হামহাম জলপ্রপাতে আহত শিক্ষার্থীকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রায় দুই ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর নিরাপদে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি পথ ও পাথর পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হামহাম জলপ্রপাতে ঘুরতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুত উদ্ধার অভিযানের ফলে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
আহত শিক্ষার্থীর নাম তানভীর আহমদ অনিক (২৯)। তিনি ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও নয়জন সহপাঠীর সঙ্গে তিনি হামহাম জলপ্রপাত ভ্রমণে যান। দুপুরের দিকে জলপ্রপাতের পথে চলার সময় হঠাৎ পিছলে পড়ে তাঁর হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশের কারণে তিনি নিজে হাঁটতে সক্ষম হননি।
সহপাঠীরা দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে কমলগঞ্জ থানা-পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রতিকূল আবহাওয়া ও কঠিন পাহাড়ি পথ সত্ত্বেও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত শিক্ষার্থীর কাছে যায়।
উদ্ধারকাজ সহজ ছিল না। পাহাড়ি ছড়া, ভেজা পাথর ও কাদাময় পথের কারণে আহত ব্যক্তিকে স্বাভাবিকভাবে নিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই ঘটনাস্থলেই বাঁশ, বস্তা ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে একটি অস্থায়ী স্ট্রেচার তৈরি করা হয়। পরে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাঁকে কয়েক কিলোমিটার দুর্গম পথ অতিক্রম করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয়।
বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে উদ্ধার অভিযান সফলভাবে শেষ হয়। আহত তানভীর আহমদকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য নয়জন শিক্ষার্থী সুস্থ ছিলেন এবং পরে সবাই নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, বর্ষাকালে হামহাম জলপ্রপাত এলাকায় ভ্রমণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি পথ ও পাথর পিচ্ছিল থাকে, ফলে সামান্য অসাবধানতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ট্যুরিস্ট পুলিশও পর্যটকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে নেওয়া, উপযুক্ত গ্রিপযুক্ত জুতা ব্যবহার করা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম রাখা এবং দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করা জরুরি। দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করলে উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা সম্ভব হয়।
হামহাম জলপ্রপাত বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্র হলেও বর্ষার সময় সেখানে অতিরিক্ত সতর্কতা ছাড়া ভ্রমণ করা উচিত নয়। এই ঘটনাটি পর্যটকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রশাসনের পাশাপাশি পর্যটকদের সচেতন আচরণই এমন দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারে।




























