ঢাকা ০১:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo দুর্যোগে বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন: রাষ্ট্রদূত Logo এনসিপির কার্যালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত Logo বাংলাদেশের পাসপোর্ট আরও দুর্বল, উগান্ডাও এখন অনেক এগিয়ে Logo বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সুখবর, বেড়ে ছাড়াল ৩৬.৪৬ বিলিয়ন ডলার Logo শিশুদের অতিরিক্ত ওজন কমাতে কার্যকর হতে পারে জিএলপি-১ ইনজেকশন Logo ভেজানো কিশমিশে উপকারিতা: প্রতিদিন খেলে শরীরে কী পরিবর্তন হয়? Logo ট্রাম্পের চুক্তিতে সৌদির পারমাণবিক কর্মসূচিতে বড় পরিবর্তন Logo হিটলারের জন্মবাড়িতে এবার থানা, কেন নিল অস্ট্রিয়ার এই সিদ্ধান্ত? Logo অরিজিৎ সিং ফিরলেন: ‘আওয়ারাপন ২’-এর নতুন গানে আবেগঘন প্রত্যাবর্তন Logo আনারস খেলে কী উপকার? জানুন ১০টি চমকপ্রদ স্বাস্থ্যগুণ

বাংলাদেশের পাসপোর্ট আরও দুর্বল, উগান্ডাও এখন অনেক এগিয়ে

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৫৯:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ৫১০

ভিসামুক্ত ভ্রমণে পিছিয়ে বাংলাদেশ, পাসপোর্ট শক্তিতে এগিয়ে উগান্ডা।

বাংলাদেশি পাসপোর্টের আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও দুর্বল হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের নাগরিকেরা আগাম ভিসা ছাড়াই বা অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধায় ভ্রমণ করতে পারেন মাত্র ৩৫টি দেশে। অন্যদিকে, অনেকের কাছে তুলনামূলকভাবে কম উন্নত দেশ হিসেবে পরিচিত উগান্ডার নাগরিকেরা একই সুবিধা পান ৬৫টি দেশে। ফলে আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট শক্তির সূচকে বাংলাদেশ আরও পিছিয়ে পড়েছে।

হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের প্রকাশিত সর্বশেষ পাসপোর্ট সূচকের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশি পাসপোর্টের সক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২৪ সালের শুরুতে বাংলাদেশের নাগরিকেরা ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা নিয়ে ৪২টি দেশে যেতে পারতেন। ২০২৫ সালের শুরুতে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৩৯-এ। বর্তমানে তা আরও কমে ৩৫টিতে নেমে এসেছে।

অর্থাৎ মাত্র আড়াই বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের পাসপোর্টে ভ্রমণ সুবিধা পাওয়া দেশের সংখ্যা সাতটি কমেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কূটনৈতিক সমঝোতা, নিরাপত্তা নীতি এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনার মতো বিভিন্ন বিষয় একটি দেশের পাসপোর্টের শক্তির ওপর প্রভাব ফেলে। তাই এই অবনমনকে কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং বৈশ্বিক অবস্থানেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশে প্রায়ই কোনো অব্যবস্থা বা বিশৃঙ্খলার উদাহরণ দিতে গিয়ে অনেকে ‘দেশটা উগান্ডা হয়ে গেল’—এমন মন্তব্য করেন। তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট শক্তির দিক থেকে উগান্ডা এখন বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। উগান্ডার নাগরিকেরা অন-অ্যারাইভাল বা ভিসামুক্ত সুবিধায় ৬৫টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন, যা বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের পাসপোর্টের শক্তি শুধু ভ্রমণের সুবিধা নয়, বরং সেই দেশের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক আস্থারও প্রতিফলন। শক্তিশালী পাসপোর্ট থাকলে ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা, পর্যটন এবং বিনিয়োগসহ নানা ক্ষেত্রে নাগরিকরা সহজে আন্তর্জাতিক সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভিসামুক্ত গন্তব্য কমে যাওয়ায় বিদেশ ভ্রমণে আগ্রহী নাগরিকদের অতিরিক্ত সময়, খরচ এবং ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং পর্যটকদের জন্য এই পরিস্থিতি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ফলে আন্তর্জাতিক যোগাযোগে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে আরও বেশি দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, দ্বিপাক্ষিক ভিসা চুক্তি সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক আস্থা বৃদ্ধি করতে পারলে বাংলাদেশি পাসপোর্টের অবস্থান আবারও উন্নত হতে পারে। একই সঙ্গে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং বৈদেশিক সম্পর্কের উন্নয়নও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের পাসপোর্ট সূচক বিশ্বব্যাপী অন্যতম গ্রহণযোগ্য সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সূচকে একটি দেশের নাগরিকেরা কতটি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় ভ্রমণ করতে পারেন, তার ভিত্তিতেই পাসপোর্টের শক্তি নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের জন্য এই সূচকটি আরও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্যোগে বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন: রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশের পাসপোর্ট আরও দুর্বল, উগান্ডাও এখন অনেক এগিয়ে

Update Time : ১১:৫৯:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশি পাসপোর্টের আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও দুর্বল হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের নাগরিকেরা আগাম ভিসা ছাড়াই বা অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধায় ভ্রমণ করতে পারেন মাত্র ৩৫টি দেশে। অন্যদিকে, অনেকের কাছে তুলনামূলকভাবে কম উন্নত দেশ হিসেবে পরিচিত উগান্ডার নাগরিকেরা একই সুবিধা পান ৬৫টি দেশে। ফলে আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট শক্তির সূচকে বাংলাদেশ আরও পিছিয়ে পড়েছে।

হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের প্রকাশিত সর্বশেষ পাসপোর্ট সূচকের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশি পাসপোর্টের সক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২৪ সালের শুরুতে বাংলাদেশের নাগরিকেরা ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা নিয়ে ৪২টি দেশে যেতে পারতেন। ২০২৫ সালের শুরুতে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৩৯-এ। বর্তমানে তা আরও কমে ৩৫টিতে নেমে এসেছে।

অর্থাৎ মাত্র আড়াই বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের পাসপোর্টে ভ্রমণ সুবিধা পাওয়া দেশের সংখ্যা সাতটি কমেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কূটনৈতিক সমঝোতা, নিরাপত্তা নীতি এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনার মতো বিভিন্ন বিষয় একটি দেশের পাসপোর্টের শক্তির ওপর প্রভাব ফেলে। তাই এই অবনমনকে কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং বৈশ্বিক অবস্থানেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশে প্রায়ই কোনো অব্যবস্থা বা বিশৃঙ্খলার উদাহরণ দিতে গিয়ে অনেকে ‘দেশটা উগান্ডা হয়ে গেল’—এমন মন্তব্য করেন। তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট শক্তির দিক থেকে উগান্ডা এখন বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। উগান্ডার নাগরিকেরা অন-অ্যারাইভাল বা ভিসামুক্ত সুবিধায় ৬৫টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন, যা বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের পাসপোর্টের শক্তি শুধু ভ্রমণের সুবিধা নয়, বরং সেই দেশের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক আস্থারও প্রতিফলন। শক্তিশালী পাসপোর্ট থাকলে ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা, পর্যটন এবং বিনিয়োগসহ নানা ক্ষেত্রে নাগরিকরা সহজে আন্তর্জাতিক সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভিসামুক্ত গন্তব্য কমে যাওয়ায় বিদেশ ভ্রমণে আগ্রহী নাগরিকদের অতিরিক্ত সময়, খরচ এবং ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং পর্যটকদের জন্য এই পরিস্থিতি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ফলে আন্তর্জাতিক যোগাযোগে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে আরও বেশি দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, দ্বিপাক্ষিক ভিসা চুক্তি সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক আস্থা বৃদ্ধি করতে পারলে বাংলাদেশি পাসপোর্টের অবস্থান আবারও উন্নত হতে পারে। একই সঙ্গে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং বৈদেশিক সম্পর্কের উন্নয়নও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের পাসপোর্ট সূচক বিশ্বব্যাপী অন্যতম গ্রহণযোগ্য সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সূচকে একটি দেশের নাগরিকেরা কতটি দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধায় ভ্রমণ করতে পারেন, তার ভিত্তিতেই পাসপোর্টের শক্তি নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের জন্য এই সূচকটি আরও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।