এমিলিয়ানো মার্তিনেজ আবারও বিশ্বকাপের ফাইনাল মঞ্চে। তবে চার বছর আগের সেই নায়কোচিত পারফরম্যান্সের গল্পের আড়ালে এবার লুকিয়ে আছে আরেকটি লড়াই—চোটের সঙ্গে যুদ্ধ। আর্জেন্টিনার এই গোলরক্ষক জানিয়েছেন, ডান হাতের আঙুলে গুরুতর চোট নিয়েই তিনি পুরো টুর্নামেন্ট খেলছেন। চিকিৎসকেরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণ করতে সেই পরামর্শ উপেক্ষা করেছেন তিনি।
মার্তিনেজ জানান, ইউরোপা লিগের ফাইনালের আগে অনুশীলনের সময় তাঁর আঙুলে চোট লাগে। এরপরও তিনি মাঠে নেমে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কিন্তু চোট পুরোপুরি সারেনি। বিভিন্ন দেশে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করলেও সবাই একই পরামর্শ দেন—অস্ত্রোপচার করতে হবে। কিন্তু অস্ত্রোপচার করালে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হারাতে হতো। তাই ঝুঁকি নিয়েই মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মার্তিনেজ বলেন, এখনো প্রতিদিন অনুশীলনের সময় হাতে ব্যথা অনুভব করেন। গ্রুপ পর্বে তিনি অনেকটা আলাদা হয়ে অনুশীলন করেছেন এবং বেশির ভাগ সময় বিশ্রামে ছিলেন। নকআউট পর্বে এসে ধীরে ধীরে দলের সঙ্গে স্বাভাবিক অনুশীলনে ফিরতে পেরেছেন। তাঁর ভাষায়, এখন আঙুলের অবস্থা আগের চেয়ে ভালো এবং দলের সঙ্গে পুরোপুরি অনুশীলন করতে পারছেন, যা তাঁকে আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।
২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য সেভ এবং টাইব্রেকারে কিংসলে কোমানের শট ঠেকিয়ে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন মার্তিনেজ। সেই পারফরম্যান্স তাঁকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা গোলরক্ষকের মর্যাদা এনে দেয়। তবে এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচে মাত্র দুটি ক্লিন শিট রাখতে পেরেছেন তিনি। তবুও দলের প্রয়োজনে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রেখেছেন।
মার্তিনেজের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় আর্সেনালে বের্ন্ড লেনোর চোটের পর। সুযোগ পেয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে তিনি স্থায়ীভাবে আলোচনায় আসেন। এরপর জাতীয় দলের জার্সিতে একের পর এক সাফল্য তাঁকে বিশ্বসেরা গোলরক্ষকদের কাতারে নিয়ে যায়। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে তিনি বরাবরই দলীয় সাফল্যকে বেশি গুরুত্ব দেন।
ফাইনালের আগে মার্তিনেজ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি আর একা নায়ক হতে চান না। তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সতীর্থ ও কোচের আস্থা অর্জন করা। ম্যাচে যদি এমনও হয় যে তাঁকে বড় কোনো সেভই করতে না হয়, তবুও শিরোপা জিতলে তিনি সমান আনন্দ করবেন। কারণ তাঁর বিশ্বাস, গোলরক্ষকের ব্যক্তিগত আলোচনার চেয়ে দলের জয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর প্রয়োজন হলে দলের জন্য আবারও নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে প্রস্তুত তিনি।

























