ঢাকা ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু: ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে কিশোরের মর্মান্তিক পরিণতি

বিশ্বকাপের উচ্ছ্বাসে নেমে এলো শোক। ছবি: সংগৃহীত।

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু ঘটেছে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার এক কিশোরের। বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে প্রিয় দল ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার শিকার হয় ফয়সাল হোসেন (১৭)। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার ভাটবাউর এলাকায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে।

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু হওয়া ফয়সাল হোসেন সদর উপজেলার ছোট ভাটবাউর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা মুন্নু মিয়া। জীবিকার তাগিদে ফয়সাল স্থানীয় একটি ফিলিং স্টেশনে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সহকর্মীদের কাছেও তিনি ছিলেন পরিচিত ও পরিশ্রমী একজন তরুণ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলের দিকে কর্মস্থলে ব্রাজিলের পতাকা টাঙানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ফয়সাল। পতাকাটি উঁচু স্থানে স্থাপন করার জন্য তিনি একটি আমগাছে ওঠেন। তবে গাছটির খুব কাছ দিয়েই চলে গেছে ৩৩ কেভি ক্ষমতার বৈদ্যুতিক লাইন। অসাবধানতাবশত ওই লাইনের সংস্পর্শে চলে গেলে তিনি গুরুতর আহত হন।

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু এড়াতে আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, উচ্চক্ষমতার বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হওয়ায় ঘটনাস্থলেই তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে।

ফয়সালের স্বজনরা জানান, তিনি ছোটবেলা থেকেই ফুটবলপ্রেমী ছিলেন এবং ব্রাজিল দলের একজন নিবেদিত সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আসন্ন বিশ্বকাপ উপলক্ষে কর্মস্থলে নিজের পছন্দের দলের পতাকা উড়ানোর ইচ্ছা থেকেই তিনি গাছে উঠেছিলেন। কিন্তু আনন্দের সেই মুহূর্তই শেষ পর্যন্ত পরিবারের জন্য গভীর শোকে পরিণত হয়।

নিহতের মামা বাদল হোসেন বলেন, ফয়সাল অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল। ব্রাজিলের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল অনেক বেশি। বিশ্বকাপ উপলক্ষে পতাকা টাঙাতে গিয়ে এমন দুর্ঘটনা ঘটবে, তা কেউ কল্পনাও করেনি। পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় আবেদন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বিদ্যুতের উচ্চক্ষমতার লাইনের আশপাশে কাজ করার ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাবই এমন দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে উৎসব বা খেলাধুলার উন্মাদনায় পতাকা টাঙানোর সময় নিরাপত্তা বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মান্নান জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ফুটবলে পছন্দের দলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে কিশোরটি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে বিদ্যুৎ লাইনের আশপাশে যেকোনো কাজ করার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান।

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু সংক্রান্ত এ ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে। ফুটবলপ্রেম ও উৎসাহ অবশ্যই ইতিবাচক, তবে নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বদা অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চক্ষমতার বৈদ্যুতিক লাইনের কাছাকাছি পতাকা, ব্যানার বা অন্য কোনো বস্তু স্থাপনের আগে প্রয়োজনীয় দূরত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সকালের নাস্তায় ৭ ভুল! বাড়তে পারে কোলেস্টেরলের ঝুঁকি

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু: ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে কিশোরের মর্মান্তিক পরিণতি

Update Time : ১২:৫০:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু ঘটেছে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার এক কিশোরের। বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে প্রিয় দল ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার শিকার হয় ফয়সাল হোসেন (১৭)। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার ভাটবাউর এলাকায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে।

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু হওয়া ফয়সাল হোসেন সদর উপজেলার ছোট ভাটবাউর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা মুন্নু মিয়া। জীবিকার তাগিদে ফয়সাল স্থানীয় একটি ফিলিং স্টেশনে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সহকর্মীদের কাছেও তিনি ছিলেন পরিচিত ও পরিশ্রমী একজন তরুণ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলের দিকে কর্মস্থলে ব্রাজিলের পতাকা টাঙানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ফয়সাল। পতাকাটি উঁচু স্থানে স্থাপন করার জন্য তিনি একটি আমগাছে ওঠেন। তবে গাছটির খুব কাছ দিয়েই চলে গেছে ৩৩ কেভি ক্ষমতার বৈদ্যুতিক লাইন। অসাবধানতাবশত ওই লাইনের সংস্পর্শে চলে গেলে তিনি গুরুতর আহত হন।

আরও পড়ুন  মানিকগঞ্জে ৩ হাজারের বেশি চারা বিতরণ করলেন এমপি জিন্নাহ কবির

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু এড়াতে আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, উচ্চক্ষমতার বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হওয়ায় ঘটনাস্থলেই তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে।

ফয়সালের স্বজনরা জানান, তিনি ছোটবেলা থেকেই ফুটবলপ্রেমী ছিলেন এবং ব্রাজিল দলের একজন নিবেদিত সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আসন্ন বিশ্বকাপ উপলক্ষে কর্মস্থলে নিজের পছন্দের দলের পতাকা উড়ানোর ইচ্ছা থেকেই তিনি গাছে উঠেছিলেন। কিন্তু আনন্দের সেই মুহূর্তই শেষ পর্যন্ত পরিবারের জন্য গভীর শোকে পরিণত হয়।

আরও পড়ুন  হিলসবরো ট্র্যাজেডি: এক ভুল সিদ্ধান্তে ৯৭ সমর্থকের মৃত্যু, যা এখনো কাঁদায় ফুটবল বিশ্ব

নিহতের মামা বাদল হোসেন বলেন, ফয়সাল অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল। ব্রাজিলের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল অনেক বেশি। বিশ্বকাপ উপলক্ষে পতাকা টাঙাতে গিয়ে এমন দুর্ঘটনা ঘটবে, তা কেউ কল্পনাও করেনি। পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় আবেদন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বিদ্যুতের উচ্চক্ষমতার লাইনের আশপাশে কাজ করার ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাবই এমন দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে উৎসব বা খেলাধুলার উন্মাদনায় পতাকা টাঙানোর সময় নিরাপত্তা বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন  কবুল বলা ছাড়াও যেসব শব্দে বিয়ে হয়ে যায় ,ইসলামে বিয়ের ইজাব-কবুলের বিধান

সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মান্নান জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ফুটবলে পছন্দের দলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে কিশোরটি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে বিদ্যুৎ লাইনের আশপাশে যেকোনো কাজ করার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান।

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু সংক্রান্ত এ ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে। ফুটবলপ্রেম ও উৎসাহ অবশ্যই ইতিবাচক, তবে নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বদা অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চক্ষমতার বৈদ্যুতিক লাইনের কাছাকাছি পতাকা, ব্যানার বা অন্য কোনো বস্তু স্থাপনের আগে প্রয়োজনীয় দূরত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।