ব্রাজিলের একাদশ নিয়ে কার্লো আনচেলত্তির অবিশ্বাস্য পরিকল্পনা ও গোপন কৌশল। মরক্কো বিপর্যয়ের পর এনদ্রিককে নিয়ে সেলেসাওদের ঘুরে দাঁড়ানোর দুর্দান্ত ম্যাচের আগাম বিশ্লেষণ।
ব্রাজিলের একাদশ নিয়ে শুরু থেকেই এক চরম রহস্য ও কঠোর গোপনীয়তা বজায় রেখে চলেছেন অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তি। মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমগুলোতে যে সম্ভাব্য লাইনআপের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, তাতে রজার ইবানিয়াজের পরিবর্তে রাইট ব্যাক পজিশনে অভিজ্ঞ দানিলোর আসার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। রক্ষণভাগ মজবুত করতে মার্কিনহোস এবং গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস থাকছেন সেন্টার ব্যাক পজিশনে, আর লেফট ব্যাকে দেখা যেতে পারে দগলাস সান্তোসকে। তবে গ্যাব্রিয়েলের বাঁ ঊরুর চোট এবং রাফিনিয়ার ডান পায়ের ফোসকা নিয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
সবচেয়ে বড় কৌতূহল ও জল্পনা তৈরি হয়েছে ১৯ বছর বয়সী তরুণ সেনসেশন এনদ্রিককে শুরুর স্কোয়াডে রাখা হবে কি না তা নিয়ে। অনুশীলনে মাতেউস কুনিয়া এবং ইগর থিয়াগোর সাথে পালা করে কঠোর ঘাম ঝরিয়েছেন এই প্রতিভাবান ফরোয়ার্ড, যার একটি বুলেট গতির শট গোলকিপারকে পুরোপুরি স্তব্ধ করে দিয়েছিল। ম্যাচের যেকোনো একটি পর্যায়ে এই তরুণ তুর্কিকে মাঠে নামানো হলে গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকরা যে এক অভাবনীয় ও চোখ ধাঁধানো আনন্দ পাবেন, তাতে বিন্দুমাত্র কোনো সন্দেহ নেই।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে টিকে থাকার লড়াইয়ে এই ম্যাচ থেকে ৩টি মূল্যবান পয়েন্ট তুলে নেওয়া সেলেসাওদের জন্য এখন অত্যন্ত জরুরি। মরক্কোর বিপক্ষে চরম বিপর্যয়ের পর ব্রাজিলের সামনে আর নতুন করে পা পিছলে যাওয়ার মতো কোনো সুযোগ বা সামান্যতম অবকাশ নেই। সি গ্রুপের শীর্ষ স্থানটি নিজেদের দখলে রেখে নকআউট পর্বের পথে নিরাপদে এগিয়ে যেতে হলে এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই ফুটবল পরাশক্তিদের। তবে তার চেয়েও বড় কথা হলো, এই টুর্নামেন্টে নিজেদের হারিয়ে যাওয়া চিরচেনা ছন্দ ও ঐতিহাসিক সাম্বা ফুটবল খেলার ধরনটি আবার নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে হবে।
শনিবার থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের মুকুট পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আকাশ ছোঁয়ার এক রোমাঞ্চকর ও কঠিন যাত্রা। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা আর আড়ালে থাকা সেই চীনা বাঁশের শক্তিশালী শিকড়ের মতো ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের সেরাটা ঢেলে দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত সাম্বা বয়রা। মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে দলটির প্রধান কোচ এখন সম্পূর্ণ নতুন এক রণকৌশল সাজাচ্ছেন, যা প্রতিপক্ষ শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন মাঠের সেই চিরচেনা জাদুকরী পারফরম্যান্স এবং জয়ের ধারায় ফেরার রোমাঞ্চকর মুহূর্তটি দেখার জন্য।
দলের ভেতরের এই ইনজুরি সমস্যা এবং ফর্মহীনতার সংকট কাটিয়ে উঠতে খেলোয়াড়দের মানসিক শক্তি ও কোচের নিখুঁত চাণক্য চাল সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখবে। সাম্প্রতিক সময়ে ইএসপিএন ফুটবল এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাতিন আমেরিকার এই দলটির মূল শক্তি তাদের আক্রমণভাগ, যা যেকোনো মুহূর্তে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে চুরমার করতে সক্ষম। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে বল পজিশন ধরে রাখাই হবে এই ম্যাচে আনচেলত্তির মূল লক্ষ্য, যা খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
চুড়ান্ত লড়াইয়ের আগে ব্রাজিলের একাদশ সাজানোর এই জটিল ধাঁধাই এখন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত এবং আকর্ষণীয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি পজিশনে সেরা খেলোয়াড়দের সমন্বয় ঘটিয়ে মাঠের খেলায় শতভাগ উজার করে দিতে মরিয়া হয়ে আছে পুরো সেলেসাও স্কোয়াড। শেষ পর্যন্ত আনচেলত্তির এই গোপন কৌশল এবং ফুটবলারদের মাঠের পারফরম্যান্স ব্রাজিলকে কতটা উঁচুতে নিয়ে যায়, তা দেখার জন্য বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী এখন অধীর অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।





























