ঢাকা ০৭:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসল আম কিনুন আম ক্যালেন্ডার মেনে

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:৫৪:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • ৫০৫

বাজার থেকে নিরাপদ ও প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম কিনতে আম ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা জরুরি। । ছবি: সংগৃহীত

আসল আম কেনার উপায় জানা থাকলে বাজারে ভেজাল, কেমিক্যালে পাকানো কিংবা অপরিপক্ব আম কেনার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। গ্রীষ্মকাল এলেই দেশের বাজারগুলোতে বিভিন্ন জাতের আমের সমাহার দেখা যায়। তবে বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে আম কিনলে অনেক সময় প্রতারিত হতে হয়। তাই ভালো ও নিরাপদ আম চেনার কিছু সহজ কৌশল জানা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আম কেনার সময় প্রথমেই বোঁটার কাছে ঘ্রাণ নেওয়া উচিত। প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমে মিষ্টি ও মনোরম সুবাস থাকে। অন্যদিকে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমে অনেক সময় স্বাভাবিক গন্ধ পাওয়া যায় না। এছাড়া আমের খোসা অতিরিক্ত চকচকে ও নিখুঁত হলুদ হলে সতর্ক থাকতে হবে। গাছপাকা আমের গায়ে ছোটখাটো কালো বা বাদামি দাগ থাকা স্বাভাবিক।

আমের গায়ে হালকা চাপ দিলে যদি সবদিকে সমানভাবে নরম অনুভূত হয়, তাহলে সেটি সাধারণত স্বাভাবিকভাবে পাকা আম। তবে কোনো অংশ বেশি শক্ত বা অতিরিক্ত নরম হলে সেই আম না কেনাই ভালো। শুধু রং দেখে আমের পাকা–কাঁচা বিচার করাও ঠিক নয়। কারণ ল্যাংড়া ও আম্রপালির মতো অনেক জনপ্রিয় জাত পাকার পরও সবুজ রং ধরে রাখে।

বিভিন্ন জাতের আমের ক্ষেত্রে আলাদা বৈশিষ্ট্যও খেয়াল রাখতে হয়। হাঁড়িভাঙা আম কিছুটা শক্ত অবস্থায় কিনলে ভালো স্বাদ পাওয়া যায়। ল্যাংড়া আমের বোঁটার অংশে সুবাস থাকলে সেটি পাকা হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। হিমসাগর বা ক্ষীরসাপাতি আমের গায়ে ছোট ছোট বাদামি ছোপ থাকলে সেটি প্রাকৃতিকভাবে পাকার লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।

কেমিক্যালে পাকানো আম শনাক্ত করার আরেকটি উপায় হলো রঙের সামঞ্জস্য পর্যবেক্ষণ করা। যদি সব আম একই রকম উজ্জ্বল হলুদ দেখায়, তাহলে সন্দেহের কারণ থাকতে পারে। প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমে সাধারণত রঙের কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়। অনেকেই পানির পরীক্ষাও করে থাকেন। সাধারণত পরিপক্ব ও রসালো আম পানিতে ডুবে যায়, আর অপরিপক্ব আম ভেসে থাকতে পারে।

নিরাপদ আম কেনার ক্ষেত্রে আম ক্যালেন্ডার অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের আগে বাজারে আসা আম অনেক ক্ষেত্রে অপরিপক্ব অবস্থায় সংগ্রহ করা হয়। গোপালভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলি কিংবা হাঁড়িভাঙা প্রতিটি জাতের আমের বাজারে আসার নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। তাই আম কেনার আগে বিক্রেতার কাছে আমের উৎপাদন এলাকা ও সংগ্রহের সময় সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাড়াহুড়া না করে সঠিক সময়ে সঠিক জাতের আম কিনলে স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা—সবই নিশ্চিত করা সম্ভব। তাই পরিবারের জন্য নিরাপদ ও সুস্বাদু আম কিনতে হলে আম ক্যালেন্ডার মেনে সচেতনভাবে বাজার করা উচিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

