৯ ব্যাংকে শূন্য প্রবাসী আয়, জুলাই মাসের প্রথম ২৫ দিনের রেমিট্যান্স পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে এমনই চিত্র। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে দেশে মোট ২২৯ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। তবে সব ব্যাংক সমানভাবে এই অর্থপ্রবাহের অংশীদার হতে পারেনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ৯টি ব্যাংকে এই ২৫ দিনে এক ডলারও রেমিট্যান্স জমা হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক, একটি বিশেষায়িত ব্যাংক, তিনটি বেসরকারি ব্যাংক এবং চারটি বিদেশি ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), কমিউনিটি ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, হাবিব ব্যাংক, ব্যাংক আল ফালাহ, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।
রেমিট্যান্স গ্রহণে এবারও এগিয়ে রয়েছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। জুলাইয়ের প্রথম ২৫ দিনে এসব ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৬৫ কোটি ৭১ লাখ মার্কিন ডলার। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৩ কোটি ৭১ লাখ ৭০ হাজার ডলার এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩০ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার। বিদেশি ব্যাংকের শাখাগুলোর মাধ্যমে এসেছে মাত্র ৩৬ লাখ ২০ হাজার ডলার।
ব্যাংকভিত্তিক রেমিট্যান্স সংগ্রহে শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে এসেছে ৩৫ কোটি ৭৬ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, যার মাধ্যমে এসেছে ৩০ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এই দুটি ব্যাংকই মোট প্রবাসী আয়ের বড় একটি অংশ সংগ্রহ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসীদের আস্থা, দ্রুত অর্থ প্রেরণের সুবিধা, বৈদেশিক এক্সচেঞ্জ হাউসের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা—এসব কারণেই কিছু ব্যাংক বেশি রেমিট্যান্স পাচ্ছে। অন্যদিকে যেসব ব্যাংকে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি, তাদের সেবার মান ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখতে রেমিট্যান্স অন্যতম প্রধান উৎস। তাই সব ব্যাংকের মধ্যে রেমিট্যান্স সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও আরও উপকৃত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

























