্বপূর্ণ ফরোয়ার্ড হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।



























