ঢাকা ১২:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পেটে ভাত পড়তে কাজ করতে হবে : তরুণদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল Logo ডায়াবেটিস না থাকলেও খাবারের পর রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ জরুরি Logo চালু হয়নি তিন বছরেও, ইজারায় যাচ্ছে কর্ণফুলী টানেলের বিলাসবহুল অতিথিশালা Logo মেসিই দলকে শেষ ১৬-তে নিয়ে যাবেন Logo নাটোরে শুভসংঘের উদ্যোগে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন Logo নখ কাটার সুন্নত পদ্ধতি কী? ইসলামের সঠিক নিয়ম জানুন Logo ট্রাম্প-সৌদি যুবরাজ দ্বন্দ্বে নতুন মোড়, ইরান যুদ্ধের নেপথ্য কাহিনি Logo পেঁয়াজ উৎপাদনে রেকর্ড, তবু কেন আমদানি? Logo পদ্মা রেল সেতুর নিচে মাটি অপসারণ প্রকল্পেরই অংশ, নিরাপত্তার ঝুঁকি নেই: সড়ক মন্ত্রী Logo গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত গোলরক্ষক সালিম, শোকে ফুটবল বিশ্ব

বায়ুদূষণে শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার খবর কী

দূষিত বাতাসে ঢাকা নগরীর প্রতীকী ছবি।

বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণ দিন দিন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। শিল্পায়ন, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বের অনেক বড় শহরের বায়ুর মান দ্রুত অবনতি হচ্ছে। সর্বশেষ বায়ুমান সূচকেও সেই চিত্রই উঠে এসেছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রকাশিত আইকিউএয়ারের (IQAir) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাকার্তার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) স্কোর ১৬০, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ (Unhealthy) পর্যায়ে রয়েছে। এই মাত্রার দূষণ সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সুস্থ ব্যক্তিদের জন্যও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার AQI স্কোর ১০২, যা আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ (Unhealthy for Sensitive Groups) হিসেবে বিবেচিত হয়। এ স্কোর নিয়ে শুক্রবার সকালে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল দশম। যদিও শুষ্ক মৌসুমের তুলনায় বর্ষাকালে ঢাকার বায়ুমান কিছুটা উন্নত থাকে, তবুও দূষণের মাত্রা এখনো উদ্বেগের কারণ।

একই সময়ে প্রকাশিত তালিকায় ১৫৮ AQI স্কোর নিয়ে পাকিস্তানের লাহোর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এরপর রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা, উগান্ডার কাম্পালা এবং চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো। এসব শহরেও বায়ুদূষণের মাত্রা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকায় বায়ুদূষণের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজ থেকে উড়ে আসা ধুলাবালি, শিল্পকারখানার নির্গমন, ইটভাটার ধোঁয়া এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ। বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে বাতাসের ধুলাবালি কিছুটা কমে গেলেও দূষণের স্থায়ী সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

আইকিউএয়ারের বায়ুমান সূচক (AQI) অনুযায়ী, ০–৫০ স্কোর ভালো, ৫১–১০০ মাঝারি, ১০১–১৫০ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১–২০০ অস্বাস্থ্যকর, ২০১–৩০০ খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০০-এর বেশি হলে তা বিপজ্জনক হিসেবে ধরা হয়। তাই ঢাকার বর্তমান স্কোর ১০২ হওয়ায় শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী নারী এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়া, বাইরে বের হলে মানসম্মত মাস্ক ব্যবহার করা এবং দীর্ঘ সময় খোলা পরিবেশে অবস্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিবেশবিদদের মতে, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধু সরকারি উদ্যোগই নয়, নাগরিক সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবহার, নির্মাণস্থলে ধুলা নিয়ন্ত্রণ, পুরোনো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন কমানো এবং সবুজায়ন বৃদ্ধি করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে বায়ুর মান উন্নত করা সম্ভব হবে।

সব মিলিয়ে, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান আগের তুলনায় কিছুটা নিচে থাকলেও রাজধানীর বায়ুমান এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয়। তাই প্রতিদিনের AQI পর্যবেক্ষণ করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।

জনপ্রিয় সংবাদ

পেটে ভাত পড়তে কাজ করতে হবে : তরুণদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল

বায়ুদূষণে শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার খবর কী

Update Time : ০৯:১৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণ দিন দিন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। শিল্পায়ন, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বের অনেক বড় শহরের বায়ুর মান দ্রুত অবনতি হচ্ছে। সর্বশেষ বায়ুমান সূচকেও সেই চিত্রই উঠে এসেছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রকাশিত আইকিউএয়ারের (IQAir) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাকার্তার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) স্কোর ১৬০, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ (Unhealthy) পর্যায়ে রয়েছে। এই মাত্রার দূষণ সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সুস্থ ব্যক্তিদের জন্যও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ।

আরও পড়ুন  সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল

অন্যদিকে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার AQI স্কোর ১০২, যা আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ (Unhealthy for Sensitive Groups) হিসেবে বিবেচিত হয়। এ স্কোর নিয়ে শুক্রবার সকালে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল দশম। যদিও শুষ্ক মৌসুমের তুলনায় বর্ষাকালে ঢাকার বায়ুমান কিছুটা উন্নত থাকে, তবুও দূষণের মাত্রা এখনো উদ্বেগের কারণ।

একই সময়ে প্রকাশিত তালিকায় ১৫৮ AQI স্কোর নিয়ে পাকিস্তানের লাহোর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এরপর রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা, উগান্ডার কাম্পালা এবং চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো। এসব শহরেও বায়ুদূষণের মাত্রা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন  বায়ুদূষণে শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার বায়ুমান মাঝারি মানের

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকায় বায়ুদূষণের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজ থেকে উড়ে আসা ধুলাবালি, শিল্পকারখানার নির্গমন, ইটভাটার ধোঁয়া এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ। বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে বাতাসের ধুলাবালি কিছুটা কমে গেলেও দূষণের স্থায়ী সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

আইকিউএয়ারের বায়ুমান সূচক (AQI) অনুযায়ী, ০–৫০ স্কোর ভালো, ৫১–১০০ মাঝারি, ১০১–১৫০ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১–২০০ অস্বাস্থ্যকর, ২০১–৩০০ খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০০-এর বেশি হলে তা বিপজ্জনক হিসেবে ধরা হয়। তাই ঢাকার বর্তমান স্কোর ১০২ হওয়ায় শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী নারী এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়া, বাইরে বের হলে মানসম্মত মাস্ক ব্যবহার করা এবং দীর্ঘ সময় খোলা পরিবেশে অবস্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন  অবাক করা তথ্য: ক্যানসার রোগীরা আসলে কী কারণে মারা যাচ্ছেন?

পরিবেশবিদদের মতে, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধু সরকারি উদ্যোগই নয়, নাগরিক সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবহার, নির্মাণস্থলে ধুলা নিয়ন্ত্রণ, পুরোনো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন কমানো এবং সবুজায়ন বৃদ্ধি করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে বায়ুর মান উন্নত করা সম্ভব হবে।

সব মিলিয়ে, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান আগের তুলনায় কিছুটা নিচে থাকলেও রাজধানীর বায়ুমান এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয়। তাই প্রতিদিনের AQI পর্যবেক্ষণ করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।