ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পিটিশনে ৯৫ হাজার সই, পরাজয় মেনে নিতে বললেন এফএ সভাপতি Logo বেলুচি চিকেন কড়াই রেসিপি: কম মসলায় দারুণ স্বাদ Logo গ্যাস-অ্যাসিডিটি থেকে স্বস্তি পেতে আদা কতটা উপকারী, জানালেন পুষ্টিবিদ Logo গর্ভাবস্থায় উড়োজাহাজে ভ্রমণ নিরাপদ? জানুন চিকিৎসকের পরামর্শ Logo ঘরেই বানান রেস্টুরেন্ট-স্টাইল চিকেন মিট বক্স, স্বাদে সবাই হবে মুগ্ধ Logo চরম গরমে বদলাচ্ছে ভ্রমণ, জনপ্রিয় হচ্ছে কুলকেশন Logo প্রতিদিন ১টি পেয়ারা খেলে মিলতে পারে যেসব স্বাস্থ্য উপকারিতা Logo চন্দনাইশে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ: খুনিয়া পাড়ায় ভেঙে পড়া রিটেইনিং ওয়াল, বর্ষায় পথ যেন জলাভূমি Logo বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা কুর্মিটোলা হাসপাতালে ৩ বস্তিবাসীর জন্য শুরু Logo যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ পেল সর্বনিম্ন ১০% শুল্ক সুবিধা

শুল্কে চাপ: বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের প্রভাব

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:৪৫:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৭

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নিয়ে বিশ্লেষণ। ছবি: সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য আবারও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। তবে বিষয়টি শুনতে যতটা বড় মনে হচ্ছে, বাস্তবে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের মোট শুল্কহার খুব বেশি পরিবর্তন হচ্ছে না। কারণ, আগে থেকেই একই পরিমাণ শুল্ক কার্যকর ছিল এবং সেটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন আইনের আওতায় আবারও একই হার বহাল রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্র দেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার। প্রতি বছর কয়েক বিলিয়ন ডলারের পণ্য সেখানে রপ্তানি হয়, যার প্রায় ৮৫ শতাংশই তৈরি পোশাক। ফলে শুল্কসংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত সরাসরি রপ্তানিকারক, কারখানা মালিক এবং শ্রমবাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এবার নতুন শুল্ক কার্যকরের ফলে তাৎক্ষণিক অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে না, তারপরও ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তা পুরোপুরি কাটেনি।

কারণ, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে আরও একটি পৃথক তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা এবং জোরপূর্বক শ্রমসংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে যদি নতুন কোনো শুল্ক বা বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আসে, তাহলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে স্বস্তির খবরও রয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশ ভারত, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার ওপরও একই ধরনের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে না। এ কারণেই রপ্তানিকারকদের অনেকেই মনে করছেন, বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আপাতত আগের মতোই থাকবে। তবে ক্রেতারা শুল্কের সম্ভাব্য ব্যয় ধরেই দর-কষাকষি চালিয়ে যাওয়ায় রপ্তানিকারকদের লাভের মার্জিন কিছুটা কমতে পারে।

পরিসংখ্যান বলছে, পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার পরও সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ শুল্ক থাকা সত্ত্বেও মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা পুরোপুরি কমে যায়নি। তবে ব্যবসায়ীরা আশা করেছিলেন, অতিরিক্ত শুল্ক উঠে গেলে অর্ডার আরও বাড়বে। নতুন সিদ্ধান্তে সেই প্রত্যাশা আপাতত পিছিয়ে গেল।

সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক নয়, বরং চলমান তদন্তের ফলাফল। যদি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বেশি শুল্ক নির্ধারণ করা হয়, তাহলে রপ্তানি খাত চাপের মুখে পড়তে পারে। আর যদি সবাই একই ধরনের শুল্ক কাঠামোর মধ্যে থাকে, তাহলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার সুযোগ থাকবে। তাই এখন ব্যবসায়ীদের নজর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং ইউএসটিআরের তদন্ত প্রতিবেদনের দিকেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

পিটিশনে ৯৫ হাজার সই, পরাজয় মেনে নিতে বললেন এফএ সভাপতি

শুল্কে চাপ: বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের প্রভাব

Update Time : ০৫:৪৫:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য আবারও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। তবে বিষয়টি শুনতে যতটা বড় মনে হচ্ছে, বাস্তবে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের মোট শুল্কহার খুব বেশি পরিবর্তন হচ্ছে না। কারণ, আগে থেকেই একই পরিমাণ শুল্ক কার্যকর ছিল এবং সেটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন আইনের আওতায় আবারও একই হার বহাল রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্র দেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার। প্রতি বছর কয়েক বিলিয়ন ডলারের পণ্য সেখানে রপ্তানি হয়, যার প্রায় ৮৫ শতাংশই তৈরি পোশাক। ফলে শুল্কসংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত সরাসরি রপ্তানিকারক, কারখানা মালিক এবং শ্রমবাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এবার নতুন শুল্ক কার্যকরের ফলে তাৎক্ষণিক অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে না, তারপরও ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তা পুরোপুরি কাটেনি।

আরও পড়ুন  পাবনার হোসিয়ারিশিল্প সংকটে, ভারত রপ্তানি বন্ধে বন্ধ হচ্ছে কারখানা

কারণ, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে আরও একটি পৃথক তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা এবং জোরপূর্বক শ্রমসংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে যদি নতুন কোনো শুল্ক বা বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আসে, তাহলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন  মাছের ব্যবসায় বড় বিনিয়োগ, চট্টগ্রামে নেটওয়ার্ক বাড়াচ্ছে শপআপ

অন্যদিকে স্বস্তির খবরও রয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশ ভারত, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার ওপরও একই ধরনের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে না। এ কারণেই রপ্তানিকারকদের অনেকেই মনে করছেন, বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আপাতত আগের মতোই থাকবে। তবে ক্রেতারা শুল্কের সম্ভাব্য ব্যয় ধরেই দর-কষাকষি চালিয়ে যাওয়ায় রপ্তানিকারকদের লাভের মার্জিন কিছুটা কমতে পারে।

পরিসংখ্যান বলছে, পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার পরও সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ শুল্ক থাকা সত্ত্বেও মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা পুরোপুরি কমে যায়নি। তবে ব্যবসায়ীরা আশা করেছিলেন, অতিরিক্ত শুল্ক উঠে গেলে অর্ডার আরও বাড়বে। নতুন সিদ্ধান্তে সেই প্রত্যাশা আপাতত পিছিয়ে গেল।

আরও পড়ুন  এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাধা হিসেবে বিবেচিত হবে ইসরায়েল: বিশ্লেষক

সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক নয়, বরং চলমান তদন্তের ফলাফল। যদি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বেশি শুল্ক নির্ধারণ করা হয়, তাহলে রপ্তানি খাত চাপের মুখে পড়তে পারে। আর যদি সবাই একই ধরনের শুল্ক কাঠামোর মধ্যে থাকে, তাহলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার সুযোগ থাকবে। তাই এখন ব্যবসায়ীদের নজর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং ইউএসটিআরের তদন্ত প্রতিবেদনের দিকেই।