বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে জাপানি কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) টোকিওতে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) হলে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, সম্প্রতি সম্পাদিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক পণ্য জাপানে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। অন্যদিকে, স্টিল, অটোমোটিভ পার্টস ও বৈদ্যুতিক পণ্যের মতো জাপানি পণ্য বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য পাঁচটি অগ্রাধিকার খাত তুলে ধরেন। এগুলো হলো গাড়ি উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতা, রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষিপণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ।
বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে এসব খাতকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করতে বাণিজ্যের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগেও গুরুত্ব দিতে চায় বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে বাংলাদেশে জাপানের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ এখনো ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের নিচে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৩৬ কোটি মার্কিন ডলার। বিপরীতে, একই সময়ে জাপান থেকে বাংলাদেশ ২১৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।
এই বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলে বক্তব্যে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, নতুন বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়লে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন উদ্বেগ দূর করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান তারেক রহমান। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, উন্নত অবকাঠামো, শুল্কছাড় এবং করব্যবস্থায় পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো তিনি গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন।
বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার জন্য স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে উদ্বেগ কমানো গেলে বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদন খাতে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ২০২৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদন কারখানায় পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যে টয়োটার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানান তিনি।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাসও দেন প্রধানমন্ত্রী। গাড়ি উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়লে সংশ্লিষ্ট শিল্প, যন্ত্রাংশ উৎপাদন এবং সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বক্তব্যে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে জাপানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তবে বাংলাদেশ এখন উন্নয়ন সহযোগিতার প্রচলিত পরিসর ছাড়িয়ে আগামী ৩০ থেকে ৫০ বছরের জন্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায়। এ লক্ষ্য সামনে রেখে দুই দেশের ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশের পণ্যের জন্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা এবং অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের উদ্যোগ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব সুযোগ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নির্ভর করবে চুক্তির শর্ত, বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়নের ওপর।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন