জাপানের পার্লামেন্ট ভবন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, এমপি। বৃহস্পতিবার জাপানের রাজধানী টোকিওর নাগাতাচো এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ন্যাশনাল ডায়েট বিল্ডিং পরিদর্শনের মাধ্যমে তিনি দেশটির সংসদীয় কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেন। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে ডা. শফিকুর রহমান জাপানের দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ ঘুরে দেখেন। জাপানের পার্লামেন্টের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাকে সংসদের ইতিহাস, আইন প্রণয়ন পদ্ধতি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। তিনি জানতে পারেন, কীভাবে জাপানের সংসদ দীর্ঘদিন ধরে একটি কার্যকর ও আধুনিক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে।
জাপানের পার্লামেন্ট ভবন ‘ন্যাশনাল ডায়েট বিল্ডিং’ নামে পরিচিত। এটি টোকিওর নাগাতাচো এলাকায় অবস্থিত এবং জাপানের জাতীয় আইনসভার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দেশটির সংসদ ব্যবস্থা দুইটি কক্ষ নিয়ে গঠিত। নিম্নকক্ষে ৪৬৫ জন এবং উচ্চকক্ষে ২৪৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। সব মিলিয়ে জাপানের পার্লামেন্টে বর্তমানে মোট ৭১৩ জন সদস্য রয়েছেন।
ডা. শফিকুর রহমানের এই সফরে তার সঙ্গে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, এমপি। সফরসঙ্গীরা জাপানের সংসদীয় কার্যক্রম, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।
পরিদর্শনের সময় জাপানের সংসদ ভবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঘুরে দেখানো হয়। সংসদের কার্যপ্রণালী, সদস্যদের দায়িত্ব এবং আইন প্রণয়নের ধাপগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। জাপানের সংসদীয় কাঠামো কীভাবে আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালিত হয়, সেটিও তুলে ধরা হয় প্রতিনিধিদলের সামনে।
সফর শেষে ডা. শফিকুর রহমান জাপানের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও শৃঙ্খলাবোধের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, উন্নত প্রশাসনিক কাঠামো ও জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থা একটি দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জাপানের সংসদীয় ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক পরিচালনা পদ্ধতি অন্যান্য দেশের জন্যও অনুসরণযোগ্য হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের আন্তর্জাতিক সফর রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর প্রশাসনিক কাঠামো ও সংসদীয় কার্যক্রম কাছ থেকে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জাপানের পার্লামেন্ট ভবন বিশ্বের অন্যতম পরিচিত আইনসভা ভবন হিসেবে বিবেচিত। ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি এটি জাপানের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিবছর দেশি-বিদেশি অসংখ্য প্রতিনিধি ও পর্যটক এই ভবন পরিদর্শন করেন। ডা. শফিকুর রহমানের সাম্প্রতিক এই সফরও রাজনৈতিক মহলে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।

























