ঢাকা ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গাজী সালাউদ্দিন অব্যাহতি: চমকপ্রদ সিদ্ধান্তে আবারও কড়া পদক্ষেপ এনসিপির Logo গুরুত্বপূর্ণ বার্তা: জনগণের বিভাজন চক্রান্ত ঠেকাতে তথ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঢাকা পরিদর্শন: নগর তদারকির ৭ গুরুত্বপূর্ণ দিক Logo গরম পানি কি সর্দি-কাশি সারায়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা Logo শিক্ষিকার নামের বানান ভুল করায় শিক্ষার্থীকে ৩০০ বার লেখার শাস্তি Logo জুলাই শহীদ রিতার কবর জিয়ারত করলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী Logo নিজে গাড়ি চালিয়ে ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী Logo আর্জেন্টাইন গোলরক্ষককে দলে ভেড়াতে চাচ্ছে ম্যানসিটি Logo ভিন্নমতকে যখন হুমকি মনে করা হয় : পাকিস্তানের ইতিহাস দক্ষিণ এশিয়ার জন্য শিক্ষণীয় Logo নরসিংদীতে লটকনের বাম্পার ফলন, ১৪৬ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা

থানায় প্রতি মাসে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে মাদক ব্যবসা করি

অভিযানে উদ্ধার করা হয় ইয়াবা ও নগদ অর্থ। ছবি: সংগৃহীত

মাদক ব্যবসা নিয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগ থাকলেও সম্প্রতি এক নারী কারবারির প্রকাশ্য মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়া স্থানীয়দের সঙ্গে কথোপকথনের সময় ওই নারী এমন কিছু দাবি করেন, যা দ্রুতই জনমনে কৌতূহল ও বিতর্কের সৃষ্টি করে।

জানা গেছে, সম্প্রতি কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্যোগী হন। তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি একত্রিত হয়ে মাদকবিরোধী কার্যক্রম শুরু করেন। এর অংশ হিসেবে তারা চিহ্নিত কয়েকটি স্থানে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাদক বিক্রি বন্ধ করার আহ্বান জানান। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এমনই এক অভিযানে নদীপাড়া এলাকায় গেলে এক নারী কারবারির সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কথোপকথনের একপর্যায়ে ওই নারী প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এ সময় উপস্থিত অনেকেই বিষয়টি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন এবং ঘটনাটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে এলে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা পৌঁছান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির সন্দেহভাজন নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ওই নারী এবং তার ছেলেকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া আলামত যাচাই-বাছাই শেষে মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। আদালতে হাজির করার পর আটক দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। ঘটনার পর এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কালীগঞ্জের কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ মানুষ নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। তারা মনে করেন, প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া মাদকের বিস্তার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

এদিকে সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো পুলিশ সদস্য মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বা আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন—এমন অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা আরও জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান সবসময় কঠোর এবং এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা চলছে। অনেকেই মাদকবিরোধী অভিযানে স্থানীয় জনগণের ভূমিকার প্রশংসা করছেন। আবার কেউ কেউ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, তদন্ত শেষ হওয়ার পরই পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মাদক শুধু একজন ব্যক্তি বা একটি পরিবারের সমস্যা নয়; এটি পুরো সমাজের জন্য হুমকি। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কালীগঞ্জের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে, সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণ মাদকবিরোধী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গাজী সালাউদ্দিন অব্যাহতি: চমকপ্রদ সিদ্ধান্তে আবারও কড়া পদক্ষেপ এনসিপির

থানায় প্রতি মাসে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে মাদক ব্যবসা করি

Update Time : ০৫:০৮:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

মাদক ব্যবসা নিয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগ থাকলেও সম্প্রতি এক নারী কারবারির প্রকাশ্য মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়া স্থানীয়দের সঙ্গে কথোপকথনের সময় ওই নারী এমন কিছু দাবি করেন, যা দ্রুতই জনমনে কৌতূহল ও বিতর্কের সৃষ্টি করে।

জানা গেছে, সম্প্রতি কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্যোগী হন। তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি একত্রিত হয়ে মাদকবিরোধী কার্যক্রম শুরু করেন। এর অংশ হিসেবে তারা চিহ্নিত কয়েকটি স্থানে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাদক বিক্রি বন্ধ করার আহ্বান জানান। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এমনই এক অভিযানে নদীপাড়া এলাকায় গেলে এক নারী কারবারির সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

আরও পড়ুন  ছাত্রদলের মামলায় ইমাম তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

স্থানীয়দের অভিযোগ, কথোপকথনের একপর্যায়ে ওই নারী প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এ সময় উপস্থিত অনেকেই বিষয়টি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন এবং ঘটনাটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে এলে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা পৌঁছান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির সন্দেহভাজন নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ওই নারী এবং তার ছেলেকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া আলামত যাচাই-বাছাই শেষে মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। আদালতে হাজির করার পর আটক দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। ঘটনার পর এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে।

আরও পড়ুন  পদ্মা রেলসেতুর নিচ থেকে মাটি কেটে নেওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন সেতুমন্ত্রী

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কালীগঞ্জের কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ মানুষ নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। তারা মনে করেন, প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া মাদকের বিস্তার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

এদিকে সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো পুলিশ সদস্য মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বা আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন—এমন অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা আরও জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান সবসময় কঠোর এবং এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে।

আরও পড়ুন  দীর্ঘ ও আঞ্চলিক রুটে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে বিমান বোয়িং চুক্তি

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা চলছে। অনেকেই মাদকবিরোধী অভিযানে স্থানীয় জনগণের ভূমিকার প্রশংসা করছেন। আবার কেউ কেউ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, তদন্ত শেষ হওয়ার পরই পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মাদক শুধু একজন ব্যক্তি বা একটি পরিবারের সমস্যা নয়; এটি পুরো সমাজের জন্য হুমকি। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কালীগঞ্জের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে, সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণ মাদকবিরোধী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।