২০২৭ সালের আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের তিন যৌথ আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া এবার মাঠে নামছে একটি ঐতিহাসিক ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে। আগামী ২৮ আগস্ট থেকে নামিবিয়ার রাজধানী উইন্ডহুকে শুরু হবে এই প্রতিযোগিতা। আফ্রিকা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (এসিএ) এই সিরিজকে আগামী বছর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাওয়া ‘আফ্রিকান কাপ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে দেখছে। ফলে বিশ্বকাপের আগে আফ্রিকান ক্রিকেটে নতুন এক যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে।
দীর্ঘ ২৪ বছর পর আফ্রিকা মহাদেশ আবারও ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই বড় আসরের আগে এই ত্রিদেশীয় সিরিজকে বিশ্বকাপের আবহ তৈরি করার অন্যতম মঞ্চ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনটি আয়োজক দেশের জন্য এটি শুধু প্রস্তুতির সুযোগই নয়, বরং নিজেদের শক্তি যাচাইয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
আফ্রিকা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান টাভেঙ্গওয়া মুকুলানি এই উদ্যোগকে আফ্রিকান ক্রিকেটের জন্য একটি নতুন অধ্যায় বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষায়, নিয়মিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সিরিজের মাধ্যমে আফ্রিকার ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি ২০২৭ সাল থেকে ‘আফ্রিকান কাপ’কে মহাদেশের ফ্ল্যাগশিপ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পরিণত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
মুকুলানি আরও বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়াকে নিয়মিত একই প্রতিযোগিতায় খেলানোর মাধ্যমে ক্রিকেটের মান যেমন উন্নত হবে, তেমনি নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্যও বড় মঞ্চ তৈরি হবে। আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে ক্রীড়া সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তিনি।
ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফোলেটসি মোসেকি বলেন, এই সীমিত ওভারের সিরিজে অংশ নিতে পেরে তারা দারুণ উচ্ছ্বসিত। তাঁর মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্রিকেট উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতিকে আরও শক্তিশালী করবে এই টুর্নামেন্ট। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ ও উন্মাদনাও অনেক বাড়িয়ে তুলবে এই সিরিজ।
নামিবিয়া ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জোহান মুলারও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট ও জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের সহযোগিতা ও সদিচ্ছা আফ্রিকায় ক্রিকেটের বিস্তার এবং পারস্পরিক অংশীদারিত্বের একটি দৃষ্টান্ত। এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় প্রতিযোগিতার পথ তৈরি করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আগামী বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপ। যৌথভাবে এই আসরের আয়োজক হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া। সম্প্রতি তিন দেশের মোট ১২টি ভেন্যুর নামও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। ২০০৩ সালের পর আবারও আফ্রিকায় ফিরছে বিশ্বকাপ, তবে এবার প্রথমবারের মতো আয়োজক দেশের তালিকায় যুক্ত হয়েছে নামিবিয়া।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করে প্রশংসা কুড়িয়েছিল নামিবিয়া। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার সিনিয়র বিশ্বকাপ আয়োজনেও নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে চায় দেশটি। তাই এই ত্রিদেশীয় সিরিজকে শুধু প্রস্তুতি নয়, বরং বড় আসরের পরীক্ষামঞ্চ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের সূচি:
- ২৮ আগস্ট: দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম নামিবিয়া
- ২৯ আগস্ট: দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম জিম্বাবুয়ে
- ৩১ আগস্ট: জিম্বাবুয়ে বনাম নামিবিয়া
- ১ সেপ্টেম্বর: জিম্বাবুয়ে বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
- ৩ সেপ্টেম্বর: নামিবিয়া বনাম জিম্বাবুয়ে
- ৪ সেপ্টেম্বর: নামিবিয়া বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
- ৬ সেপ্টেম্বর: ফাইনাল (শীর্ষ দুই দল)





























