ঢাকা ০২:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চন্দনাইশে বন্যাদুর্গত রংমিস্ত্রিদের পাশে বাংলাদেশ রংমিস্ত্রি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ Logo জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য ফাঁস: প্রতারণার নতুন কৌশল সামনে Logo এস আলম গ্রুপ অর্থ পাচার, বিএফআইইউ প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য Logo টিস্যু কালচার চারা, দুর্দান্ত প্রযুক্তিতে বদলাচ্ছে বাণিজ্যিক কৃষি Logo রুনা লায়লার কনসার্ট এবার শুধু সংগীতের আসর নয়,একটি মানবিক উদ্যোগ। Logo ইরান যুদ্ধের খরচে চাপে পেন্টাগন, ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার ব্যয়ের দাবি Logo স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি, আজ থেকে কার্যকর নতুন দর Logo ডলার রেট আজ: কত টাকায় মিলছে ডলার-ইউরো-রুপি? Logo ১৪ বছরের অভিনয় জীবনের সেরা স্বীকৃতি পেলেন ইয়ামি গৌতম Logo বিকালে বাবার দাফন শেষে রাতে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থী

এস আলম গ্রুপ অর্থ পাচার, বিএফআইইউ প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৪

বিএফআইইউ প্রতিবেদনে এস আলম গ্রুপের অর্থ পাচারের অভিযোগের তথ্য উঠে এসেছে। | ছবি: সংগৃহীত

এস আলম গ্রুপ অর্থ পাচার নিয়ে বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে দেশের কয়েকটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেয় শিল্পগোষ্ঠীটি। এরপর ঋণের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ বের করে বিদেশে পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিএফআইইউর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে ‘এস গ্রুপ’ নামে একটি কেস স্টাডি প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা এই ‘এস গ্রুপ’ মূলত এস আলম গ্রুপকে বোঝানো হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুর্বলতা, নিয়ন্ত্রণহীন ঋণ বিতরণ এবং রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে এই অর্থনৈতিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপ রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করে ৭টি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। পরে এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নামে-বেনামে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা সরাসরি ৪৩টি প্রতিষ্ঠানের নামে এবং প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন বেনামি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএফআইইউ জানিয়েছে, এত বড় অঙ্কের ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত রাখা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পদের বাজারমূল্য ছিল মাত্র প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। সংস্থাটির মতে, এটি দেশের ঋণ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি মূল্যায়ন কাঠামোর বড় ধরনের দুর্বলতার উদাহরণ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে সরিয়ে নিতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়াল, হুন্ডি এবং বিভিন্ন ট্রাস্ট অ্যাকাউন্টের ব্যবহার। বিএফআইইউর তথ্য অনুযায়ী, পাচার করা অর্থের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সাইপ্রাস ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে।

এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর নিজেদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও সহযোগীদের মাধ্যমে ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন কাল্পনিক বা শেল কোম্পানির মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের ব্যাংকিং খাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তা শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ব্যাংকের আমানতকারী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের আস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়ে।

বিএফআইইউ বলেছে, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিদেশি সম্পদ, আন্তর্জাতিক লেনদেন এবং বিভিন্ন দেশের নাগরিকত্বের বিষয়গুলো আইনি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।

এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এস আলম গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিএফআইইউ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা অভিযোগের বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

চন্দনাইশে বন্যাদুর্গত রংমিস্ত্রিদের পাশে বাংলাদেশ রংমিস্ত্রি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ

এস আলম গ্রুপ অর্থ পাচার, বিএফআইইউ প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

Update Time : ০১:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

এস আলম গ্রুপ অর্থ পাচার নিয়ে বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে দেশের কয়েকটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেয় শিল্পগোষ্ঠীটি। এরপর ঋণের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ বের করে বিদেশে পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিএফআইইউর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে ‘এস গ্রুপ’ নামে একটি কেস স্টাডি প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা এই ‘এস গ্রুপ’ মূলত এস আলম গ্রুপকে বোঝানো হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুর্বলতা, নিয়ন্ত্রণহীন ঋণ বিতরণ এবং রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে এই অর্থনৈতিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।

আরও পড়ুন  বন্যায় কৃষি ক্ষতি: ৪৮৮ কোটি টাকার ধাক্কা, বড় সতর্কবার্তা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপ রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করে ৭টি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। পরে এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নামে-বেনামে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা সরাসরি ৪৩টি প্রতিষ্ঠানের নামে এবং প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন বেনামি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএফআইইউ জানিয়েছে, এত বড় অঙ্কের ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত রাখা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পদের বাজারমূল্য ছিল মাত্র প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। সংস্থাটির মতে, এটি দেশের ঋণ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি মূল্যায়ন কাঠামোর বড় ধরনের দুর্বলতার উদাহরণ।

আরও পড়ুন  বন্ধ কলকারখানা চালুতে কাজ করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে সরিয়ে নিতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়াল, হুন্ডি এবং বিভিন্ন ট্রাস্ট অ্যাকাউন্টের ব্যবহার। বিএফআইইউর তথ্য অনুযায়ী, পাচার করা অর্থের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সাইপ্রাস ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে।

এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর নিজেদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও সহযোগীদের মাধ্যমে ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন কাল্পনিক বা শেল কোম্পানির মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  মুদ্রা বিনিময় হার: দেখুন সর্বশেষ ডলার, ইউরো ও রুপির নতুন দর

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের ব্যাংকিং খাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তা শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ব্যাংকের আমানতকারী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের আস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়ে।

বিএফআইইউ বলেছে, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিদেশি সম্পদ, আন্তর্জাতিক লেনদেন এবং বিভিন্ন দেশের নাগরিকত্বের বিষয়গুলো আইনি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।

এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এস আলম গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিএফআইইউ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা অভিযোগের বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।