ঢাকা ০৯:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাত্র ৭ দিনে মনোযোগ বাড়াবেন যেভাবে, জানুন সহজ কৌশল Logo দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এমপি জসীমের নেতৃত্বে চন্দনাইশে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ Logo নতুন উপজেলায় সাতকানিয়ার ৬ ইউনিয়নের সাথে দোহাজারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে: এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদ Logo চন্দনাইশে গাছবাড়ীয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বাস উপহারের ঘোষণা এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদের Logo ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন পেল বিকাশ-রবিসহ চার প্রতিষ্ঠান Logo সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে ঘুষ, আদালতে দুই কর্মচারীর জবানবন্দি Logo মরিয়মের মৃত্যু মামলায় গাজী নজরুল ফের ৪ দিনের রিমান্ডে Logo থানার দরজা ভেঙে পালাল কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্য Logo নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ঘিরে উত্তেজনা, মামদানির হুমকির পর কী হতে পারে Logo গাজার পুনর্গঠনে ২৪৫ কোটি ডলারের পরিকল্পনা ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদের

বরিশালে আট মাসে নতুন ৩০ জন এইচআইভি আক্রান্ত শনাক্ত

বরিশালে আট মাসে ৩০ জন নতুন এইচআইভি আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করেছে।ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল বিভাগে গত আট মাসে নতুন করে ৩০ জন এইচআইভি (HIV) আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আক্রান্তদের মধ্যে বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, সময়মতো শনাক্তকরণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও স্ক্রিনিং কার্যক্রমের মাধ্যমে এই রোগীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেই প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা গ্রহণ শুরু করেছেন। তবে এখনও অনেকে চিকিৎসার বাইরে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এইচআইভি (Human Immunodeficiency Virus) একটি ভাইরাস, যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেয়। চিকিৎসা না নিলে এটি পরবর্তীতে এইডস (AIDS)-এ রূপ নিতে পারে, যা জীবনঘাতী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রোগ সম্পর্কে সমাজে এখনও অনেক ভুল ধারণা ও অজ্ঞতা রয়েছে। ফলে অনেক মানুষ সময়মতো পরীক্ষা করাতে আগ্রহী হন না, যা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ৩০ জন নতুন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে কিছু রোগী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় ধরা পড়েছেন, আবার কেউ কেউ উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসার পর শনাক্ত হয়েছেন।

চিকিৎসকদের মতে, এটি শুধুমাত্র শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা; প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই বর্তমানে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাদের নিয়মিত চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং দেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন। বর্তমানে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (ART) চিকিৎসা এই রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, এইচআইভি মূলত কয়েকটি নির্দিষ্ট উপায়ে ছড়ায়—

  • নিরাপদ নয় এমন যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে
  • সংক্রমিত রক্ত গ্রহণের মাধ্যমে
  • একাধিক ব্যক্তি দ্বারা ব্যবহৃত ইনজেকশন বা সিরিঞ্জ ব্যবহার করলে
  • সংক্রমিত মায়ের কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে জন্মের সময় বা স্তন্যদানের মাধ্যমে

তবে সাধারণ সামাজিক মেলামেশা, হাত মেলানো, একই থালা বা পানি ব্যবহার করলে এই রোগ ছড়ায় না।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, নতুন আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক না হলেও এটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা উচিত। তিনি বলেন, “আমরা নিয়মিত স্ক্রিনিং বাড়াচ্ছি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করছি।”

তিনি আরও জানান, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এখন অত্যন্ত জরুরি।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এদের মধ্যে রয়েছেন—

  • অনিরাপদ রক্ত গ্রহণকারী
  • মাদকাসক্ত ইনজেকশন ব্যবহারকারী
  • ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণে জড়িত ব্যক্তি
  • দীর্ঘদিন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করা মানুষ

এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষা ও কাউন্সেলিং কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইচআইভি নিয়ে সমাজে এখনও বড় ধরনের সামাজিক কলঙ্ক (stigma) রয়েছে। অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি লজ্জা ও ভয় থেকে চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। এতে রোগটি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

মানবাধিকারকর্মীরা মনে করেন, আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের সামাজিকভাবে বঞ্চিত না করে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া উচিত।

বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে—

  • স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম
  • গণমাধ্যমে প্রচারণা
  • ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ফ্রি টেস্টিং ক্যাম্প
  • কমিউনিটি ভিত্তিক কাউন্সেলিং সেশন

এছাড়া স্থানীয় এনজিওগুলোও এই বিষয়ে কাজ করছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সচেতনতা ও প্রতিরোধ। তারা বলেন, “প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। তাই নিয়মিত পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি।”

তাদের মতে, যৌন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানো গেলে নতুন সংক্রমণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

বর্তমানে এইচআইভি চিকিৎসা অনেক উন্নত হয়েছে। নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে রোগীরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। বাংলাদেশেও সরকারিভাবে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, রোগীরা যদি নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করেন, তাহলে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজের সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় পারিবারিক সহযোগিতা না থাকায় রোগীরা চিকিৎসা থেকে দূরে সরে যান।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, “সমর্থনমূলক পরিবেশ তৈরি করতে পারলে রোগীর মানসিক অবস্থার উন্নতি হয় এবং তারা নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহিত হন।”

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সংক্রমণ বাড়তে পারে। বিশেষ করে তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।

তারা পরামর্শ দিয়েছেন—

  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা
  • নিরাপদ আচরণ অনুসরণ করা
  • রক্ত গ্রহণের আগে পরীক্ষা নিশ্চিত করা
  • ইনজেকশন ব্যবহারে সতর্ক থাকা

বরিশালে আট মাসে নতুন ৩০ জন এইচআইভি আক্রান্ত শনাক্ত হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ইঙ্গিত। এটি যেমন উদ্বেগের বিষয়, তেমনি সময়মতো শনাক্ত হওয়ার কারণে নিয়ন্ত্রণের সুযোগও রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ, চিকিৎসক, এনজিও এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

সচেতনতা, প্রতিরোধ এবং সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিই পারে এইচআইভি সংক্রমণ কমাতে এবং আক্রান্তদের একটি স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাত্র ৭ দিনে মনোযোগ বাড়াবেন যেভাবে, জানুন সহজ কৌশল

বরিশালে আট মাসে নতুন ৩০ জন এইচআইভি আক্রান্ত শনাক্ত

Update Time : ০৮:২৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

বরিশাল বিভাগে গত আট মাসে নতুন করে ৩০ জন এইচআইভি (HIV) আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আক্রান্তদের মধ্যে বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, সময়মতো শনাক্তকরণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও স্ক্রিনিং কার্যক্রমের মাধ্যমে এই রোগীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেই প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা গ্রহণ শুরু করেছেন। তবে এখনও অনেকে চিকিৎসার বাইরে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এইচআইভি (Human Immunodeficiency Virus) একটি ভাইরাস, যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেয়। চিকিৎসা না নিলে এটি পরবর্তীতে এইডস (AIDS)-এ রূপ নিতে পারে, যা জীবনঘাতী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রোগ সম্পর্কে সমাজে এখনও অনেক ভুল ধারণা ও অজ্ঞতা রয়েছে। ফলে অনেক মানুষ সময়মতো পরীক্ষা করাতে আগ্রহী হন না, যা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ৩০ জন নতুন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে কিছু রোগী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় ধরা পড়েছেন, আবার কেউ কেউ উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসার পর শনাক্ত হয়েছেন।

আরও পড়ুন  ৬০ পেরিয়ে পেটের মেদ কমাতে বিছানায় করুন ৫ সহজ ব্যায়াম

চিকিৎসকদের মতে, এটি শুধুমাত্র শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা; প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই বর্তমানে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাদের নিয়মিত চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং দেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন। বর্তমানে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (ART) চিকিৎসা এই রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, এইচআইভি মূলত কয়েকটি নির্দিষ্ট উপায়ে ছড়ায়—

