মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের অধীন দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ভাতা কমিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে বগুড়ায় বিক্ষোভ করেছেন প্রশিক্ষণার্থীরা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বগুড়া মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ বিক্ষোভ হয়। প্রশিক্ষণ শেষে নির্ধারিত ৫ হাজার ৯০০ টাকার বদলে ২ হাজার ৯৫০ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, কোর্স শুরুর সময় তাদের কাছ থেকে পুরো ভাতার ভাউচারে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভাতা দেওয়ার সময় জানানো হয়, নির্ধারিত অর্থের মাত্র ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে। বিষয়টি আগে জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এপ্রিল-জুন ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের বুধবার ভাতা দেওয়ার কথা ছিল। সকালে কেন্দ্রে গিয়ে অর্ধেক টাকা দেওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন তারা। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিক্ষোভ শুরু করেন প্রশিক্ষণার্থীরা। তাদের দাবি, তিন মাসের প্রশিক্ষণে যাতায়াত ভাতা হিসেবে প্রতিদিন ১০০ টাকা করে মোট ৫ হাজার ৯০০ টাকা পাওয়ার কথা।
প্রশিক্ষণার্থী আসিয়া অভিযোগ করেন, প্রশিক্ষণের শুরুতেই তাদের কাছ থেকে ১০০ শতাংশ ভাতার ভাউচারে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। পরে একটি চিঠির কথা জানানো হলেও সেটির কপি তাদের দেওয়া হয়নি। এ কারণে ভাতা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
প্রশিক্ষণে অনুপস্থিত ব্যক্তিদের উপস্থিত দেখানোরও অভিযোগ তুলেছেন আসিয়া। তার দাবি, অনুপস্থিত প্রশিক্ষণার্থীদের উপস্থিতি দেখাতে অন্যদের দিয়ে স্বাক্ষর করানো হতো। এমনকি অর্থের বিনিময়ে উপস্থিতির সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরেক প্রশিক্ষণার্থী জানান, প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করার কথা থাকলেও সব উপকরণ তারা পাননি। ফলে নিজেদের অর্থ খরচ করে অনুশীলনের সামগ্রী কিনতে হয়েছে। এর মধ্যে ভাতার পরিমাণও কমিয়ে দেওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান তিনি।
প্রশিক্ষণার্থীদের আরও অভিযোগ, ভাতা অর্ধেক দেওয়ার বিষয়টি আগে জানালে অনেকে প্রশিক্ষণে অংশ নিতেন না—এমন কথা তাদের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন। এ কারণেই বিষয়টি আগে জানানো হয়নি বলে তারা দাবি করেন।
তবে ভাতা কম দেওয়ার বিষয়ে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক তাঞ্জিমা আক্তার বলেন, গত অর্থবছরের শেষ ব্যাচগুলোর প্রশিক্ষণ ভাতা নিয়ে সরকারি নির্দেশনা আসে। সেখানে বরাদ্দের ৫০ শতাংশ অর্থ পরিশোধের কথা বলা হয়।
তিনি জানান, নির্দেশনা আসার আগেই প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে পুরো ভাতার ভাউচারে স্বাক্ষর নিয়ে ট্রেজারি অফিসে জমা দেওয়া হয়েছিল। পরে বিল ফেরত আসায় এবং জুন মাস শেষ হয়ে যাওয়ায় ওই অর্থ তামাদি হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে বর্তমান বাজেট থেকে ৫০ শতাংশ ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তাঞ্জিমা আক্তার বলেন, বাকি ৫০ শতাংশ অর্থের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রশিক্ষণার্থীদের বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা হবে। এদিকে পূর্ণ ভাতার ভাউচারে স্বাক্ষর নেওয়া, ভুয়া উপস্থিতি এবং প্রশিক্ষণ উপকরণ না পাওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধরা।



























