জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ: সুদাম চন্দ্র

নওগাঁয় বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বুধবার (২১ অক্টোবর) দিনভর জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দেবীবরণ, অঞ্জলি ও সিঁদুর খেলায় অংশ নেন ভক্তরা। উৎসবের শেষ দিনে মণ্ডপে মণ্ডপে ছিল আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি। সন্ধ্যায় ছোট যমুনা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে সকাল থেকেই নওগাঁ শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্তদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও ধূপের সুবাসে মুখর হয়ে ওঠে মণ্ডপগুলো। শেষবারের মতো দেবী দুর্গার দর্শন ও আশীর্বাদ নিতে আসেন নানা বয়সী নারী-পুরুষ। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি শুরু হয়।

দশমীর পূজা ও দেবীবরণের পর নারীরা সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন। লাল-সাদা শাড়িতে সজ্জিত নারীরা দেবী দুর্গার সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেন। এরপর একে অপরের কপাল ও গালে সিঁদুর মাখিয়ে শুভকামনা জানান। বিবাহিত নারীদের পাশাপাশি তরুণী ও শিশুদেরও এ আয়োজনে অংশ নিতে দেখা যায়।

নওগাঁ শহরের শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালী মন্দির (শিব মন্দির) এলাকায় সিঁদুর খেলায় অংশ নেওয়া স্নেহা সরকার, আরতি সরকার ও মুক্তা রায় জানান, এবার ছয় দিন ধরে পূজা হওয়ায় তাঁরা বাড়তি এক দিন আনন্দ করার সুযোগ পেয়েছেন। তবে উৎসবের শেষ দিন চলে আসায় তাঁদের মন খারাপ ছিল। দেবীকে সিঁদুর ছোঁয়ানো ও অঞ্জলি দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁরা বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন।

তাঁরা আরও জানান, বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলা তাঁদের কাছে ভালোবাসা, আনন্দ ও আবেগের প্রতীক। দেবীর বিদায়ে মন খারাপ হলেও আগামী বছর আবারও মা দুর্গার আগমনের আশায় থাকেন তাঁরা। পরিবারের সুখ, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করে দেবীর কাছে প্রার্থনাও করেন।

এদিকে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে নওগাঁ শহরের ছোট যমুনা নদীতে নৌ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। দুপুরের পর প্রতিমাগুলো নৌকায় তোলার কার্যক্রম শুরু হয়। বিকেল সাড়ে ৩টায় নৌ শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। পরে সন্ধ্যায় নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, এ বছর নওগাঁ জেলায় ৮৩৬টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে উৎসব শুরু হয়। সপ্তমী তিথি দুই দিন হওয়ায় এবার ছয় দিন ধরে পূজার আনুষ্ঠানিকতা চলে।

দেবী দুর্গার বিদায়কে ঘিরে নওগাঁর পূজামণ্ডপগুলোতে দিনভর ছিল আনন্দ-বেদনার আবহ। সিঁদুর খেলা, প্রার্থনা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ভক্তরা বিদায় জানান দেবীকে। আগামী বছর আবারও দেবী দুর্গার আগমনের অপেক্ষায় রয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।