জেন-জি ভাষা এখন শুধু সোশ্যাল মিডিয়া বা তরুণদের আড্ডাতেই সীমাবদ্ধ নেই। ভারতের সংসদেও এই নতুন প্রজন্মের জনপ্রিয় শব্দের ব্যবহার শুরু হয়েছে। চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা বক্তৃতার সময় এমন সব শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা এতদিন মূলত ইনস্টাগ্রাম, মিম সংস্কৃতি এবং অনলাইন কমিউনিটিতেই বেশি পরিচিত ছিল।
এবারের আলোচনায় শোনা গেছে ‘ডেলুলু’, ‘ক্লক ইট’, ‘এফওএমও’, ‘এমআইএ’ এবং ‘কুচু-পুচু’র মতো বহুল আলোচিত শব্দ। এসব শব্দের মাধ্যমে নেতারা নিজেদের বক্তব্যকে আরও আকর্ষণীয় ও সমসাময়িক করে তুলতে চেয়েছেন। ফলে সংসদের ভাষায় ডিজিটাল সংস্কৃতির প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বিরোধী দলকে কটাক্ষ করতে গিয়ে বলেন, বিরোধী দলের নেতা দীর্ঘ সময় ‘এমআইএ’ বা ‘মিসিং ইন অ্যাকশন’ ছিলেন। পরে ‘এফওএমও’ অর্থাৎ ‘ফিয়ার অব মিসিং আউট’-এর কারণেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নিতে বাধ্য হন বলে মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ বাঁশুরি স্বরাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিভিন্ন সমস্যাকে সঠিকভাবে ‘ক্লক ইট’ করেছেন, অর্থাৎ দ্রুত শনাক্ত করে কার্যকর সমাধান বের করেছেন। একই অধিবেশনে তেজস্বী সূর্য বিরোধীদের উদ্দেশে ‘ডেলুলু’ শব্দ ব্যবহার করে তাদের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন বলে মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ করতে নেতারা এখন জনপ্রিয় অনলাইন ভাষা ব্যবহার করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া শব্দ সংসদে পৌঁছে যাওয়ায় রাজনীতির ভাষাতেও নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। এতে সংসদের আলোচনা তরুণদের কাছেও আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে জেন-জি ভাষা আরও বেশি রাজনৈতিক বক্তব্যে দেখা যেতে পারে। তবে কেউ এটিকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত বলছেন, আবার কেউ সংসদের গাম্ভীর্যের সঙ্গে এমন ভাষার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবুও একটি বিষয় পরিষ্কার—ডিজিটাল যুগের ভাষা এখন দেশের সর্বোচ্চ আইনসভাতেও জায়গা করে নিয়েছে।




























