বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও জাপানের সম্পর্ক শুধু অর্থনীতি বা বাণিজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি কৌশলগত অংশীদারত্বেও পরিণত হয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অবাধ ও উন্মুক্ত নৌপথ নিশ্চিত করা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে।
জাপান দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের অন্যতম বড় উন্নয়ন সহযোগী। দিল্লি-মুম্বাই ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর, মুম্বাই-আহমেদাবাদ উচ্চগতির রেলপথ এবং নগর পরিবহনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে জাপানি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব প্রকল্প দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে।
সাম্প্রতিক বৈঠকে দুই দেশের নেতারা প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই খাতগুলোতে যৌথ বিনিয়োগ উভয় দেশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ভারত ও জাপান নবায়নযোগ্য জ্বালানি, হাইড্রোজেন প্রযুক্তি এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি বিনিময় এবং গবেষণায় যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দুই দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলো বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন খাত, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে নতুন কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের সফর, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে ভারত-জাপান সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করবে। পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে দুই দেশের সমন্বিত ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।



























