দেশের স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের জনবলসংকট কমাতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তিন ধাপে এই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই প্রথম ধাপে ৪৫ হাজার ৭০০ জন নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে তীব্র জনবলসংকট দূর করতেও সরকার কাজ শুরু করেছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনেও এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তখন তিনি বলেছিলেন, নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই নারী হবেন। তাঁরা সাধারণ মানুষের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফারেল সেবা পৌঁছে দেবেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই নিয়োগ কার্যক্রমে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও অধিদপ্তর যুক্ত রয়েছে। প্রথম ধাপে ৪৫ হাজার ৭০০ জন নিয়োগের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা জোরদার করতে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে শূন্য পদ পূরণেও তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডের শূন্য পদে জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি নিয়োগ ও পদোন্নতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে ২০১৮ সালের নন-মেডিক্যাল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করে দ্রুত জনবল নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও মামলা কিংবা প্রশাসনিক জটিলতায় যেসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করা যায়নি, সেসব পদ নিয়েও নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পদগুলোর ছাড়পত্র সংগ্রহ করে সমন্বিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং বিদ্যমান জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে জনবলসংকটের চিত্রও উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে অনুমোদিত ৬৫ হাজার ২৩০টি পদের মধ্যে ১৮ হাজার ৯৪৭টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য সহকারীর ৬ হাজার ৯৫৩টি এবং পরিবারকল্যাণ সহকারীর ৮ হাজার ২৯৩টি পদ খালি।

এ ছাড়া লালমনিরহাটে চিকিৎসকদের প্রায় অর্ধেক পদ শূন্য রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকার কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি)-এর ২৩০টি পদের মধ্যে ১৬০টি পদও ফাঁকা রয়েছে। এসব শূন্য পদ পূরণ না হওয়ায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী নিয়োগ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন স্তরে কর্মীসংকট কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বাড়লে প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে রোগীকে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর সেবা আরও বিস্তৃত হতে পারে।

তবে নিয়োগের চূড়ান্ত সময়সূচি, পদভিত্তিক সংখ্যা ও বিজ্ঞপ্তির বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নির্ভর করবে। বড় এই কর্মসূচির বাস্তবায়ন কত দ্রুত হয়, তার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে স্বাস্থ্য খাতের জনবলসংকট কমানোর অগ্রগতি।