নাহিদ রানা অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন, তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নয়; মূল উদ্দেশ্য পুরোনো চোটের চিকিৎসা।
বাংলাদেশের এই তরুণ পেসার আজ রাতেই অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়ছেন বলে জানা গেছে।
সাইড স্ট্রেইনের কারণে টেস্ট সিরিজ থেকে ছিটকে পড়লেও এবার তিনি চিকিৎসা করাবেন দীর্ঘদিনের শিনবোনের সমস্যার।
একই সফরে দলের অন্যদের আগেই অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন তাসকিন আহমেদ, কাঁধের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে।
চিকিৎসা শেষে তাসকিন বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যোগ দেবেন অস্ট্রেলিয়া সফরে।
আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে এবং ২২ আগস্ট ম্যাকাইতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ।
নাহিদ রানা অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন এমন খবর শুনে অনেকেরই প্রথমে মনে হতে পারে, তিনি বুঝি বাংলাদেশ দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ইনজুরির কারণে ইতোমধ্যেই সিরিজ থেকে ছিটকে পড়েছেন এই তরুণ পেসার। তবুও আজ রাতেই তাঁর গন্তব্য অস্ট্রেলিয়া, তবে সেটি শুধুই চিকিৎসার জন্য।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে গত কয়েক বছরে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় পেসারদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নাহিদ রানা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজে তাঁকে না পাওয়াটা দলের জন্য বড় ধাক্কা। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল সাইড স্ট্রেইনের কারণেই তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। তবে জানা গেছে, তাঁর অস্ট্রেলিয়া সফরের মূল কারণ দীর্ঘদিনের শিনবোনের সমস্যা। বেশ কিছুদিন ধরেই এই চোট তাঁকে ভুগিয়ে আসছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্যই অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নাহিদের সঙ্গে একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন জাতীয় দলের অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদও। তবে তাঁর সফরের উদ্দেশ্যও চিকিৎসা। কাঁধের সমস্যার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন তিনি। চিকিৎসা সম্পন্ন করার পর সরাসরি বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যোগ দেবেন তাসকিন। আসন্ন টেস্ট সিরিজে পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব থাকবে তাঁর কাঁধেই।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাতীয় দলের বাকি সদস্যরা আগামী ১ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়বেন। নাহিদ ও তাসকিন আগে পৌঁছে নিজেদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে তাসকিনের মাঠে ফেরার প্রস্তুতি আরও ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে নাহিদের চিকিৎসার অগ্রগতি ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক সূচির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু হবে ১৩ আগস্ট ডারউইনে। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে। প্রায় ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তাই এই সিরিজ ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ অনেক বেশি। যদিও ইনজুরির কারণে নাহিদ রানাকে মাঠে দেখা যাবে না, তবুও দ্রুত সুস্থ হয়ে ভবিষ্যতে জাতীয় দলে ফিরতে পারাই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত চিকিৎসা সুবিধা নাহিদ ও তাসকিন—দুজনেরই পুনর্বাসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে পেসারদের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চোট পুরো ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ দলও আশা করছে, চিকিৎসা শেষে তাসকিন পূর্ণ ফিটনেস নিয়ে সিরিজে খেলতে পারবেন এবং নাহিদ দ্রুত মাঠে ফেরার প্রস্তুতি শুরু করবেন।


























