ঢাকা ০৯:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo রাজশাহীতে মাদক মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক ‘তেলাপোকাদের’, কেন প্রত্যাখ্যাত হলো বৈঠক? Logo চট্টগ্রাম লবণ কারখানা বিস্ফোরণ: দগ্ধ পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু Logo বার্ন আউল ছানা: এক বাসায় ৬টি পেঁচাশাবকের বিরল সন্ধান Logo গ্রিক ইয়োগার্ট কেন স্বাস্থ্যকর? জানুন পুষ্টিগুণ ও খাওয়ার নিয়ম Logo ভাইকিং থিমে জন্মদিন, বিলাসিতায় মুগ্ধ করলেন আর্লিং হালান্ড Logo আরেকজনের পাসপোর্ট দিয়ে ইতালি পাঠানোর অভিযোগ : জামিন পেলেন প্রধান আসামি Logo তথ্যমন্ত্রীর নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ, সতর্ক থাকার আহ্বান Logo মোদির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, আন্দোলন অব্যাহত Logo সফর সংক্ষিপ্ত করে কাল দেশে ফিরছেন স্পিকার

আরেকজনের পাসপোর্ট দিয়ে ইতালি পাঠানোর অভিযোগ : জামিন পেলেন প্রধান আসামি

আরেকজনের পাসপোর্টে ইতালি পাঠানোর অভিযোগে প্রধান আসামি

একজনের পাসপোর্ট ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তিকে ইতালি পাঠানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারের চার দিনের মাথায় প্রধান আসামি মো. বেলায়েত হোসেন জামিন পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন। তবে একই মামলার আরেক আসামি নাজমুল হাসানকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রিমান্ড শেষে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। বেলায়েত হোসেনের পক্ষে আইনজীবী জামিন আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে আদালত বেলায়েতকে জামিন দেন এবং নাজমুল হাসানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে সোমবার রাজধানীর গুলশান-১ এলাকা থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অভিযান চালিয়ে চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন আদালত দুই আসামির একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বাকি পাঁচ আসামি—মেহেদী হাসান, কাওসার হোসেন, মো. সোলাইমান সুমন, মো. তৌহিদুর রহমান ও ফজলে রাব্বীকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার বাদী তাসলিমা আক্তার জানান, তার স্বামী প্রায় ১১ বছর ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। চার সন্তানকে নিয়ে স্বামীর কাছে যাওয়ার জন্য তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ইতালির ভিসার চেষ্টা করছিলেন।

২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিনি ঢাকায় ইতালি দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ভিসা না পাওয়ায় তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরে দূতাবাস থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় আসামি নাজমুল হাসান ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট নবায়নের আশ্বাস দেন।

বিশ্বাস অর্জনের পর তিনি দাবি করেন, দ্রুত ইতালির ভিসার ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন। পরে গুলশানের একটি ট্রাভেল এজেন্সির অফিসে প্রধান আসামি বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে সাড়ে চার লাখ টাকার বিনিময়ে ভিসা করে দেওয়ার মৌখিক চুক্তি হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ভিসা সংক্রান্ত কাজ শেষ হওয়ার পর তার কাছ থেকে জোরপূর্বক ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। টাকা দেওয়ার পর তিনি পাসপোর্ট ফিরে পান।

কিন্তু ৯ জুলাই ইতালির উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে আটকে দেন। সেখানে জানানো হয়, তার পাসপোর্ট ব্যবহার করে গত ২৪ এপ্রিলই অন্য একজন ইতালি ভ্রমণ করেছেন। এরপরই তিনি গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা এখন খতিয়ে দেখছেন—

  1. কীভাবে একজনের বৈধ পাসপোর্ট ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
  2. বিমানবন্দর, ইমিগ্রেশন বা ট্রাভেল এজেন্সির কোনো পর্যায়ে জালিয়াত চক্রের সহযোগী ছিল কি না।
  3. পাসপোর্টে ছবি, বায়োমেট্রিক তথ্য বা ভিসা সংক্রান্ত নথিতে কোনো ধরনের কারসাজি করা হয়েছে কি না।
  4. এই চক্রের মাধ্যমে আরও কতজন একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
  5. বিদেশে মানবপাচার বা ভিসা জালিয়াতির সঙ্গে সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অন্যের পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশে যাওয়া শুধু প্রতারণাই নয়, এটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। এ ধরনের অপরাধে জালিয়াতি, প্রতারণা, মানবপাচার এবং তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তদন্তে অপরাধের ধরন অনুযায়ী নতুন ধারাও যুক্ত হতে পারে।

