বালিশের পাশে মোবাইল রেখে ঘুমানো অনেকের প্রতিদিনের অভ্যাস। কেউ ঘুমানোর আগে ভিডিও দেখেন, কেউ আবার ফোন চার্জে দিয়ে পাশে রাখেন। তবে এই অভ্যাসের কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে এবং চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। যদিও শুধু মাথার কাছে মোবাইল রাখলেই গুরুতর রোগ হয়, এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই; তবু রাতে ফোন ব্যবহারের কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করা ভালো।

ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইলের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে। স্ক্রিনের আলো শরীরের স্বাভাবিক ঘুম-জাগরণ চক্রকে প্রভাবিত করতে পারে। পাশাপাশি ভিডিও দেখা, গেম খেলা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করার কারণে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। ফলে পর্যাপ্ত সময় বিছানায় কাটালেও ঘুমের মান কমে যেতে পারে। এ সমস্যা কমাতে ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে ফোন ব্যবহার বন্ধ রাখার চেষ্টা করুন।

বালিশের পাশে মোবাইল থাকলে কল, মেসেজ ও বিভিন্ন অ্যাপের নোটিফিকেশনে রাতের ঘুম ভেঙে যেতে পারে। বারবার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে সকালে ক্লান্তি, বিরক্তি ও কাজে মনোযোগের অভাব দেখা দিতে পারে। ঘুমের সময় ফোনের ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোড চালু রাখুন এবং জরুরি যোগাযোগের জন্য প্রয়োজনীয় নম্বরগুলোতে কলের অনুমতি দিন। ফোনটি হাতের নাগালের বাইরে রাখলে বারবার স্ক্রিন দেখার অভ্যাসও কমতে পারে।

মোবাইল ফোন থেকে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি বা আরএফ বিকিরণ নির্গত হয়। এ বিকিরণ নন-আয়োনাইজিং, যা এক্স-রের মতো নয়। বর্তমান গবেষণায় শুধু বালিশের পাশে ফোন রাখার কারণে ক্যান্সার হয়, এমন নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বিকিরণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলছে। উদ্বেগ কমাতে ঘুমানোর সময় ফোনটি মাথা থেকে কিছুটা দূরে রাখতে পারেন। এতে ফোনের আলো ও শব্দের ব্যাঘাত থেকেও দূরে থাকা সহজ হবে।

ফোন ব্যবহারের পাশাপাশি চার্জ দেওয়ার নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ। বালিশ, কম্বল বা তোশকের নিচে ফোন চার্জ দিলে তাপ আটকে গিয়ে যন্ত্র অতিরিক্ত গরম হতে পারে। নষ্ট ব্যাটারি, ক্ষতিগ্রস্ত তার বা নিম্নমানের চার্জার ব্যবহার করলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই ফোন চার্জ দেওয়ার সময় শক্ত, সমতল ও খোলা জায়গা বেছে নিন। ব্যাটারি ফুলে গেলে বা ফোন অস্বাভাবিক গরম হলে চার্জ দেওয়া বন্ধ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।

বালিশের পাশে মোবাইল রাখার অভ্যাস বদলাতে ঘুমের আগে ফোন ব্যবহারের সময় সীমিত করুন, নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন এবং নিয়মিত ঘুমানোর সময় নির্ধারণ করুন। বিছানার পাশে ফোন রাখার বদলে কিছুটা দূরে একটি টেবিলে রাখতে পারেন। মনে রাখবেন, শুধু ফোন কাছে থাকলেই গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা হবে, এমন নয়। তবে নিরাপদে চার্জ দেওয়া এবং ঘুমের আগে স্ক্রিন ব্যবহার কমানো ভালো ঘুম ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।