ঢাকা ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ভাইভায় ১০-এর বদলে ৫০ নম্বর! সরকারি চাকরির নিয়োগে আসছে বড় পরিবর্তন? Logo ঢাকাসহ ১৫ জেলায় ডেঙ্গুর বড় ঝুঁকি: আগামী সপ্তাহেই পরিস্থিতি আরও খারাপের আশঙ্কা Logo নেতিবাচক চিন্তায় ডুবে আছেন? আজ থেকেই বদলে ফেলুন মনের ভাবনা Logo চাঁদ গবেষণায় নতুন AI মডেল আনল NASA-IBM, দ্রুত হবে তথ্য বিশ্লেষণ Logo একীভূত আয়ারল্যান্ড দেখতে চান ট্রাম্প, মন্তব্য ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া Logo ব্যাংক স্প্রেডে বড় চাপ, সীমার ওপরে ৫৫ ব্যাংক Logo প্রোটিন ও ফাইবারে ভরপুর পিনাট বাটার-বানানা স্মুদি Logo ডিটক্স পানি খেলেই কি শরীরের বিষ দূর হয়? জানুন আসল সত্য Logo দৌলতপুরে পানি বৃদ্ধি, নতুন এলাকা প্লাবিত | ভয়াবহ অবস্থা Logo ফ্রেশার নিয়োগে সিজিপিএ নয়, যে গুণগুলো খোঁজে প্রতিষ্ঠান

ঢাকাসহ ১৫ জেলায় ডেঙ্গুর বড় ঝুঁকি: আগামী সপ্তাহেই পরিস্থিতি আরও খারাপের আশঙ্কা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:০১:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১৬

ঢাকাসহ ১৫ জেলায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা।গ্রাফিটি মীরর বাংলা

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের বিশ্লেষণ বলছে, আগামী কয়েক সপ্তাহে ঢাকাসহ অন্তত ১৫ জেলায় ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ ও অক্টোবরের শুরুর দিকে পরিস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের সব ৬৪ জেলাতেই ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে।

ঝুঁকিতে থাকা ১৫ জেলা হলো ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, পিরোজপুর, নারায়ণগঞ্জ, ঝালকাঠি, কক্সবাজার, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা, বরিশাল, বরগুনা, বান্দরবান ও পটুয়াখালী। ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার বছরের ডেঙ্গুর তথ্য বিশ্লেষণ করে আইইডিসিআর এসব এলাকার ঝুঁকির চিত্র তুলে ধরেছে। এসব জেলায় আগামী সপ্তাহগুলোতে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে মশা নিয়ন্ত্রণ ও রোগী ব্যবস্থাপনায় বাড়তি প্রস্তুতির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাবে, ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৬১ জন। এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে মোট হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৮৩৭ জনে। আর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪৯ জন।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগেই সবচেয়ে বেশি ৬২৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। খুলনা বিভাগে ২৭৫ জন, বরিশালে ২০২ জন, চট্টগ্রামে ১৮১ জন, রাজশাহীতে ১০৪ জন এবং ময়মনসিংহে ৯৩ জন ভর্তি হয়েছেন। রংপুরে ৭৩ ও সিলেটে ৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কয়েক হাজার ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আইইডিসিআরের পরীক্ষায় এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত ৭১ জনের নমুনার মধ্যে ৯১ দশমিক ৫ শতাংশে ডেনভি-৩ শনাক্ত হয়েছে। বাকি ৮ দশমিক ৫ শতাংশ সংক্রমণের জন্য ডেনভি-২ দায়ী বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর একাধিক ধরন সক্রিয় থাকায় আগে আক্রান্ত ব্যক্তিও অন্য ধরনে আবার আক্রান্ত হতে পারেন। দ্বিতীয় বা পরবর্তী সংক্রমণের ক্ষেত্রে জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে দেশব্যাপী তিন মাসের ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে। ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই কর্মসূচি আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একযোগে এ কার্যক্রম চালানোর কথা রয়েছে।

