ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ইউপি নির্বাচনের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত, হুমকি দিলে শাস্তি Logo আসিয়ান কাপের প্রতিপক্ষ নিয়ে হামজা বললেন, ‘কাউকে ভয় পেতে আসিনি’ Logo নার্সিং কর্মীদের পদোন্নতির প্রস্তুতি শুরু, কাগজ জমার শেষ সময় জানাল অধিদপ্তর Logo বখাটের হামলায় দাঁত ভেঙে হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে স্কুলছাত্রী Logo ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে আনচেলত্তির বড় বার্তা Logo হোয়াটসঅ্যাপে আসছে এআই এজেন্ট, করা যাবে যেসব কাজ Logo ব্যালন ডি’অর জিতলে আফ্রিকাকে কেন উৎসর্গ করবেন এমবাপ্পে? Logo ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা Logo মৈত্রেয়ী রামকৃষ্ণনের খোলামেলা কথা, হলিউডে দক্ষিণ এশীয়দের নতুন পথ Logo ইতিহাসে বার্সেলোনার সর্বোচ্চ আয়, ছাড়াল ১০০ কোটি ইউরো

মৈত্রেয়ী রামকৃষ্ণনের খোলামেলা কথা, হলিউডে দক্ষিণ এশীয়দের নতুন পথ

হলিউডে দক্ষিণ এশীয় শিল্পীদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে কথা বলেছেন মৈত্রেয়ী। | ছবি: সংগৃহীত

‘নেভার হ্যাভ আই এভার’ সিরিজের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া মৈত্রেয়ী রামকৃষ্ণন এবার হলিউডে দক্ষিণ এশীয় শিল্পীদের অবস্থান নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। ২৪ বছর বয়সী তামিল বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান এই অভিনেত্রী মনে করেন, সময়ের সঙ্গে হলিউডে দক্ষিণ এশীয়দের উপস্থিতি বদলেছে। নতুন প্রজন্ম এখন শুধু পর্দায় জায়গা পাওয়ার চেষ্টা করছে না, বরং নিজেদের গল্প ও পরিচয়ও তুলে ধরতে চাইছে।

মৈত্রেয়ী রামকৃষ্ণনের মতে, কয়েক বছর আগের তুলনায় হলিউডের সিনেমা ও টেলিভিশনে দক্ষিণ এশীয় চরিত্রের উপস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে। আগে অনেক সময় কোনো চরিত্রকে শুধু তার সংস্কৃতি বা জাতিগত পরিচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হতো। এখন চরিত্রের ব্যক্তিত্ব, স্বপ্ন, সম্পর্ক ও নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের দিকেও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার চোখে এই পরিবর্তন দক্ষিণ এশীয় শিল্পীদের জন্য নতুন ধরনের সুযোগ তৈরি করছে।

তবে এই পরিবর্তনের পথ সবসময় সহজ ছিল না বলেও মনে করেন মৈত্রেয়ী রামকৃষ্ণন। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে আগের প্রজন্মের শিল্পীদের সংগ্রামের কথাও। একসময় দক্ষিণ এশীয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বড় চরিত্র পাওয়া কঠিন ছিল। অনেকেই ছোট পার্শ্বচরিত্র কিংবা সীমিত সুযোগ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছেন। তাদের দীর্ঘদিনের কাজ ও উপস্থিতিই ধীরে ধীরে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বড় জায়গা তৈরি করেছে বলে মনে করেন তিনি।

‘নেভার হ্যাভ আই এভার’-এর সাফল্যের পর মৈত্রেয়ী রামকৃষ্ণন নিজেও তরুণ দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। তবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি দক্ষিণ এশীয় প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিকেও তিনি গুরুত্ব দেন। তার মতে, পর্দায় কোনো দক্ষিণ এশীয় চরিত্র দেখা গেলেই প্রতিনিধিত্বের কাজ শেষ হয়ে যায় না। চরিত্রটির মধ্যে যেন এই অঞ্চলের মানুষের বৈচিত্র্য, সংস্কৃতি ও বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার কিছুটা প্রতিফলন থাকে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

অভিনেত্রীর নতুন কাজ ‘বেস্ট অব দ্য বেস্ট’ নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ রয়েছে। নেটফ্লিক্সের এই সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজের কাজের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করছেন। একই সঙ্গে মৈত্রেয়ী রামকৃষ্ণন মনে করেন, দক্ষিণ এশীয় শিল্পীদের নিজেদের গল্প নিজেদের ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে বলার সুযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। শুধু অভিনয় নয়, গল্প তৈরির ক্ষেত্রেও তাদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সব মিলিয়ে মৈত্রেয়ী রামকৃষ্ণনের বক্তব্যে হলিউডে দক্ষিণ এশীয় প্রতিনিধিত্বের পরিবর্তনের পাশাপাশি সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোর কথাও উঠে এসেছে। তার কাছে লক্ষ্য শুধু পর্দায় উপস্থিত হওয়া নয়, বরং এমন গল্পের অংশ হওয়া যেখানে দক্ষিণ এশীয় মানুষের পরিচয় একমাত্র বিষয় হয়ে না থেকে তাদের ব্যক্তিত্ব ও বৈচিত্র্যও ফুটে ওঠে। তার এই ভাবনা নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য নিজেদের গল্প বলার জায়গা আরও বিস্তৃত করার আকাঙ্ক্ষার কথাই তুলে ধরে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউপি নির্বাচনের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত, হুমকি দিলে শাস্তি

