হজ পালন শেষে দেশে ফিরেও স্বস্তি পাচ্ছেন না অনেক বাংলাদেশি হাজি। কোরবানির টাকা আত্মসাৎ, ভুল তথ্য দিয়ে নিবন্ধন এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। অভিযোগ রয়েছে, কিছু হজ এজেন্সি হাজিদের কাছ থেকে কোরবানির অর্থ নিলেও বাস্তবে কোরবানি সম্পন্ন করেনি অথবা তার কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি।
ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম খান স্ত্রীকে নিয়ে সম্প্রতি হজ পালন করে দেশে ফিরেছেন। দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও পেনশনের অর্থ ব্যয় করে হজে গেলেও এখন তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তার অভিযোগ, এজেন্সি কোরবানি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানালেও পরে সৌদি সরকারের ডিজিটাল সিস্টেমে তার নামে কোনো কোরবানির তথ্য পাওয়া যায়নি।
চলতি বছর থেকে সৌদি সরকার নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে কোরবানির কার্যক্রম পরিচালনা বাধ্যতামূলক করেছে। কোরবানি সম্পন্ন হওয়ার তথ্যও ওই অ্যাপে সংযুক্ত করার নির্দেশনা ছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, অনেক এজেন্সি সেই নির্দেশনা অনুসরণ করেনি। ফলে কোরবানি হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে পারছেন না বহু হাজি।
হজের বিভিন্ন প্রকারভেদ সম্পর্কে সাধারণ হাজিদের সীমিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তামাত্তু হজের জন্য অর্থ নেওয়া হলেও অনেককে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ইফরাদ হাজি হিসেবে নিবন্ধন করা হয়েছে। যেহেতু ইফরাদ হজে কোরবানি বাধ্যতামূলক নয়, তাই কোরবানির অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী চিকিৎসক সানজিদুল আলম বলেন, তাদের কাফেলার অধিকাংশ সদস্য তামাত্তু হজ করলেও নথিতে অনেককে ইফরাদ হাজি হিসেবে দেখানো হয়েছে। তিনি বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।
শুধু কোরবানির অর্থ নয়, অনেক হাজির কাছ থেকে ‘ভুলের দম’ বাবদও আগাম অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকার বাসিন্দা একেএম আহসানুজ্জামান জানান, তার পরিবারের চার সদস্যের কাছ থেকেই একাধিক কোরবানির সমপরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোরবানি সম্পন্ন হওয়ার কোনো প্রমাণ তারা পাননি।
ভুক্তভোগীরা জানান, মক্কায় অবস্থানকালে তারা বাংলাদেশ হজ অফিসে লিখিত অভিযোগ করেছেন। পরে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে ডেকে শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে তাদের দাবি।
তবে অভিযুক্ত এজেন্সিগুলো অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আল মূলতাজিম হজ কাফেলা ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরসের স্বত্বাধিকারী ফরিদ আহমদ দাবি করেছেন, তারা কোনো অর্থ আত্মসাৎ করেননি এবং প্রয়োজন হলে কোরবানির প্রমাণ দেখাতে পারবেন। একই ধরনের দাবি করেছে দূয়ুফুর রহমান ট্রাভেলসও। তবে তারা স্বীকার করেছে যে নুসুক অ্যাপে কোরবানির তথ্য সংযুক্ত করার কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়াতুল ইসলাম জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা না মানা এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭৮ হাজার ৬০০ হজযাত্রী সৌদি আরব গেছেন, যার মধ্যে প্রায় ৭৪ হাজারই বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে। ভুক্তভোগী হাজিদের দাবি, হজের মতো পবিত্র ইবাদতকে ঘিরে অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো হাজিকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।





