এডিস মশা সাধারণত বাড়ির আশপাশের জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ছাদ, ড্রেন, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা অন্য কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা বা ডেঙ্গুর অন্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পরিস্থিতি খারাপ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করাই নিরাপদ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু মশা মারার অভিযান নয়, ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ের সচেতনতাও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ১৫ জেলার বাসিন্দাদের আগামী কয়েক সপ্তাহ বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। সরকারও সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের শুরুতে সংক্রমণের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সময় সামনে রেখে প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও দ্রুত চিকিৎসাই এখন ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাইভায় ১০-এর বদলে ৫০ নম্বর! সরকারি চাকরির নিয়োগে আসছে বড় পরিবর্তন?

ঢাকাসহ ১৫ জেলায় ডেঙ্গুর বড় ঝুঁকি: আগামী সপ্তাহেই পরিস্থিতি আরও খারাপের আশঙ্কা

Update Time : ১০:০১:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের বিশ্লেষণ বলছে, আগামী কয়েক সপ্তাহে ঢাকাসহ অন্তত ১৫ জেলায় ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ ও অক্টোবরের শুরুর দিকে পরিস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের সব ৬৪ জেলাতেই ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে।

ঝুঁকিতে থাকা ১৫ জেলা হলো ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, পিরোজপুর, নারায়ণগঞ্জ, ঝালকাঠি, কক্সবাজার, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা, বরিশাল, বরগুনা, বান্দরবান ও পটুয়াখালী। ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার বছরের ডেঙ্গুর তথ্য বিশ্লেষণ করে আইইডিসিআর এসব এলাকার ঝুঁকির চিত্র তুলে ধরেছে। এসব জেলায় আগামী সপ্তাহগুলোতে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে মশা নিয়ন্ত্রণ ও রোগী ব্যবস্থাপনায় বাড়তি প্রস্তুতির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন  চুল পাকার আসল কারণ কী? জানুন প্রতিরোধের উপায়

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাবে, ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৬১ জন। এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে মোট হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৮৩৭ জনে। আর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪৯ জন।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগেই সবচেয়ে বেশি ৬২৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। খুলনা বিভাগে ২৭৫ জন, বরিশালে ২০২ জন, চট্টগ্রামে ১৮১ জন, রাজশাহীতে ১০৪ জন এবং ময়মনসিংহে ৯৩ জন ভর্তি হয়েছেন। রংপুরে ৭৩ ও সিলেটে ৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কয়েক হাজার ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আরও পড়ুন  যে রোগে আনন্দ ছাড়াই হাসেন রোগী, রহস্যজনক সেই অসুখ কী?

আইইডিসিআরের পরীক্ষায় এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত ৭১ জনের নমুনার মধ্যে ৯১ দশমিক ৫ শতাংশে ডেনভি-৩ শনাক্ত হয়েছে। বাকি ৮ দশমিক ৫ শতাংশ সংক্রমণের জন্য ডেনভি-২ দায়ী বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর একাধিক ধরন সক্রিয় থাকায় আগে আক্রান্ত ব্যক্তিও অন্য ধরনে আবার আক্রান্ত হতে পারেন। দ্বিতীয় বা পরবর্তী সংক্রমণের ক্ষেত্রে জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে দেশব্যাপী তিন মাসের ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে। ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই কর্মসূচি আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একযোগে এ কার্যক্রম চালানোর কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন  ডিএনসিসির নতুন বাজেট, সড়ক-ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব

এডিস মশা সাধারণত বাড়ির আশপাশের জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ছাদ, ড্রেন, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা অন্য কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা বা ডেঙ্গুর অন্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পরিস্থিতি খারাপ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করাই নিরাপদ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু মশা মারার অভিযান নয়, ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ের সচেতনতাও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ১৫ জেলার বাসিন্দাদের আগামী কয়েক সপ্তাহ বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। সরকারও সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের শুরুতে সংক্রমণের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সময় সামনে রেখে প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও দ্রুত চিকিৎসাই এখন ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়।