ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে বিপুল আয়ের পাশাপাশি ট্রাম্পের আর্থিক বিবরণীতে তার অন্যান্য ব্যবসা থেকেও উল্লেখযোগ্য আয়ের তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে থাকা তার গলফ ক্লাব, বিলাসবহুল রিসোর্ট, হোটেল, লাইসেন্সিং চুক্তি এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসা থেকেও শত শত মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে। তবে সব মিলিয়ে ২০২৫ সালে তার সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস ছিল ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা।
আর্থিক বিবরণীতে দেখা গেছে, ট্রাম্প মিম কয়েন ($TRUMP) চালুর পর প্রথম কয়েক সপ্তাহেই ব্যাপক লেনদেন হয়। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কারণে কয়েনটির বাজারমূল্য দ্রুত বাড়লেও পরে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবুও কয়েনটির লাইসেন্সিং ও রয়্যালটি থেকে ট্রাম্পের বিপুল আয় হয়েছে।
এদিকে ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল (World Liberty Financial) নামে ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানের টোকেন বিক্রি থেকেও শত শত মিলিয়ন ডলার এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি বিকেন্দ্রীভূত আর্থিক সেবা (DeFi) খাতে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সম্পদভিত্তিক সেবা চালুর ঘোষণা দেয়।
ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের জন্য তুলনামূলক ইতিবাচক নীতিমালা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়। প্রশাসন ডিজিটাল সম্পদ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, নিয়ন্ত্রক জটিলতা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক ক্রিপ্টো হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানায়। এর ফলে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ক্রিপ্টো ব্যবসা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সমালোচকদের দাবি, একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এত বড় আকারের ক্রিপ্টো ব্যবসা স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, সরকারি নীতির প্রভাব যদি ব্যক্তিগত ব্যবসায় পড়ে, তাহলে তা নৈতিক প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।
তবে হোয়াইট হাউস এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যবসার দৈনন্দিন পরিচালনায় সরাসরি জড়িত নন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পরিবারের সদস্য ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করছে। প্রশাসনের ভাষ্য, সব আর্থিক তথ্য আইন অনুযায়ী প্রকাশ করা হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা নিচ্ছেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই আয় প্রমাণ করে যে বিশ্বজুড়ে মিম কয়েন ও ডিজিটাল সম্পদ এখন শুধু প্রযুক্তিপ্রেমীদের বিষয় নয়; বরং এটি বড় ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক আলোচনারও অংশ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে এটি দেখিয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সি খাত থেকে অল্প সময়ে বিপুল আয় সম্ভব হলেও এর বাজার অত্যন্ত অস্থির এবং ঝুঁকিপূর্ণ।
৯২৭ পৃষ্ঠার আর্থিক ঘোষণাপত্র প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের সম্পদের উৎস, ক্রিপ্টো ব্যবসার পরিধি এবং ভবিষ্যৎ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী দিনগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রিপ্টো নীতির ওপর বিশ্ববাজারেরও নিবিড় নজর থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের আর্থিক ঘোষণাপত্রে ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে বিপুল আয়ের তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি নীতি ও ব্যক্তিগত ব্যবসার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এত বড় আকারের ডিজিটাল সম্পদ ব্যবসার সম্পৃক্ততা ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের শীর্ষ ক্রিপ্টো ও ডিজিটাল অ্যাসেট হাব হিসেবে গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্রিপ্টো খাতের জন্য আরও স্পষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি, ব্লকচেইন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির কথা বলা হয়েছে। এর ফলে অনেক বিনিয়োগকারী যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিপ্টো বাজারকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যবসা যদি সরকারি নীতির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে লাভবান হয়, তাহলে তা স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে হোয়াইট হাউসের দাবি, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ব্যবসাগুলো আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে এগুলোর কোনো প্রভাব নেই।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ট্রাম্পের এই বিপুল আয় আরেকটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—ক্রিপ্টোকারেন্সি এখন আর শুধু বিকল্প বিনিয়োগ নয়; এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ একটি খাতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ডিজিটাল সম্পদের জন্য নতুন আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করছে, যা এই খাতের দ্রুত বিকাশের ইঙ্গিত দেয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে ট্রাম্প প্রশাসন যদি ক্রিপ্টোবান্ধব নীতি আরও সম্প্রসারণ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজিটাল সম্পদে বিনিয়োগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বিটকয়েন, ইথেরিয়াম এবং অন্যান্য ডিজিটাল সম্পদের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজার এখন ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখছে।



















