আসন্ন এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে চলমান জাতীয় হকি ক্যাম্পে নতুন করে ছয় খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম অভিজ্ঞ তারকা রাসেল মাহমুদ জিমি। তার সঙ্গে আরও পাঁচজন খেলোয়াড়কে ক্যাম্পে ডাকা হয়েছে, যারা শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের প্রস্তুতিতে যোগ দেবেন।
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের নবগঠিত সিলেকশন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাদের প্রথম বড় সিদ্ধান্ত। জাতীয় দলের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করতে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ফেডারেশন। নতুনদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ক্যাম্পে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
নতুন করে ডাক পাওয়া খেলোয়াড়রা হলেন আবু সাঈদ নিপ্পন, মো. নাইম উদ্দিন, মো. শিশির, পুস্পর খীসা মিমো, রাসেল মাহমুদ জিমি এবং শহিদুল হক সৈকত। এদের মধ্যে কেউ অভিজ্ঞতার কারণে পরিচিত, আবার কেউ সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে নজর কেড়েছেন। নির্বাচকরা তাদের সামর্থ্য ও বর্তমান ফর্ম বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হকি ফেডারেশনের এক জরুরি সভায় নতুন সিলেকশন কমিটির সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর তারা সর্বসম্মতিক্রমে ছয় খেলোয়াড়কে ক্যাম্পে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। সভায় এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য দল নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বড় আসরে ভালো ফল করতে হলে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সঠিক সমন্বয় প্রয়োজন। সেই লক্ষ্য থেকেই এই খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচকরা বিশ্বাস করেন, নতুন সংযোজন দলের শক্তি ও গভীরতা আরও বাড়াবে।
রাসেল মাহমুদ জিমির প্রত্যাবর্তন বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। দেশের হকিতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসা এই খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতা তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। একই সঙ্গে ম্যাচ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে তার উপস্থিতি দলের জন্য বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে।
শুক্রবার থেকে ছয় খেলোয়াড় মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে চলমান অফিশিয়াল ক্যাম্পে যোগ দেবেন। সেখানে তারা অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনুশীলনে অংশ নিয়ে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পাবেন। চূড়ান্ত দল গঠনের আগে প্রত্যেকের পারফরম্যান্স নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন আশা করছে, সিনিয়র ও জুনিয়র খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই দল এশিয়ান গেমসে দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। প্রস্তুতির এই পর্যায়ে নতুন মুখ ও অভিজ্ঞদের উপস্থিতি জাতীয় দলের শক্তি বাড়াবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন সবার লক্ষ্য, কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল তৈরি করা।





























