ঢাকা ০৯:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo রাজশাহীতে মাদক মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক ‘তেলাপোকাদের’, কেন প্রত্যাখ্যাত হলো বৈঠক? Logo চট্টগ্রাম লবণ কারখানা বিস্ফোরণ: দগ্ধ পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু Logo বার্ন আউল ছানা: এক বাসায় ৬টি পেঁচাশাবকের বিরল সন্ধান Logo গ্রিক ইয়োগার্ট কেন স্বাস্থ্যকর? জানুন পুষ্টিগুণ ও খাওয়ার নিয়ম Logo ভাইকিং থিমে জন্মদিন, বিলাসিতায় মুগ্ধ করলেন আর্লিং হালান্ড Logo আরেকজনের পাসপোর্ট দিয়ে ইতালি পাঠানোর অভিযোগ : জামিন পেলেন প্রধান আসামি Logo তথ্যমন্ত্রীর নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ, সতর্ক থাকার আহ্বান Logo মোদির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, আন্দোলন অব্যাহত Logo সফর সংক্ষিপ্ত করে কাল দেশে ফিরছেন স্পিকার

পার্বতীপুরে অতি দরিদ্র আদিবাসী নারীদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ

পার্বতীপুরে আদিবাসী নারীদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মন্মথপুর ইউনিয়নে অতি দরিদ্র আদিবাসী পরিবারের নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং টেকসই জীবিকায়নের লক্ষ্যে বকনা বাছুর বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং পারিবারিক আয় বৃদ্ধির পথ সুগম হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলার মন্মথপুর এলাকায় কাম টু ওয়ার্ক (সিটিডাব্লিউ) কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাদ্দাম হোসেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাম টু ওয়ার্ক (সিটিডাব্লিউ)-এর নির্বাহী পরিচালক মো. মতিউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পবিত্র কুমার। কর্মসূচির সার্বিক সমন্বয় করেন ম্যাপ ইন সিবিআর প্রকল্পের সিবিআর অফিসার সাজ্জাদুর রহমান।

আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের (বিএনএফ) আর্থিক সহায়তায় এবং কাম টু ওয়ার্ক (সিটিডাব্লিউ)-এর বাস্তবায়নে “আয় বৃদ্ধিমূলক গাভি পালন কর্মসূচি”র আওতায় এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে উপজেলার বারোকোনা চন্ডিপুর গ্রামের ছয়জন অতি দরিদ্র আদিবাসী নারীর হাতে একটি করে বকনা বাছুর তুলে দেওয়া হয়।

উপকারভোগীরা হলেন— মারসানী হেম্ব্রম, নীলা মার্ডি, দুলালী টুডু, আরতি পাউরিয়া, নকশী হাসদা এবং সোনামনি হেম্ব্রম। তাদের প্রত্যেকেই দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। গবাদিপশু পালন তাদের জন্য একটি স্থায়ী আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শুধু বকনা বাছুর বিতরণ করলেই হবে না; উপকারভোগীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা সহায়তা, টিকা প্রদান এবং পশুপালন বিষয়ে কারিগরি পরামর্শও দেওয়া হবে। এতে তারা সফলভাবে গাভি পালন করে ভবিষ্যতে দুধ উৎপাদন ও বাছুর বিক্রির মাধ্যমে নিয়মিত আয় করতে পারবেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, গবাদিপশু পালন গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার একটি কার্যকর মাধ্যম। সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে একটি বকনা বাছুর কয়েক বছরের মধ্যেই একটি পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে।

প্রধান অতিথি ইউএনও মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার এমন উদ্যোগ সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় নিয়ে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে আদিবাসী নারীদের অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করে তুলতে এ ধরনের প্রকল্প আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং উপকারভোগীদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকদের আশা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু ছয়টি পরিবার নয়, ভবিষ্যতে আরও অনেক প্রান্তিক আদিবাসী পরিবার স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে। সফলভাবে গাভি পালন করতে পারলে এসব নারী নিজেদের পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত দুধ ও গবাদিপশু বিক্রি করে স্থায়ী আয়ের উৎস গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীতে মাদক মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

পার্বতীপুরে অতি দরিদ্র আদিবাসী নারীদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ

Update Time : ০৮:০৫:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মন্মথপুর ইউনিয়নে অতি দরিদ্র আদিবাসী পরিবারের নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং টেকসই জীবিকায়নের লক্ষ্যে বকনা বাছুর বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং পারিবারিক আয় বৃদ্ধির পথ সুগম হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলার মন্মথপুর এলাকায় কাম টু ওয়ার্ক (সিটিডাব্লিউ) কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাদ্দাম হোসেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাম টু ওয়ার্ক (সিটিডাব্লিউ)-এর নির্বাহী পরিচালক মো. মতিউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পবিত্র কুমার। কর্মসূচির সার্বিক সমন্বয় করেন ম্যাপ ইন সিবিআর প্রকল্পের সিবিআর অফিসার সাজ্জাদুর রহমান।

আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের (বিএনএফ) আর্থিক সহায়তায় এবং কাম টু ওয়ার্ক (সিটিডাব্লিউ)-এর বাস্তবায়নে “আয় বৃদ্ধিমূলক গাভি পালন কর্মসূচি”র আওতায় এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে উপজেলার বারোকোনা চন্ডিপুর গ্রামের ছয়জন অতি দরিদ্র আদিবাসী নারীর হাতে একটি করে বকনা বাছুর তুলে দেওয়া হয়।

উপকারভোগীরা হলেন— মারসানী হেম্ব্রম, নীলা মার্ডি, দুলালী টুডু, আরতি পাউরিয়া, নকশী হাসদা এবং সোনামনি হেম্ব্রম। তাদের প্রত্যেকেই দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। গবাদিপশু পালন তাদের জন্য একটি স্থায়ী আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শুধু বকনা বাছুর বিতরণ করলেই হবে না; উপকারভোগীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা সহায়তা, টিকা প্রদান এবং পশুপালন বিষয়ে কারিগরি পরামর্শও দেওয়া হবে। এতে তারা সফলভাবে গাভি পালন করে ভবিষ্যতে দুধ উৎপাদন ও বাছুর বিক্রির মাধ্যমে নিয়মিত আয় করতে পারবেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, গবাদিপশু পালন গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার একটি কার্যকর মাধ্যম। সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে একটি বকনা বাছুর কয়েক বছরের মধ্যেই একটি পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে।

প্রধান অতিথি ইউএনও মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার এমন উদ্যোগ সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় নিয়ে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে আদিবাসী নারীদের অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করে তুলতে এ ধরনের প্রকল্প আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং উপকারভোগীদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকদের আশা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু ছয়টি পরিবার নয়, ভবিষ্যতে আরও অনেক প্রান্তিক আদিবাসী পরিবার স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে। সফলভাবে গাভি পালন করতে পারলে এসব নারী নিজেদের পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত দুধ ও গবাদিপশু বিক্রি করে স্থায়ী আয়ের উৎস গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।