ঢাকা ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এন্দ্রিককে নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের পথে রিয়াল, থাকবেন নাকি ধারে যাবেন? Logo ট্রাম্পের নতুন শুল্কে বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া, কোন দেশ কী বলল? Logo ন্যাশনাল ব্যাংকের টুইন টাওয়ার ভাড়া, সংকট কাটানোর বিশেষ অনুমতি Logo সোমবার থেকে টানা ৩দিন ১২ ঘণ্টা করে গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায় Logo সকালের নাস্তায় ৭ ভুল! বাড়তে পারে কোলেস্টেরলের ঝুঁকি Logo ফ্রান্স-স্পেনের বড় শহরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে দাবানল Logo গরমে ঘরেই বানান ৪ স্বাস্থ্যকর ফলের জুস, জেনে নিন রেসিপি Logo মুখে ফেসপ্যাক কতক্ষণ রাখবেন? জানুন সঠিক নিয়ম Logo প্রধানমন্ত্রীর নজর কাড়ল ড্যাফোডিলের প্রযুক্তি উদ্ভাবন Logo লিটন-মেহেদীর শাস্তি নিশ্চিত, এখনো ঠিক হয়নি জরিমানার অঙ্ক

ন্যাশনাল ব্যাংকের টুইন টাওয়ার ভাড়া, সংকট কাটানোর বিশেষ অনুমতি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:২৪:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৬

আর্থিক সংকট কাটাতে টুইন টাওয়ারের একটি ভবন ভাড়া দেবে ন্যাশনাল ব্যাংক। । ছবি: সংগৃহীত

ন্যাশনাল ব্যাংক টুইন টাওয়ার ঘিরে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর্থিক সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংককে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নির্মাণাধীন টুইন টাওয়ারের একটি ভবন বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়ার বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই ভাড়া থেকে পাওয়া আয় ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী সাধারণভাবে কোনো ব্যাংক ভবন ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা করতে পারে না। তবে ন্যাশনাল ব্যাংকের আর্থিক সংকট বিবেচনায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতিতে বিশেষ ক্ষমতাবলে এ অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দেশে এ ধরনের সুবিধা আগে কোনো ব্যাংককে দেওয়া হয়নি।

কারওয়ান বাজার মোড়ে ৬৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত ন্যাশনাল ব্যাংক টুইন টাওয়ার দুটি ১২ তলা ভবন নিয়ে গড়ে উঠছে। মোট ফ্লোর স্পেস প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার বর্গফুট। এর মধ্যে টাওয়ার-১ ব্যাংকের নতুন প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে টাওয়ার-২ বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়া হবে।

জানা গেছে, ভবন দুটির নির্মাণ ব্যয় ইতোমধ্যে ৫০০ কোটি টাকার বেশি ছাড়িয়েছে। শুরুতে দ্বিতীয় ভবনে আবাসিক হোটেল করার প্রস্তাব থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংক সেটি অনুমোদন দেয়নি। পরে ভবনটি ভাড়া দেওয়ার প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, গ্রাহকের অর্থ পরিশোধে চাপের মুখে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংকের জন্য নতুন আয়ের উৎস তৈরি করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। ভবন ভাড়া থেকে নিয়মিত আয় হলে ব্যাংকের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে।

২০০৯ সালের পর ব্যাংকটির পরিচালনায় পরিবর্তনের পর আর্থিক অবস্থা ধারাবাহিকভাবে দুর্বল হতে থাকে। বর্তমানে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মোট ঋণের ৫৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা খেলাপি। পাশাপাশি নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে বর্তমানে প্রধান কার্যালয়ের জন্য প্রতি মাসে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ভাড়া গুনছে ন্যাশনাল ব্যাংক। নতুন টাওয়ারে প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর হলে এই ব্যয়ও কমে আসবে, যা ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ন্যাশনাল ব্যাংক টুইন টাওয়ার থেকে ভাড়া আয় ব্যাংকের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করলেও শুধু এই উদ্যোগে আর্থিক সংকট পুরোপুরি কাটবে না। খেলাপি ঋণ কমানো, মূলধন শক্তিশালী করা এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই ব্যাংকটির দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

জনপ্রিয় সংবাদ

এন্দ্রিককে নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের পথে রিয়াল, থাকবেন নাকি ধারে যাবেন?

ন্যাশনাল ব্যাংকের টুইন টাওয়ার ভাড়া, সংকট কাটানোর বিশেষ অনুমতি

Update Time : ১০:২৪:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ন্যাশনাল ব্যাংক টুইন টাওয়ার ঘিরে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর্থিক সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংককে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নির্মাণাধীন টুইন টাওয়ারের একটি ভবন বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়ার বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই ভাড়া থেকে পাওয়া আয় ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী সাধারণভাবে কোনো ব্যাংক ভবন ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা করতে পারে না। তবে ন্যাশনাল ব্যাংকের আর্থিক সংকট বিবেচনায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতিতে বিশেষ ক্ষমতাবলে এ অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দেশে এ ধরনের সুবিধা আগে কোনো ব্যাংককে দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন  নতুন মার্কিন শুল্কে চাপে চীন-ইসরায়েল, ভারতে কম

কারওয়ান বাজার মোড়ে ৬৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত ন্যাশনাল ব্যাংক টুইন টাওয়ার দুটি ১২ তলা ভবন নিয়ে গড়ে উঠছে। মোট ফ্লোর স্পেস প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার বর্গফুট। এর মধ্যে টাওয়ার-১ ব্যাংকের নতুন প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে টাওয়ার-২ বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়া হবে।

জানা গেছে, ভবন দুটির নির্মাণ ব্যয় ইতোমধ্যে ৫০০ কোটি টাকার বেশি ছাড়িয়েছে। শুরুতে দ্বিতীয় ভবনে আবাসিক হোটেল করার প্রস্তাব থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংক সেটি অনুমোদন দেয়নি। পরে ভবনটি ভাড়া দেওয়ার প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  ইলন মাস্ক সম্পদ কমল ৪৫ বিলিয়ন ডলার: চমকপ্রদ ধাক্কায় কাঁপল স্পেসএক্স শেয়ার

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, গ্রাহকের অর্থ পরিশোধে চাপের মুখে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংকের জন্য নতুন আয়ের উৎস তৈরি করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। ভবন ভাড়া থেকে নিয়মিত আয় হলে ব্যাংকের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে।

২০০৯ সালের পর ব্যাংকটির পরিচালনায় পরিবর্তনের পর আর্থিক অবস্থা ধারাবাহিকভাবে দুর্বল হতে থাকে। বর্তমানে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মোট ঋণের ৫৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা খেলাপি। পাশাপাশি নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

আরও পড়ুন  বস্ত্র খাতে নগদ সহায়তা ৫ শতাংশ, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ঘোষণা

এদিকে বর্তমানে প্রধান কার্যালয়ের জন্য প্রতি মাসে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ভাড়া গুনছে ন্যাশনাল ব্যাংক। নতুন টাওয়ারে প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর হলে এই ব্যয়ও কমে আসবে, যা ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ন্যাশনাল ব্যাংক টুইন টাওয়ার থেকে ভাড়া আয় ব্যাংকের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করলেও শুধু এই উদ্যোগে আর্থিক সংকট পুরোপুরি কাটবে না। খেলাপি ঋণ কমানো, মূলধন শক্তিশালী করা এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই ব্যাংকটির দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।