৯ শিক্ষার্থী আটক করে একটি গুদামে রাখার অভিযোগে বগুড়ার শেরপুরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মহিপুর কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর পাশের শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল এলাকার একটি মুরগির খামারের গুদামে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। সোমবারের এই ঘটনায় প্রায় আট ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করেন তাঁদের অভিভাবকেরা। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর জানা যায়, স্থানীয় কয়েকজন কিশোর শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় থেকে বাইরে নিয়ে যায়। তাঁদের মধ্যে একজন ১৭ বছর বয়সী কিশোর শিক্ষার্থীদের টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নেয় বলে অভিযোগ করেছেন এক শিক্ষার্থী। এরপর একটি ইজিবাইকে করে তাঁদের গ্রামের পশ্চিম দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আরও কয়েকজন যোগ দেয়। পরে শিক্ষার্থীদের শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল এলাকার একটি গুদামে নিয়ে শাটার বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে।
৯ শিক্ষার্থী আটক থাকার সময় তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। পঞ্চম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে গুদাম থেকে বের হতে সক্ষম হয়। পরে তারা একটি গাড়িতে করে মহিপুর বাজারে এসে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে অভিভাবকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গুদামে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিভাবকদের দাবি।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার সমাবেশে আটক হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে আটজন উপস্থিত ছিল। পরে চতুর্থ ঘণ্টার ক্লাসে তাঁদের না পেয়ে শিক্ষকরা খোঁজ শুরু করেন। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বইয়ের ব্যাগ পাওয়া গেলেও তাঁদের দেখা যায়নি। বিদ্যালয়ের আশপাশে খোঁজ করেও সন্ধান না পাওয়ায় বিকেল তিনটার দিকে অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো হয়। শিক্ষার্থীরা কীভাবে বিদ্যালয় থেকে বের হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকেরা।
৯ শিক্ষার্থী আটক হওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অন্তত ৫০ জন অভিভাবক। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যালয় চলাকালে শিক্ষার্থীরা কীভাবে স্কুলের বাইরে চলে গেল, সেটি শিক্ষকদের নজরে আসেনি। তাঁরা ঘটনার তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর সোমবার রাতেই শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন এক শিক্ষার্থীর বাবা। অভিযোগে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে বলে পুলিশ জানিয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে এমন ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত নজরদারির বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।





























