‘নেভার হ্যাভ আই এভার’ সিরিজের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া মৈত্রেয়ী রামকৃষ্ণন এবার হলিউডে দক্ষিণ এশীয় শিল্পীদের অবস্থান নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। ২৪ বছর বয়সী তামিল বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান এই অভিনেত্রী মনে করেন, সময়ের সঙ্গে হলিউডে দক্ষিণ এশীয়দের উপস্থিতি বদলেছে। নতুন প্রজন্ম এখন শুধু পর্দায় জায়গা পাওয়ার চেষ্টা করছে না, বরং নিজেদের গল্প ও পরিচয়ও তুলে ধরতে চাইছে।
মৈত্রেয়ী রামকৃষ্ণনের মতে, কয়েক বছর আগের তুলনায় হলিউডের সিনেমা ও টেলিভিশনে দক্ষিণ এশীয় চরিত্রের উপস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে। আগে অনেক সময় কোনো চরিত্রকে শুধু তার সংস্কৃতি বা জাতিগত পরিচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হতো। এখন চরিত্রের ব্যক্তিত্ব, স্বপ্ন, সম্পর্ক ও নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের দিকেও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার চোখে এই পরিবর্তন দক্ষিণ এশীয় শিল্পীদের জন্য নতুন ধরনের সুযোগ তৈরি করছে।
তবে এই পরিবর্তনের পথ সবসময় সহজ ছিল না বলেও মনে করেন মৈত্রেয়ী রামকৃষ্ণন। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে আগের প্রজন্মের শিল্পীদের সংগ্রামের কথাও। একসময় দক্ষিণ এশীয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বড় চরিত্র পাওয়া কঠিন ছিল। অনেকেই ছোট পার্শ্বচরিত্র কিংবা সীমিত সুযোগ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছেন। তাদের দীর্ঘদিনের কাজ ও উপস্থিতিই ধীরে ধীরে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বড় জায়গা তৈরি করেছে বলে মনে করেন তিনি।
‘নেভার হ্যাভ আই এভার’-এর সাফল্যের পর মৈত্রেয়ী রামকৃষ্ণন নিজেও তরুণ দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। তবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি দক্ষিণ এশীয় প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিকেও তিনি গুরুত্ব দেন। তার মতে, পর্দায় কোনো দক্ষিণ এশীয় চরিত্র দেখা গেলেই প্রতিনিধিত্বের কাজ শেষ হয়ে যায় না। চরিত্রটির মধ্যে যেন এই অঞ্চলের মানুষের বৈচিত্র্য, সংস্কৃতি ও বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার কিছুটা প্রতিফলন থাকে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
অভিনেত্রীর নতুন কাজ ‘বেস্ট অব দ্য বেস্ট’ নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ রয়েছে। নেটফ্লিক্সের এই সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজের কাজের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করছেন। একই সঙ্গে মৈত্রেয়ী রামকৃষ্ণন মনে করেন, দক্ষিণ এশীয় শিল্পীদের নিজেদের গল্প নিজেদের ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে বলার সুযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। শুধু অভিনয় নয়, গল্প তৈরির ক্ষেত্রেও তাদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সব মিলিয়ে মৈত্রেয়ী রামকৃষ্ণনের বক্তব্যে হলিউডে দক্ষিণ এশীয় প্রতিনিধিত্বের পরিবর্তনের পাশাপাশি সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোর কথাও উঠে এসেছে। তার কাছে লক্ষ্য শুধু পর্দায় উপস্থিত হওয়া নয়, বরং এমন গল্পের অংশ হওয়া যেখানে দক্ষিণ এশীয় মানুষের পরিচয় একমাত্র বিষয় হয়ে না থেকে তাদের ব্যক্তিত্ব ও বৈচিত্র্যও ফুটে ওঠে। তার এই ভাবনা নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য নিজেদের গল্প বলার জায়গা আরও বিস্তৃত করার আকাঙ্ক্ষার কথাই তুলে ধরে।




























