ঢাকা ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

দিনে ডেলিভারিম্যান, রাতে কবি—জিতলেন চীনের সাহিত্য পুরস্কার

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:২৬:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ৫১১

দিনে ডেলিভারি, রাতে কবিতা—ওয়াং জিবিং। ছবি: সংগৃহীত

দিনে স্কুটারে চেপে বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেন, আর রাতে লিখেন কবিতা। জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে শব্দে গেঁথে চীনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ লু শুওন লিটারারি প্রাইজ জিতেছেন ৫৭ বছর বয়সী ডেলিভারি রাইডার ওয়াং জিবিং। তাঁর কাব্যগ্রন্থ লো ফ্লাইট এ বছরের এই সম্মানজনক পুরস্কার অর্জন করেছে।

চীনের জিয়াংসু প্রদেশের বাসিন্দা ওয়াং জিবিংয়ের জীবন শুরু থেকেই ছিল সংগ্রামে ভরা। অভাবের কারণে কৈশোরেই পড়াশোনা ছাড়তে হয় তাঁকে। জীবিকার তাগিদে নির্মাণশ্রমিক, ভাঙারি সংগ্রাহক এবং ফুটপাতের দোকানদারসহ নানা ধরনের কাজ করেছেন তিনি।

২০১৯ সালে কুনশান শহরে খাবার সরবরাহকারী রাইডার হিসেবে কাজ শুরু করেন ওয়াং। এরপর স্কুটারে দেড় লাখ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়েছেন। সেই দীর্ঘ যাত্রার ফাঁকেই তিনি লিখে ফেলেছেন প্রায় ছয় হাজার কবিতা।

তাঁর জীবনের বড় মোড় আসে ২০২২ সালে। ‘ম্যান ইন আ হারি’ শিরোনামের একটি কবিতা চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভুল ঠিকানায় খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে দিনের পর দিন ভোগান্তি ও জরিমানার অভিজ্ঞতা তিনি সেই কবিতায় তুলে ধরেছিলেন।

পুরস্কারজয়ী কাব্যগ্রন্থ লো ফ্লাইট শুধু ওয়াংয়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার গল্প নয়। এতে দুই শতাধিক ডেলিভারি রাইডারের জীবনসংগ্রাম, স্বপ্ন ও প্রতিদিনের বাস্তবতা উঠে এসেছে। সাধারণ মানুষের জীবনের গভীর অনুভূতি তাঁর কবিতাকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

কাব্যগ্রন্থের একটি বহুল আলোচিত পঙ্‌ক্তিতে তিনি লিখেছেন, ‘ডানা মেলা মানেই কি উঁচুতে ওড়া? নিচু হয়ে ওড়াও তো একধরনের ওড়া।’ এই সহজ অথচ গভীর দর্শনই পাঠকদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

এত বড় স্বীকৃতি পাওয়ার পরও জীবন বদলাতে চান না ওয়াং। তিনি জানিয়েছেন, অন্তত ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত ডেলিভারির কাজ চালিয়ে যেতে চান। তাঁর বিশ্বাস, এই কাজ তাঁকে মানুষের কাছাকাছি রাখে এবং জীবনের সত্যিকারের গল্পগুলো জানার সুযোগ করে দেয়।

ওয়াং জিবিংয়ের গল্প প্রমাণ করে, প্রতিভা কোনো পেশা বা সামাজিক অবস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জীবনের সংগ্রাম, পরিশ্রম আর মানুষের প্রতি গভীর অনুভূতি থাকলে সাধারণ একজন ডেলিভারিম্যানও একদিন দেশের অন্যতম সেরা সাহিত্য পুরস্কারের মঞ্চে জায়গা করে নিতে পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূগর্ভস্থ পানিতে নতুন হুমকি, ম্যাঙ্গানিজে ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

দিনে ডেলিভারিম্যান, রাতে কবি—জিতলেন চীনের সাহিত্য পুরস্কার

Update Time : ০৯:২৬:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

দিনে স্কুটারে চেপে বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেন, আর রাতে লিখেন কবিতা। জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে শব্দে গেঁথে চীনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ লু শুওন লিটারারি প্রাইজ জিতেছেন ৫৭ বছর বয়সী ডেলিভারি রাইডার ওয়াং জিবিং। তাঁর কাব্যগ্রন্থ লো ফ্লাইট এ বছরের এই সম্মানজনক পুরস্কার অর্জন করেছে।

চীনের জিয়াংসু প্রদেশের বাসিন্দা ওয়াং জিবিংয়ের জীবন শুরু থেকেই ছিল সংগ্রামে ভরা। অভাবের কারণে কৈশোরেই পড়াশোনা ছাড়তে হয় তাঁকে। জীবিকার তাগিদে নির্মাণশ্রমিক, ভাঙারি সংগ্রাহক এবং ফুটপাতের দোকানদারসহ নানা ধরনের কাজ করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন  কুদনকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তথ্য ফাঁস

২০১৯ সালে কুনশান শহরে খাবার সরবরাহকারী রাইডার হিসেবে কাজ শুরু করেন ওয়াং। এরপর স্কুটারে দেড় লাখ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়েছেন। সেই দীর্ঘ যাত্রার ফাঁকেই তিনি লিখে ফেলেছেন প্রায় ছয় হাজার কবিতা।

তাঁর জীবনের বড় মোড় আসে ২০২২ সালে। ‘ম্যান ইন আ হারি’ শিরোনামের একটি কবিতা চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভুল ঠিকানায় খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে দিনের পর দিন ভোগান্তি ও জরিমানার অভিজ্ঞতা তিনি সেই কবিতায় তুলে ধরেছিলেন।

আরও পড়ুন  তেলের বাজার উন্মুক্ত না করলে খেসারত নিশ্চিত: ইরানের হুঁশিয়ারি

পুরস্কারজয়ী কাব্যগ্রন্থ লো ফ্লাইট শুধু ওয়াংয়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার গল্প নয়। এতে দুই শতাধিক ডেলিভারি রাইডারের জীবনসংগ্রাম, স্বপ্ন ও প্রতিদিনের বাস্তবতা উঠে এসেছে। সাধারণ মানুষের জীবনের গভীর অনুভূতি তাঁর কবিতাকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

কাব্যগ্রন্থের একটি বহুল আলোচিত পঙ্‌ক্তিতে তিনি লিখেছেন, ‘ডানা মেলা মানেই কি উঁচুতে ওড়া? নিচু হয়ে ওড়াও তো একধরনের ওড়া।’ এই সহজ অথচ গভীর দর্শনই পাঠকদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

এত বড় স্বীকৃতি পাওয়ার পরও জীবন বদলাতে চান না ওয়াং। তিনি জানিয়েছেন, অন্তত ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত ডেলিভারির কাজ চালিয়ে যেতে চান। তাঁর বিশ্বাস, এই কাজ তাঁকে মানুষের কাছাকাছি রাখে এবং জীবনের সত্যিকারের গল্পগুলো জানার সুযোগ করে দেয়।

আরও পড়ুন  মজুরি থেকে কর : জুলাইয়ে বদলাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

ওয়াং জিবিংয়ের গল্প প্রমাণ করে, প্রতিভা কোনো পেশা বা সামাজিক অবস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জীবনের সংগ্রাম, পরিশ্রম আর মানুষের প্রতি গভীর অনুভূতি থাকলে সাধারণ একজন ডেলিভারিম্যানও একদিন দেশের অন্যতম সেরা সাহিত্য পুরস্কারের মঞ্চে জায়গা করে নিতে পারেন।