দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৩৩৮ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ১৯৫ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডেঙ্গুর সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ব্যক্তির বাড়ি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায়। নতুন আক্রান্তদের দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে যেখানে এডিস মশার প্রজনন বেশি, সেসব এলাকায় সংক্রমণের ঝুঁকিও বেশি দেখা যাচ্ছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১১ হাজার ১৯৫ জন। একই সময়ে ডেঙ্গুজনিত জটিলতায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৮ জন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে যদি মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার না করা হয় এবং মানুষ ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক না হন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস মশা পরিষ্কার ও জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পুরোনো টায়ার, ডাবের খোসা বা যেকোনো পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সেখানে সহজেই মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। তাই মশার বিস্তার রোধে উৎসস্থল ধ্বংস করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীরে র্যাশ, বমি বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে পর্যাপ্ত পানি পান, বিশ্রাম এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজে থেকে ওষুধ সেবন না করারও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনগুলোকে মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমতে না দেওয়া, মশারি ব্যবহার এবং মশা প্রতিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

























