পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্তের ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অসদাচরণ, দুর্নীতি, অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং পলায়নের অভিযোগে পুলিশের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকরি থেকে অপসারণ ও বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত হওয়া তিনজন হলেন নেত্রকোনার ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম এবং পুলিশ স্টাফ কলেজের এএসপি মো. হাবিবুল্লাহ দালাল। পৃথক অভিযোগ ও বিভাগীয় তদন্তের পর তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মোহাম্মদ রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছিল। তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এ বিষয়ে তাঁকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণের গুরুদণ্ড দেওয়ার পক্ষে মত দেয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়।
এদিকে এএসপি মো. হাবিবুল্লাহ দালালের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ২০২৫ সালের ২২ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ছুটি শেষে ২৬ জানুয়ারি তিনি আর কর্মস্থলে যোগ দেননি। সরকারি অনুমতি ছাড়া অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী স্ত্রীর কাছে চলে যাওয়ার কথা সরকারি আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর অনুপস্থিতির সময় ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।
অন্যদিকে মো. রাশেদুল ইসলাম ২০২৫ সালের ৯ মার্চ থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা, ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ ও ই-মেইলে একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। অনুপস্থিতির সময় ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলা হয়। তদন্তে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তাতেও সাড়া না পাওয়ার পর পিএসসি তাঁকে বরখাস্তের পক্ষে মত দেয়।
রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্যে রোকনুজ্জামানকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে এবং হাবিবুল্লাহ দালাল ও রাশেদুল ইসলামকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সরকারি চাকরিতে শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিই এসব প্রজ্ঞাপনে উঠে এসেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্ত পুলিশ প্রশাসনে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহির বিষয়টিকে আবারও সামনে এনেছে।



