আসল আম কিনুন আম ক্যালেন্ডার মেনে

Update Time : ০৩:৫৪:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

আসল আম কেনার উপায় জানা থাকলে বাজারে ভেজাল, কেমিক্যালে পাকানো কিংবা অপরিপক্ব আম কেনার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। গ্রীষ্মকাল এলেই দেশের বাজারগুলোতে বিভিন্ন জাতের আমের সমাহার দেখা যায়। তবে বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে আম কিনলে অনেক সময় প্রতারিত হতে হয়। তাই ভালো ও নিরাপদ আম চেনার কিছু সহজ কৌশল জানা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আম কেনার সময় প্রথমেই বোঁটার কাছে ঘ্রাণ নেওয়া উচিত। প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমে মিষ্টি ও মনোরম সুবাস থাকে। অন্যদিকে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমে অনেক সময় স্বাভাবিক গন্ধ পাওয়া যায় না। এছাড়া আমের খোসা অতিরিক্ত চকচকে ও নিখুঁত হলুদ হলে সতর্ক থাকতে হবে। গাছপাকা আমের গায়ে ছোটখাটো কালো বা বাদামি দাগ থাকা স্বাভাবিক।

আরও পড়ুন  চৈত্রসংক্রান্তি: গ্রামীণ ঐতিহ্য থেকে ডিজিটাল যুগে নতুন রূপ

আমের গায়ে হালকা চাপ দিলে যদি সবদিকে সমানভাবে নরম অনুভূত হয়, তাহলে সেটি সাধারণত স্বাভাবিকভাবে পাকা আম। তবে কোনো অংশ বেশি শক্ত বা অতিরিক্ত নরম হলে সেই আম না কেনাই ভালো। শুধু রং দেখে আমের পাকা–কাঁচা বিচার করাও ঠিক নয়। কারণ ল্যাংড়া ও আম্রপালির মতো অনেক জনপ্রিয় জাত পাকার পরও সবুজ রং ধরে রাখে।

বিভিন্ন জাতের আমের ক্ষেত্রে আলাদা বৈশিষ্ট্যও খেয়াল রাখতে হয়। হাঁড়িভাঙা আম কিছুটা শক্ত অবস্থায় কিনলে ভালো স্বাদ পাওয়া যায়। ল্যাংড়া আমের বোঁটার অংশে সুবাস থাকলে সেটি পাকা হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। হিমসাগর বা ক্ষীরসাপাতি আমের গায়ে ছোট ছোট বাদামি ছোপ থাকলে সেটি প্রাকৃতিকভাবে পাকার লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।

আরও পড়ুন  পর্যাপ্ত ঘুম ও পুষ্টি: সুস্থ জীবনের ভারসাম্য

কেমিক্যালে পাকানো আম শনাক্ত করার আরেকটি উপায় হলো রঙের সামঞ্জস্য পর্যবেক্ষণ করা। যদি সব আম একই রকম উজ্জ্বল হলুদ দেখায়, তাহলে সন্দেহের কারণ থাকতে পারে। প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমে সাধারণত রঙের কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়। অনেকেই পানির পরীক্ষাও করে থাকেন। সাধারণত পরিপক্ব ও রসালো আম পানিতে ডুবে যায়, আর অপরিপক্ব আম ভেসে থাকতে পারে।

নিরাপদ আম কেনার ক্ষেত্রে আম ক্যালেন্ডার অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের আগে বাজারে আসা আম অনেক ক্ষেত্রে অপরিপক্ব অবস্থায় সংগ্রহ করা হয়। গোপালভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলি কিংবা হাঁড়িভাঙা প্রতিটি জাতের আমের বাজারে আসার নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। তাই আম কেনার আগে বিক্রেতার কাছে আমের উৎপাদন এলাকা ও সংগ্রহের সময় সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো।

আরও পড়ুন  কোরবানির মাংস সংরক্ষণের ৮ কার্যকর উপায়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাড়াহুড়া না করে সঠিক সময়ে সঠিক জাতের আম কিনলে স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা—সবই নিশ্চিত করা সম্ভব। তাই পরিবারের জন্য নিরাপদ ও সুস্বাদু আম কিনতে হলে আম ক্যালেন্ডার মেনে সচেতনভাবে বাজার করা উচিত।