দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩০ জনে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৪ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে এবং ৯৩০ জন মারা গেছেন হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টাতেই আরও আট শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে আবারও বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় অধিকাংশ টিকা ইতোমধ্যে ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট টিকাও ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দ্বিতীয় দফার বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু হবে। চলমান প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে নতুন ক্যাম্পেইনে ঠিক কোন বয়সের সব শিশুকে টিকা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে ১০ সেপ্টেম্বরের সরকারি ঘোষণায় আলাদা করে চূড়ান্ত বয়সসীমা উল্লেখ করা হয়নি। এর আগে এপ্রিল থেকে চালানো বিশেষ কর্মসূচিতে মূলত ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছিল। যারা নিয়মিত টিকা বা আগের বিশেষ কর্মসূচি থেকে বাদ পড়েছিল, তাদের সুরক্ষার আওতায় আনাই ছিল এর প্রধান লক্ষ্য। নতুন ক্যাম্পেইনের ক্ষেত্রেও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের চূড়ান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৭২ হাজার ৭২০ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ১২৪ জন। মার্চের মাঝামাঝি থেকে দেড় লাখের বেশি সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এর আগে ৫ এপ্রিল উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান শুরু হয়। পরে চারটি সিটি করপোরেশন এবং দেশজুড়ে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়। ওই পর্যায়ে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকার আওতায় আনা হয়েছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে প্রায় দুই কোটি শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় শুধু আগের বয়সসীমা ধরে কর্মসূচি চালালে সব ঝুঁকিপূর্ণ শিশুকে সুরক্ষা দেওয়া কঠিন হতে পারে। কয়েকজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ টিকাদানের বয়সসীমা ১৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও বয়সসীমা সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছিল। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অভিভাবকদের স্থানীয় টিকাকেন্দ্রের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।
বাংলাদেশের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে সাধারণত শিশুদের ৯ মাস বয়সে হাম-রুবেলার প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, হামের টিকা নিরাপদ ও কার্যকর এবং রোগটির গুরুতর জটিলতা ও মৃত্যু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যারা নিয়মিত টিকার কোনো ডোজ বাদ দিয়েছে, তাদের বিষয়ে দ্রুত স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ এবং কাশি, হাঁচি ও ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি এর পরিচিত উপসর্গ। শিশুর এসব লক্ষণ দেখা দিলে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রেখে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ২৫ সেপ্টেম্বরের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির কেন্দ্র ও বয়সসীমা সম্পর্কে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের ঘোষণার দিকে নজর রাখতে বলা হচ্ছে।




