সিআইডি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া নথিপত্র, ব্যাংক লেনদেন, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সির কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে পুরো চক্রের সদস্যদের শনাক্তের কাজ চলছে। প্রয়োজনে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলেও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীতে মাদক মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আরেকজনের পাসপোর্ট দিয়ে ইতালি পাঠানোর অভিযোগ : জামিন পেলেন প্রধান আসামি

Update Time : ০৮:২৮:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

একজনের পাসপোর্ট ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তিকে ইতালি পাঠানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারের চার দিনের মাথায় প্রধান আসামি মো. বেলায়েত হোসেন জামিন পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন। তবে একই মামলার আরেক আসামি নাজমুল হাসানকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রিমান্ড শেষে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। বেলায়েত হোসেনের পক্ষে আইনজীবী জামিন আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে আদালত বেলায়েতকে জামিন দেন এবং নাজমুল হাসানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে সোমবার রাজধানীর গুলশান-১ এলাকা থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অভিযান চালিয়ে চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন আদালত দুই আসামির একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বাকি পাঁচ আসামি—মেহেদী হাসান, কাওসার হোসেন, মো. সোলাইমান সুমন, মো. তৌহিদুর রহমান ও ফজলে রাব্বীকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন  নির্যাতনের শিকার ৪১ হাজার ৫৫৫ নারী-শিশুর ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন: সংসদে মন্ত্রী

মামলার বাদী তাসলিমা আক্তার জানান, তার স্বামী প্রায় ১১ বছর ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। চার সন্তানকে নিয়ে স্বামীর কাছে যাওয়ার জন্য তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ইতালির ভিসার চেষ্টা করছিলেন।

২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিনি ঢাকায় ইতালি দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও ভিসা না পাওয়ায় তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরে দূতাবাস থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় আসামি নাজমুল হাসান ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট নবায়নের আশ্বাস দেন।

বিশ্বাস অর্জনের পর তিনি দাবি করেন, দ্রুত ইতালির ভিসার ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন। পরে গুলশানের একটি ট্রাভেল এজেন্সির অফিসে প্রধান আসামি বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে সাড়ে চার লাখ টাকার বিনিময়ে ভিসা করে দেওয়ার মৌখিক চুক্তি হয়।

আরও পড়ুন  ঢাকায় গির্জায় লুট: ফাদারের হাত-পা বেঁধে আড়াই লাখ টাকা লুট, গ্রেপ্তার ৩

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ভিসা সংক্রান্ত কাজ শেষ হওয়ার পর তার কাছ থেকে জোরপূর্বক ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। টাকা দেওয়ার পর তিনি পাসপোর্ট ফিরে পান।

কিন্তু ৯ জুলাই ইতালির উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে আটকে দেন। সেখানে জানানো হয়, তার পাসপোর্ট ব্যবহার করে গত ২৪ এপ্রিলই অন্য একজন ইতালি ভ্রমণ করেছেন। এরপরই তিনি গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা এখন খতিয়ে দেখছেন—

  1. কীভাবে একজনের বৈধ পাসপোর্ট ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
  2. বিমানবন্দর, ইমিগ্রেশন বা ট্রাভেল এজেন্সির কোনো পর্যায়ে জালিয়াত চক্রের সহযোগী ছিল কি না।
  3. পাসপোর্টে ছবি, বায়োমেট্রিক তথ্য বা ভিসা সংক্রান্ত নথিতে কোনো ধরনের কারসাজি করা হয়েছে কি না।
  4. এই চক্রের মাধ্যমে আরও কতজন একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
  5. বিদেশে মানবপাচার বা ভিসা জালিয়াতির সঙ্গে সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না।
আরও পড়ুন  কানপুরে যমজ কন্যা হত্যা, নিজেই পুলিশে ফোন করলেন বাবা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অন্যের পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশে যাওয়া শুধু প্রতারণাই নয়, এটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। এ ধরনের অপরাধে জালিয়াতি, প্রতারণা, মানবপাচার এবং তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তদন্তে অপরাধের ধরন অনুযায়ী নতুন ধারাও যুক্ত হতে পারে।

সিআইডি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া নথিপত্র, ব্যাংক লেনদেন, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সির কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে পুরো চক্রের সদস্যদের শনাক্তের কাজ চলছে। প্রয়োজনে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলেও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।