ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর বেতন: বাড়ছে ৬৪ শতাংশ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:১৮:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫২৬

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ংয়ের বার্ষিক বেতন বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর বেতন এক লাফে প্রায় ৬৪ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ং বছরে প্রায় ২৮ লাখ মার্কিন ডলার পাবেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩৪ কোটি ৪০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের পার্লামেন্টে নতুন বেতন কাঠামোর ঘোষণা দেওয়া হয়।

বর্তমানে লরেন্স ওয়ং বছরে প্রায় ১৭ লাখ মার্কিন ডলার বেতন পান। নতুন কাঠামোতে তাঁর বার্ষিক বেতন প্যাকেজ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৩৬ লাখ সিঙ্গাপুরিয়ান ডলারে, যা প্রায় ২৮ লাখ মার্কিন ডলারের সমান। একই সঙ্গে দেশটির অন্যান্য মন্ত্রীদের বেতনও বাড়ানো হচ্ছে। তবে তাঁদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বৃদ্ধির হার ৯ শতাংশ।

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটিতে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই সিঙ্গাপুর বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া রাজনৈতিক নেতাদের অন্যতম দেশ হিসেবে পরিচিত। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দক্ষ ও মেধাবী ব্যক্তিদের সরকারি নেতৃত্বে আকৃষ্ট করতেই এই বেতন সমন্বয় করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ংও বলেছেন, বেসরকারি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পারিশ্রমিকের ব্যবধান বেড়েছে।

তবে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের সময়ে মন্ত্রীদের বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কাছে সহজে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইউজিন তান মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব আরও বাড়ার বার্তা দিতে পারে।

সরকার অবশ্য বেতন বৃদ্ধির পক্ষে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দক্ষ নেতৃত্ব ধরে রাখার যুক্তি তুলে ধরেছে। সিঙ্গাপুর দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, রাজনীতিবিদদের প্রতিযোগিতামূলক বেতন দেওয়ার মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে দক্ষ ব্যক্তিদের ধরে রাখা এবং দুর্নীতির ঝুঁকি কমানো সম্ভব। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৫ সালের দুর্নীতি ধারণা সূচকেও সিঙ্গাপুর বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে ছিল।

নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ওয়ং নিজেও বলেছেন, বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে কঠিন ও সংবেদনশীল। তবে তাঁর মতে, দেশের জন্য প্রয়োজনীয় মানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ধরে রাখতে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি আরও জানিয়েছেন, বেতন বৃদ্ধির ফলে আগামী পাঁচ বছরে তিনি যে অতিরিক্ত অর্থ পাবেন, তা দাতব্য কাজে দান করবেন। নতুন কাঠামোটি একটি স্বাধীন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে করা হয়েছে। কমিটি সিঙ্গাপুরের শীর্ষ এক হাজার আয়কারীর আয়কে বেতন নির্ধারণের একটি মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করেছে। তবে এই পদ্ধতি নিয়েও দেশটির কিছু বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর বেতন: বাড়ছে ৬৪ শতাংশ

Update Time : ০৯:১৮:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর বেতন এক লাফে প্রায় ৬৪ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ং বছরে প্রায় ২৮ লাখ মার্কিন ডলার পাবেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩৪ কোটি ৪০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের পার্লামেন্টে নতুন বেতন কাঠামোর ঘোষণা দেওয়া হয়।

বর্তমানে লরেন্স ওয়ং বছরে প্রায় ১৭ লাখ মার্কিন ডলার বেতন পান। নতুন কাঠামোতে তাঁর বার্ষিক বেতন প্যাকেজ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৩৬ লাখ সিঙ্গাপুরিয়ান ডলারে, যা প্রায় ২৮ লাখ মার্কিন ডলারের সমান। একই সঙ্গে দেশটির অন্যান্য মন্ত্রীদের বেতনও বাড়ানো হচ্ছে। তবে তাঁদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বৃদ্ধির হার ৯ শতাংশ।

আরও পড়ুন  বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে মৌলভীবাজারে বসুন্ধরা শুভসংঘের ফল উৎসব

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটিতে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই সিঙ্গাপুর বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া রাজনৈতিক নেতাদের অন্যতম দেশ হিসেবে পরিচিত। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দক্ষ ও মেধাবী ব্যক্তিদের সরকারি নেতৃত্বে আকৃষ্ট করতেই এই বেতন সমন্বয় করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ংও বলেছেন, বেসরকারি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পারিশ্রমিকের ব্যবধান বেড়েছে।

তবে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের সময়ে মন্ত্রীদের বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কাছে সহজে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইউজিন তান মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব আরও বাড়ার বার্তা দিতে পারে।

আরও পড়ুন  ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ৮ আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু

সরকার অবশ্য বেতন বৃদ্ধির পক্ষে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দক্ষ নেতৃত্ব ধরে রাখার যুক্তি তুলে ধরেছে। সিঙ্গাপুর দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, রাজনীতিবিদদের প্রতিযোগিতামূলক বেতন দেওয়ার মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে দক্ষ ব্যক্তিদের ধরে রাখা এবং দুর্নীতির ঝুঁকি কমানো সম্ভব। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৫ সালের দুর্নীতি ধারণা সূচকেও সিঙ্গাপুর বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে ছিল।

নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ওয়ং নিজেও বলেছেন, বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে কঠিন ও সংবেদনশীল। তবে তাঁর মতে, দেশের জন্য প্রয়োজনীয় মানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ধরে রাখতে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি আরও জানিয়েছেন, বেতন বৃদ্ধির ফলে আগামী পাঁচ বছরে তিনি যে অতিরিক্ত অর্থ পাবেন, তা দাতব্য কাজে দান করবেন। নতুন কাঠামোটি একটি স্বাধীন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে করা হয়েছে। কমিটি সিঙ্গাপুরের শীর্ষ এক হাজার আয়কারীর আয়কে বেতন নির্ধারণের একটি মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করেছে। তবে এই পদ্ধতি নিয়েও দেশটির কিছু বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলেছেন।

আরও পড়ুন  ইউক্রেনে সেনাবাহিনীতে বড় রদবদল, সেনাপ্রধানকে সরালেন জেলেনস্কি