এফবিসিসিআই বিধিমালা পরিবর্তন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নির্বাচন ও পরিচালনা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত খসড়া বিধিমালায় পরিচালনা পর্ষদের সদস্যসংখ্যা ৪৬ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দুইটি নতুন সহসভাপতির পদ যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, বাণিজ্য সংগঠনের সভাপতি, সহসভাপতিসহ সব পদে সরাসরি ভোটের বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না। সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সংঘবিধি ও সংঘস্মারক অনুযায়ী নির্বাচন এবং নেতৃত্ব নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে সংগঠনগুলো নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারবে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো সদস্য ফি ও বার্ষিক চাঁদা নির্ধারণের ক্ষমতা আবারও বাণিজ্য সংগঠনগুলোর হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব। একই সঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের আওতাধীন বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক চাঁদা কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
খসড়ায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যবসায়ীর একাধিক সদস্যপদ থাকলেও নির্বাচনে তিনি একটির বেশি ভোট দিতে পারবেন না। বর্তমানে একাধিক সদস্যপদ থাকলে প্রতিটি সদস্যপদের বিপরীতে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ভোট ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিচালনা পর্ষদ গঠনের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। ৪৮ সদস্যের পর্ষদে সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি ও চার সহসভাপতি ছাড়াও নির্বাচিত ও মনোনীত পরিচালক থাকবেন। তবে সরকারের মাধ্যমে ১২ জন মনোনীত পরিচালক চূড়ান্ত করার প্রস্তাব নিয়ে ইতোমধ্যে ব্যবসায়ী মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে ভারসাম্যপূর্ণ উদ্যোগ বললেও, আবার কেউ সংগঠনের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে খসড়া বিধিমালার ওপর আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত অংশীজনদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। এরপর চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশিত হলে এফবিসিসিআই নির্বাচন আয়োজনের পথ অনেকটাই পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। ব্যবসায়ী নেতাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সংশোধনী চূড়ান্ত হলে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হবে।



