মৈত্রেয়ী রামকৃষ্ণনের খোলামেলা কথা, হলিউডে দক্ষিণ এশীয়দের নতুন পথ

Update Time : ০৮:১৯:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘নেভার হ্যাভ আই এভার’ সিরিজের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া মৈত্রেয়ী রামকৃষ্ণন এবার হলিউডে দক্ষিণ এশীয় শিল্পীদের অবস্থান নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। ২৪ বছর বয়সী তামিল বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান এই অভিনেত্রী মনে করেন, সময়ের সঙ্গে হলিউডে দক্ষিণ এশীয়দের উপস্থিতি বদলেছে। নতুন প্রজন্ম এখন শুধু পর্দায় জায়গা পাওয়ার চেষ্টা করছে না, বরং নিজেদের গল্প ও পরিচয়ও তুলে ধরতে চাইছে।

মৈত্রেয়ী রামকৃষ্ণনের মতে, কয়েক বছর আগের তুলনায় হলিউডের সিনেমা ও টেলিভিশনে দক্ষিণ এশীয় চরিত্রের উপস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে। আগে অনেক সময় কোনো চরিত্রকে শুধু তার সংস্কৃতি বা জাতিগত পরিচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হতো। এখন চরিত্রের ব্যক্তিত্ব, স্বপ্ন, সম্পর্ক ও নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের দিকেও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার চোখে এই পরিবর্তন দক্ষিণ এশীয় শিল্পীদের জন্য নতুন ধরনের সুযোগ তৈরি করছে।

আরও পড়ুন  ছোট বাজেটের বড় বিস্ময়, ‘অবসেশন’ ভাঙছে একের পর এক রেকর্ড

তবে এই পরিবর্তনের পথ সবসময় সহজ ছিল না বলেও মনে করেন মৈত্রেয়ী রামকৃষ্ণন। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে আগের প্রজন্মের শিল্পীদের সংগ্রামের কথাও। একসময় দক্ষিণ এশীয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বড় চরিত্র পাওয়া কঠিন ছিল। অনেকেই ছোট পার্শ্বচরিত্র কিংবা সীমিত সুযোগ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছেন। তাদের দীর্ঘদিনের কাজ ও উপস্থিতিই ধীরে ধীরে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বড় জায়গা তৈরি করেছে বলে মনে করেন তিনি।

‘নেভার হ্যাভ আই এভার’-এর সাফল্যের পর মৈত্রেয়ী রামকৃষ্ণন নিজেও তরুণ দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। তবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি দক্ষিণ এশীয় প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিকেও তিনি গুরুত্ব দেন। তার মতে, পর্দায় কোনো দক্ষিণ এশীয় চরিত্র দেখা গেলেই প্রতিনিধিত্বের কাজ শেষ হয়ে যায় না। চরিত্রটির মধ্যে যেন এই অঞ্চলের মানুষের বৈচিত্র্য, সংস্কৃতি ও বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার কিছুটা প্রতিফলন থাকে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন  আনিয়া টেইলর-জয়: মেসির সঙ্গে দেখা করার অবিশ্বাস্য ইচ্ছার গল্প

অভিনেত্রীর নতুন কাজ ‘বেস্ট অব দ্য বেস্ট’ নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ রয়েছে। নেটফ্লিক্সের এই সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজের কাজের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করছেন। একই সঙ্গে মৈত্রেয়ী রামকৃষ্ণন মনে করেন, দক্ষিণ এশীয় শিল্পীদের নিজেদের গল্প নিজেদের ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে বলার সুযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। শুধু অভিনয় নয়, গল্প তৈরির ক্ষেত্রেও তাদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

আরও পড়ুন  মুক্তির প্রথম দিনেই ইতিহাস গড়ার পথে ‘স্পাইডার ম্যান ব্র্যান্ড নিউ ডে’!

সব মিলিয়ে মৈত্রেয়ী রামকৃষ্ণনের বক্তব্যে হলিউডে দক্ষিণ এশীয় প্রতিনিধিত্বের পরিবর্তনের পাশাপাশি সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোর কথাও উঠে এসেছে। তার কাছে লক্ষ্য শুধু পর্দায় উপস্থিত হওয়া নয়, বরং এমন গল্পের অংশ হওয়া যেখানে দক্ষিণ এশীয় মানুষের পরিচয় একমাত্র বিষয় হয়ে না থেকে তাদের ব্যক্তিত্ব ও বৈচিত্র্যও ফুটে ওঠে। তার এই ভাবনা নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য নিজেদের গল্প বলার জায়গা আরও বিস্তৃত করার আকাঙ্ক্ষার কথাই তুলে ধরে।