ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদালত প্রাঙ্গণে আসামিকে স্বজনের দেওয়া পাউরুটিতে ইয়াবা-গাঁজা

আদালতে আসামির পাউরুটির ভেতরে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধারের প্রতীকী ছবি

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজিরার জন্য আনা এক কারাবন্দি আসামির কাছে স্বজনের দেওয়া পাউরুটির প্যাকেট থেকে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

রোববার (২ আগস্ট) কারাগার থেকে মামুন নামের ওই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। বিচারিক কার্যক্রম শেষে তাকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় নিয়মিত তল্লাশিতে পাউরুটির ভেতরে কৌশলে লুকিয়ে রাখা মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল জানান, আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় আসামির স্বজনরা খাবার দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। দায়িত্বরত কনস্টেবল প্রথমে আপত্তি জানালেও মানবিক কারণে একটি পাউরুটির প্যাকেট নিতে দেন। পরে নিরাপত্তা যাচাইয়ের সময় পাউরুটির ভেতরে লুকানো ইয়াবা ট্যাবলেট ও গাঁজা পাওয়া যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম দৃষ্টিতে পাউরুটির প্যাকেটটি স্বাভাবিক মনে হলেও পরে বিস্তারিত তল্লাশিতে পাউরুটির অংশ কেটে ভেতরে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা মাদক শনাক্ত করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে মাদকগুলো জব্দ করা হয় এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়।

ঘটনার পর কে বা কারা এই মাদক পাউরুটির মধ্যে লুকিয়ে দিয়েছিল এবং এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আদালত প্রাঙ্গণের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করছে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এ ঘটনার পর আদালতে হাজির হওয়া আসামিদের জন্য স্বজনদের দেওয়া খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজন হলে প্রতিটি খাবার স্ক্যানিং বা আরও নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মাদক পাচারকারীরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। কখনও খাবার, কখনও পোশাক, আবার কখনও দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসের ভেতরে মাদক লুকিয়ে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই আদালত, কারাগার ও হাজতখানাসহ স্পর্শকাতর স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো দুর্বলতা ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আদালত প্রাঙ্গণে আসামিকে স্বজনের দেওয়া পাউরুটিতে ইয়াবা-গাঁজা

Update Time : ০৮:৪৩:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজিরার জন্য আনা এক কারাবন্দি আসামির কাছে স্বজনের দেওয়া পাউরুটির প্যাকেট থেকে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

রোববার (২ আগস্ট) কারাগার থেকে মামুন নামের ওই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। বিচারিক কার্যক্রম শেষে তাকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় নিয়মিত তল্লাশিতে পাউরুটির ভেতরে কৌশলে লুকিয়ে রাখা মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল জানান, আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় আসামির স্বজনরা খাবার দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। দায়িত্বরত কনস্টেবল প্রথমে আপত্তি জানালেও মানবিক কারণে একটি পাউরুটির প্যাকেট নিতে দেন। পরে নিরাপত্তা যাচাইয়ের সময় পাউরুটির ভেতরে লুকানো ইয়াবা ট্যাবলেট ও গাঁজা পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন  সোনারগাঁয়ে অভিযানে ‘কাইল্লা রক্সি’ গ্রেপ্তার

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম দৃষ্টিতে পাউরুটির প্যাকেটটি স্বাভাবিক মনে হলেও পরে বিস্তারিত তল্লাশিতে পাউরুটির অংশ কেটে ভেতরে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা মাদক শনাক্ত করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে মাদকগুলো জব্দ করা হয় এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়।

ঘটনার পর কে বা কারা এই মাদক পাউরুটির মধ্যে লুকিয়ে দিয়েছিল এবং এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আদালত প্রাঙ্গণের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করছে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রামে ওয়াসিম হত্যা মামলা: অভিযোগ গঠনের শুনানি ২২ জুন

এ ঘটনার পর আদালতে হাজির হওয়া আসামিদের জন্য স্বজনদের দেওয়া খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজন হলে প্রতিটি খাবার স্ক্যানিং বা আরও নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মাদক পাচারকারীরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। কখনও খাবার, কখনও পোশাক, আবার কখনও দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসের ভেতরে মাদক লুকিয়ে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই আদালত, কারাগার ও হাজতখানাসহ স্পর্শকাতর স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন  টেকনাফে ৩০ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার, অস্ত্র জব্দ

ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো দুর্বলতা ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।