ঢাকা ০২:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: আতঙ্ক নয়, বৈজ্ঞানিক যাচাইয়ের আহ্বান Logo ৪৪ রাষ্ট্রীয় শিল্প ইজারা নয়, প্রতিরোধের ডাক জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল Logo ছোট আঁচড়, বড় বিপদ! পোষা প্রাণীর কামড়ে জলাতঙ্কের ঝুঁকি Logo রাকসু ভিপি সাংবাদিকদের সতর্কবার্তা দিলেন Logo চট্টগ্রাম ওয়াসা: সিস্টেম লসে ৭৮ কোটি টাকার পানি Logo আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সঞ্চয়পত্র, বাড়ছে বিনিয়োগকারীর আগ্রহ Logo কুমিল্লা মাদক ধ্বংস: বিজিবির বড় অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য Logo শাহজালাল বিমানবন্দরে ৯২ লাখ টাকার সোনার বার উদ্ধার Logo সকালের মধ্যে ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত Logo ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা নিবাস কারাগারে, রিমান্ড শুনানি রবিবার

৪৪ রাষ্ট্রীয় শিল্প ইজারা নয়, প্রতিরোধের ডাক জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:০১:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৯

"লোকসানের অজুহাতে রাষ্ট্রীয় শিল্প ইজারা নয়—৪৪ প্রতিষ্ঠান রক্ষায় প্রতিরোধের ডাক জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের।" (সংগৃহীত)

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৪৪টি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ইজারা বা বিক্রির সরকারি উদ্যোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল। সোমবার (২৮ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতারা সরকারের পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় শিল্পকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের উদ্যোগ জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে এবং এটি দেশের শিল্পভিত্তিকে আরও দুর্বল করে তুলবে।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলেও দেশের অর্থনীতি এখনো লুণ্ঠনভিত্তিক ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর প্রভাব থেকে মুক্ত হয়নি। তাঁর ভাষ্য, বাজারে সিন্ডিকেটের আধিপত্য এবং কর্মসংস্থানের সংকট দেশের তরুণ সমাজকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের শিল্পায়নকে শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ভারী শিল্প ও উৎপাদন খাত সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু সরকার সেই পথ অনুসরণ না করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ইজারা বা বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতি ও শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে দাবি করেন তিনি।

ফয়জুল হাকিম অভিযোগ করেন, চিনিকল, পাটকলসহ জনগণের মালিকানাধীন ৪৪টি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার পরিবর্তে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত জনগণের কল্যাণে নয়; বরং একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের নেতা হেমন্ত দাশ বলেন, দেশের শিল্প ও কৃষির স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের সময়ে সম্পাদিত পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, দেশের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে বিদেশি প্রভাব গ্রহণযোগ্য নয় এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

সংগঠনের আরেক নেতা দীপা মল্লিক বলেন, ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২৫টি পাটকল ও ৬টি চিনিকল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। তিনি অভিযোগ করেন, এসব প্রতিষ্ঠানের লোকসানের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কোনো সরকারই নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করেনি।

দীপা মল্লিকের মতে, দুর্নীতি, শিল্প আধুনিকায়নে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাব এবং আমলাদের সঙ্গে ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর যোগসাজশের কারণেই রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এসব সমস্যা সমাধান না করে শিল্প ইজারা বা বিক্রি করলে দেশের উৎপাদনশীল খাত আরও সংকুচিত হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের নেতা সাইফুর রুদ্রও। তিনি বলেন, ২০০২ সালে বিএনপি সরকারের সময়ে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক কর্মসূচির মাধ্যমে আদমজী জুট মিল বন্ধ করা হয়েছিল। সে সময় আওয়ামী লীগও কার্যকরভাবে ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সাইফুর রুদ্র দাবি করেন, বর্তমানে ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প ইজারা বা বিক্রির উদ্যোগের ক্ষেত্রেও বড় রাজনৈতিক দলগুলো কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছে। তিনি শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে রাষ্ট্রীয় শিল্প রক্ষার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, রাষ্ট্রীয় শিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে জনসম্পৃক্ত প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর পথ।

জনপ্রিয় সংবাদ

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: আতঙ্ক নয়, বৈজ্ঞানিক যাচাইয়ের আহ্বান

৪৪ রাষ্ট্রীয় শিল্প ইজারা নয়, প্রতিরোধের ডাক জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল

Update Time : ০১:০১:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৪৪টি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ইজারা বা বিক্রির সরকারি উদ্যোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল। সোমবার (২৮ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতারা সরকারের পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় শিল্পকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের উদ্যোগ জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে এবং এটি দেশের শিল্পভিত্তিকে আরও দুর্বল করে তুলবে।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলেও দেশের অর্থনীতি এখনো লুণ্ঠনভিত্তিক ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর প্রভাব থেকে মুক্ত হয়নি। তাঁর ভাষ্য, বাজারে সিন্ডিকেটের আধিপত্য এবং কর্মসংস্থানের সংকট দেশের তরুণ সমাজকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের শিল্পায়নকে শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ভারী শিল্প ও উৎপাদন খাত সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু সরকার সেই পথ অনুসরণ না করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ইজারা বা বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতি ও শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন  জ্ঞানচর্চার নতুন প্ল্যাটফর্ম আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট

ফয়জুল হাকিম অভিযোগ করেন, চিনিকল, পাটকলসহ জনগণের মালিকানাধীন ৪৪টি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার পরিবর্তে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত জনগণের কল্যাণে নয়; বরং একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের নেতা হেমন্ত দাশ বলেন, দেশের শিল্প ও কৃষির স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের সময়ে সম্পাদিত পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, দেশের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে বিদেশি প্রভাব গ্রহণযোগ্য নয় এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

আরও পড়ুন  ভুটান ভূমিকম্প ৫.৬: ঢাকাসহ বাংলাদেশে শক্তিশালী কম্পন অনুভূত

সংগঠনের আরেক নেতা দীপা মল্লিক বলেন, ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২৫টি পাটকল ও ৬টি চিনিকল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। তিনি অভিযোগ করেন, এসব প্রতিষ্ঠানের লোকসানের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কোনো সরকারই নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করেনি।

দীপা মল্লিকের মতে, দুর্নীতি, শিল্প আধুনিকায়নে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাব এবং আমলাদের সঙ্গে ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর যোগসাজশের কারণেই রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এসব সমস্যা সমাধান না করে শিল্প ইজারা বা বিক্রি করলে দেশের উৎপাদনশীল খাত আরও সংকুচিত হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন  হবিগঞ্জ বজ্রাঘাত ২০২৬: ভয়াবহ ঘটনায় ৩ জন নিহত ও আহত ৪ জন

সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের নেতা সাইফুর রুদ্রও। তিনি বলেন, ২০০২ সালে বিএনপি সরকারের সময়ে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক কর্মসূচির মাধ্যমে আদমজী জুট মিল বন্ধ করা হয়েছিল। সে সময় আওয়ামী লীগও কার্যকরভাবে ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সাইফুর রুদ্র দাবি করেন, বর্তমানে ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প ইজারা বা বিক্রির উদ্যোগের ক্ষেত্রেও বড় রাজনৈতিক দলগুলো কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছে। তিনি শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে রাষ্ট্রীয় শিল্প রক্ষার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, রাষ্ট্রীয় শিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে জনসম্পৃক্ত প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর পথ।