ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ঘিরে উত্তেজনা, মামদানির হুমকির পর কী হতে পারে Logo গাজার পুনর্গঠনে ২৪৫ কোটি ডলারের পরিকল্পনা ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদের Logo শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন আর নেই, ছয় দশকের সাহিত্যজীবনের অবসান Logo ৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ Logo মেকআপ ছাড়াই সাদিয়া আয়মানের মধ্যরাতের ছবি, সাত মাস পর কেন পোস্ট Logo কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়াতে পারে যেসব খাবার Logo আবার হঠাৎ বৃষ্টি নিয়ে বড় চমক, ২৮ বছর পর ফিরছে জনপ্রিয় গল্প Logo বৃহস্পতিবার স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ দেবেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী Logo ৭১১ কোটি রুপিতে পুরো আবাসিক টাওয়ার কিনলেন দীনেশ ঠক্কর Logo উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা বাড়ানোর সুপারিশ

২১ বছর পর বদলে গেল জুলিয়া হত্যা মামলার রায়, খালাস আমীর হোসেন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:৩৩:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫৩২

শিশু জুলিয়া হত্যা মামলায় আমীর হোসেনকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। | ছবি: সংগৃহীত

আমীর হোসেনকে খালাস দিয়ে চট্টগ্রামের শিশু জুলিয়া হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রায় দুই দশক পর মামলাটিতে নতুন মোড় এসেছে। পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেছেন, প্রকৃত আসামিকে শনাক্ত না করে পুলিশ আমীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছিল। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ আমীর হোসেনের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায় দেন। ওই রায়ে আমীর হোসেনকে খালাস দেওয়া হয়। পরে বুধবার মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। দীর্ঘ ২১ বছর পর মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সামনে এলো।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ১৬ মে হাটহাজারীর মেখল গ্রামে ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল শিশু জুলিয়া আক্তার। ওই বাড়িতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন আমীর হোসেন। অভিযোগ ছিল, তিনি জুলিয়াকে বাড়ির কাছের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যা করেন এবং মরদেহ খালে ফেলে দেন। পরে খালপাড় থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর জুলিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে আমীর হোসেনকে আসামি করে মামলা করা হয়। পুলিশি তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ২৫ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এরপর ২০০৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মামলার বিচার শুরু হয়। বিচারিক কার্যক্রমে মোট ১৯ জন সাক্ষ্য দেন। দীর্ঘ বিচার শেষে ২০১৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আমীর হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

ওই মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেন আমীর হোসেন। একই সঙ্গে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্সও হাইকোর্টে আসে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ তাকে খালাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালতের পর্যবেক্ষণে তদন্ত ও আসামি শনাক্তকরণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে।

আমীর হোসেনকে খালাস দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালতের বক্তব্যের কারণে মামলাটি আবারও আলোচনায় এসেছে। ২০০৫ সালে সংঘটিত শিশু জুলিয়া হত্যা মামলায় একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হলেও শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতে তা বহাল থাকেনি। ২১ বছর পর প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত তদন্তের প্রক্রিয়া এবং প্রকৃত আসামিকে শনাক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ঘিরে উত্তেজনা, মামদানির হুমকির পর কী হতে পারে

২১ বছর পর বদলে গেল জুলিয়া হত্যা মামলার রায়, খালাস আমীর হোসেন

Update Time : ০১:৩৩:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আমীর হোসেনকে খালাস দিয়ে চট্টগ্রামের শিশু জুলিয়া হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রায় দুই দশক পর মামলাটিতে নতুন মোড় এসেছে। পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেছেন, প্রকৃত আসামিকে শনাক্ত না করে পুলিশ আমীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছিল। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ আমীর হোসেনের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায় দেন। ওই রায়ে আমীর হোসেনকে খালাস দেওয়া হয়। পরে বুধবার মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। দীর্ঘ ২১ বছর পর মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সামনে এলো।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ১৬ মে হাটহাজারীর মেখল গ্রামে ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল শিশু জুলিয়া আক্তার। ওই বাড়িতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন আমীর হোসেন। অভিযোগ ছিল, তিনি জুলিয়াকে বাড়ির কাছের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যা করেন এবং মরদেহ খালে ফেলে দেন। পরে খালপাড় থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর জুলিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে আমীর হোসেনকে আসামি করে মামলা করা হয়। পুলিশি তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ২৫ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এরপর ২০০৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মামলার বিচার শুরু হয়। বিচারিক কার্যক্রমে মোট ১৯ জন সাক্ষ্য দেন। দীর্ঘ বিচার শেষে ২০১৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আমীর হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

ওই মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেন আমীর হোসেন। একই সঙ্গে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্সও হাইকোর্টে আসে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ তাকে খালাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালতের পর্যবেক্ষণে তদন্ত ও আসামি শনাক্তকরণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে।

আমীর হোসেনকে খালাস দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালতের বক্তব্যের কারণে মামলাটি আবারও আলোচনায় এসেছে। ২০০৫ সালে সংঘটিত শিশু জুলিয়া হত্যা মামলায় একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হলেও শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতে তা বহাল থাকেনি। ২১ বছর পর প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত তদন্তের প্রক্রিয়া এবং প্রকৃত আসামিকে শনাক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন।