ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

লোহাগাড়ায় ৬৩ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, ৬ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৬:৩৬:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৭

লোহাগাড়ায় চারটি পৃথক অভিযানে ৬৩ হাজার ৬৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক দম্পতিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।সংগৃহীত

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পৃথক চারটি অভিযানে ৬৩ হাজার ৬৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সনাক্ত করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক পাচারের অভিযোগে এক দম্পতি, একটি জিপের চালক এবং আরও তিনজনসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি বিলাসবহুল টয়োটা জিপ ও একটি মোটরসাইকেল আটক করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় পরিচালিত সবচেয়ে বড় মাদকবিরোধী অভিযানের অন্যতম এটি।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর থেকে দিবাগত রাত পর্যন্ত উপজেলার চুনতি ও আমিরাবাদ এলাকায় ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে লোহাগাড়া থানা পুলিশ। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হয়। প্রতিটি অভিযানে পুলিশের বিশেষ নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালিত হয়। এর ফলেই একের পর এক ইয়াবার চালান জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।

পুলিশ জানায়, রাত ১০টা ১৫ মিনিটে চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় চেকপোস্টে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী একটি টয়োটা জিপকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। কিন্তু চালক পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহর নির্দেশনায় থানা ভবনের সামনে কৌশলগত ব্যারিকেড দিয়ে গাড়িটি আটক করা হয়। এরপর শুরু হয় বিস্তারিত তল্লাশি।

তল্লাশির সময় জিপটির ইঞ্জিনের বাম পাশে বিশেষভাবে তৈরি একটি গোপন চেম্বার থেকে ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই আল মামুন (৪০), তার স্ত্রী ইসমাত জেরিন (৩৮) এবং গাড়ির চালক মোহাম্মদ আলীকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আল মামুনের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে। বিষয়টি আরও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

একই দিন বিকেলে আমিরাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের সামনে স্থাপিত চেকপোস্টে হানিফ সুপার বাসের যাত্রী মো. সিদ্দিকের (৪৮) আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পেটের ভেতরে ইয়াবা বহনের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে পরীক্ষা করা হলে তার শরীর থেকে ৭৬৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে চুনতি এলাকায় আরেকটি চেকপোস্টে একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ। মোটরসাইকেলের গিয়ার বক্সে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা দুই হাজার পিস ইয়াবা মেলে। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক ইলিয়াছ হাবিবকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়।

অভিযান শেষ হওয়ার আগেই দিবাগত রাত ২টার দিকে একই এলাকায় হানিফ সুপার বাসের আরেক যাত্রী মিজানুর রহমানের (২৯) দেহ তল্লাশি করে আরও ৩০০ পিস ইয়াবা মেলে। পরে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। চারটি পৃথক অভিযানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৩ হাজার ৬৮ পিস। পুলিশের দাবি, এসব ইয়াবা কক্সবাজার সীমান্ত এলাকা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল।

লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। পৃথক চারটি ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার সকালে গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ব্যবহার করে কোনো মাদকচক্র যাতে ইয়াবা পাচার করতে না পারে, সে লক্ষ্যে নিয়মিত চেকপোস্ট, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তথ্যমন্ত্রীর নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ, সতর্ক থাকার আহ্বান

লোহাগাড়ায় ৬৩ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, ৬ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

Update Time : ০৬:৩৬:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পৃথক চারটি অভিযানে ৬৩ হাজার ৬৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সনাক্ত করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক পাচারের অভিযোগে এক দম্পতি, একটি জিপের চালক এবং আরও তিনজনসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি বিলাসবহুল টয়োটা জিপ ও একটি মোটরসাইকেল আটক করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় পরিচালিত সবচেয়ে বড় মাদকবিরোধী অভিযানের অন্যতম এটি।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর থেকে দিবাগত রাত পর্যন্ত উপজেলার চুনতি ও আমিরাবাদ এলাকায় ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে লোহাগাড়া থানা পুলিশ। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হয়। প্রতিটি অভিযানে পুলিশের বিশেষ নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালিত হয়। এর ফলেই একের পর এক ইয়াবার চালান জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।

পুলিশ জানায়, রাত ১০টা ১৫ মিনিটে চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় চেকপোস্টে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী একটি টয়োটা জিপকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। কিন্তু চালক পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহর নির্দেশনায় থানা ভবনের সামনে কৌশলগত ব্যারিকেড দিয়ে গাড়িটি আটক করা হয়। এরপর শুরু হয় বিস্তারিত তল্লাশি।

তল্লাশির সময় জিপটির ইঞ্জিনের বাম পাশে বিশেষভাবে তৈরি একটি গোপন চেম্বার থেকে ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই আল মামুন (৪০), তার স্ত্রী ইসমাত জেরিন (৩৮) এবং গাড়ির চালক মোহাম্মদ আলীকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আল মামুনের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে। বিষয়টি আরও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

একই দিন বিকেলে আমিরাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের সামনে স্থাপিত চেকপোস্টে হানিফ সুপার বাসের যাত্রী মো. সিদ্দিকের (৪৮) আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পেটের ভেতরে ইয়াবা বহনের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে পরীক্ষা করা হলে তার শরীর থেকে ৭৬৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে চুনতি এলাকায় আরেকটি চেকপোস্টে একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ। মোটরসাইকেলের গিয়ার বক্সে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা দুই হাজার পিস ইয়াবা মেলে। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক ইলিয়াছ হাবিবকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়।

অভিযান শেষ হওয়ার আগেই দিবাগত রাত ২টার দিকে একই এলাকায় হানিফ সুপার বাসের আরেক যাত্রী মিজানুর রহমানের (২৯) দেহ তল্লাশি করে আরও ৩০০ পিস ইয়াবা মেলে। পরে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। চারটি পৃথক অভিযানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৩ হাজার ৬৮ পিস। পুলিশের দাবি, এসব ইয়াবা কক্সবাজার সীমান্ত এলাকা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল।

লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। পৃথক চারটি ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার সকালে গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ব্যবহার করে কোনো মাদকচক্র যাতে ইয়াবা পাচার করতে না পারে, সে লক্ষ্যে নিয়মিত চেকপোস্ট, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।