  • নিরাপদ নয় এমন যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে
  • সংক্রমিত রক্ত গ্রহণের মাধ্যমে
  • একাধিক ব্যক্তি দ্বারা ব্যবহৃত ইনজেকশন বা সিরিঞ্জ ব্যবহার করলে
  • সংক্রমিত মায়ের কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে জন্মের সময় বা স্তন্যদানের মাধ্যমে

তবে সাধারণ সামাজিক মেলামেশা, হাত মেলানো, একই থালা বা পানি ব্যবহার করলে এই রোগ ছড়ায় না।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, নতুন আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক না হলেও এটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা উচিত। তিনি বলেন, “আমরা নিয়মিত স্ক্রিনিং বাড়াচ্ছি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করছি।”

তিনি আরও জানান, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এখন অত্যন্ত জরুরি।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এদের মধ্যে রয়েছেন—

  • অনিরাপদ রক্ত গ্রহণকারী
  • মাদকাসক্ত ইনজেকশন ব্যবহারকারী
  • ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণে জড়িত ব্যক্তি
  • দীর্ঘদিন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করা মানুষ
আরও পড়ুন  তারেক রহমান ডা. পাভেলকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন

এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষা ও কাউন্সেলিং কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইচআইভি নিয়ে সমাজে এখনও বড় ধরনের সামাজিক কলঙ্ক (stigma) রয়েছে। অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি লজ্জা ও ভয় থেকে চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। এতে রোগটি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

মানবাধিকারকর্মীরা মনে করেন, আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের সামাজিকভাবে বঞ্চিত না করে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া উচিত।

বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে—

  • স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম
  • গণমাধ্যমে প্রচারণা
  • ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ফ্রি টেস্টিং ক্যাম্প
  • কমিউনিটি ভিত্তিক কাউন্সেলিং সেশন

এছাড়া স্থানীয় এনজিওগুলোও এই বিষয়ে কাজ করছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সচেতনতা ও প্রতিরোধ। তারা বলেন, “প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। তাই নিয়মিত পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি।”

তাদের মতে, যৌন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানো গেলে নতুন সংক্রমণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

বর্তমানে এইচআইভি চিকিৎসা অনেক উন্নত হয়েছে। নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে রোগীরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। বাংলাদেশেও সরকারিভাবে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  পাকিস্তানে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে নতুন তথ্য, চিকিৎসার বাইরে হাজারো রোগী

চিকিৎসকরা বলছেন, রোগীরা যদি নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করেন, তাহলে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজের সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় পারিবারিক সহযোগিতা না থাকায় রোগীরা চিকিৎসা থেকে দূরে সরে যান।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, “সমর্থনমূলক পরিবেশ তৈরি করতে পারলে রোগীর মানসিক অবস্থার উন্নতি হয় এবং তারা নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহিত হন।”

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সংক্রমণ বাড়তে পারে। বিশেষ করে তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।

তারা পরামর্শ দিয়েছেন—

  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা
  • নিরাপদ আচরণ অনুসরণ করা
  • রক্ত গ্রহণের আগে পরীক্ষা নিশ্চিত করা
  • ইনজেকশন ব্যবহারে সতর্ক থাকা

বরিশালে আট মাসে নতুন ৩০ জন এইচআইভি আক্রান্ত শনাক্ত হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ইঙ্গিত। এটি যেমন উদ্বেগের বিষয়, তেমনি সময়মতো শনাক্ত হওয়ার কারণে নিয়ন্ত্রণের সুযোগও রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ, চিকিৎসক, এনজিও এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

সচেতনতা, প্রতিরোধ এবং সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিই পারে এইচআইভি সংক্রমণ কমাতে এবং আক্রান্তদের একটি স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে।