ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্রিশের পর মা হতে চাইলে যে প্রস্তুতি জরুরি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৫৬:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৬

ত্রিশের পর মা হতে চাইলে স্বাস্থ্য সচেতনতা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত

ক্যারিয়ার গড়া, চাকরিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা কিংবা নিজের জন্য কিছুটা সময়—সব মিলিয়ে অনেক নারীরই বিয়ের পর সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা পিছিয়ে যায়। ত্রিশের পর মা হওয়া এখন আর অস্বাভাবিক নয়। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে গর্ভধারণের সক্ষমতা কিছুটা কমতে পারে এবং ৩৫ বছরের পর গর্ভাবস্থায় কিছু জটিলতার ঝুঁকিও বাড়ে। তাই দেরিতে মা হওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকেই শরীর ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।

১. বয়স বাড়ার সঙ্গে গর্ভধারণের সক্ষমতা কমে

নারীর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণমান কমতে থাকে। বিশেষ করে ৩০-এর মাঝামাঝি সময়ের পর এই পরিবর্তন তুলনামূলক দ্রুত হতে পারে। ফলে গর্ভধারণে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে। তবে ৩৫ বছর পার হলেই সন্তান ধারণ সম্ভব নয়—এমন ধারণা সঠিক নয়। অনেক নারীই এই বয়সে সুস্থভাবে সন্তান জন্ম দিতে পারেন।

২. কিছু গর্ভকালীন জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে

৩৫ বছরের পর গর্ভধারণে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ার মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। গর্ভপাতের সম্ভাবনাও বয়সের সঙ্গে কিছুটা বৃদ্ধি পায়। তবে এসব ঝুঁকি সবার ক্ষেত্রে একই নয়। বয়সের পাশাপাশি নারীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য, ওজন ও আগে থেকে থাকা রোগও গুরুত্বপূর্ণ।

৩. শিশুর ক্রোমোজোমজনিত সমস্যার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে

বয়স বাড়ার সঙ্গে ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোমের অস্বাভাবিকতার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। এর ফলে কিছু ক্রোমোজোমজনিত সমস্যার ঝুঁকিও বাড়ে। তাই গর্ভধারণের পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রসবপূর্ব পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ।

৪. গর্ভধারণের আগেই স্বাস্থ্য ঠিক রাখুন

৩৫ বছরের পর মা হওয়ার পরিকল্পনা থাকলে অন্তত কয়েক মাস আগে থেকেই নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া ভালো। অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম করা এবং ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।

৫. গর্ভধারণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করলে একজন প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা ভালো। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী আগের রোগের ইতিহাস, চলমান ওষুধ, টিকা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন। নিজের ইচ্ছেমতো কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

৬. গর্ভধারণে দেরি হলে অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের কাছে যান

৩৫ বছরের বেশি বয়সে নিয়মিত অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্কের পরও ছয় মাসের মধ্যে গর্ভধারণ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ৪০ বছরের বেশি হলে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করার সময়ই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা ভালো। এতে প্রয়োজন হলে দ্রুত ফার্টিলিটি মূল্যায়ন ও পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়।

৭. গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি

গর্ভধারণের পর বয়সের কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নিয়মিত চেকআপ করা উচিত। রক্তচাপ, রক্তে শর্করা এবং গর্ভাবস্থার অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সময়মতো করানো গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের দেওয়া পরামর্শ মেনে চললে গর্ভাবস্থার বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, ৩০ বা ৩৫ বছর পার হওয়া মানেই মা হতে সমস্যা হবে—এমন নয়। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে কিছু ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আগে থেকেই পরিকল্পনা করা বুদ্ধিমানের কাজ। নিজের স্বাস্থ্য ভালো রাখা, গর্ভধারণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে সুস্থ মাতৃত্বের সম্ভাবনা বাড়ানো যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রিশের পর মা হতে চাইলে যে প্রস্তুতি জরুরি

Update Time : ১০:৫৬:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

ক্যারিয়ার গড়া, চাকরিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা কিংবা নিজের জন্য কিছুটা সময়—সব মিলিয়ে অনেক নারীরই বিয়ের পর সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা পিছিয়ে যায়। ত্রিশের পর মা হওয়া এখন আর অস্বাভাবিক নয়। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে গর্ভধারণের সক্ষমতা কিছুটা কমতে পারে এবং ৩৫ বছরের পর গর্ভাবস্থায় কিছু জটিলতার ঝুঁকিও বাড়ে। তাই দেরিতে মা হওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকেই শরীর ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।

১. বয়স বাড়ার সঙ্গে গর্ভধারণের সক্ষমতা কমে

নারীর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণমান কমতে থাকে। বিশেষ করে ৩০-এর মাঝামাঝি সময়ের পর এই পরিবর্তন তুলনামূলক দ্রুত হতে পারে। ফলে গর্ভধারণে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে। তবে ৩৫ বছর পার হলেই সন্তান ধারণ সম্ভব নয়—এমন ধারণা সঠিক নয়। অনেক নারীই এই বয়সে সুস্থভাবে সন্তান জন্ম দিতে পারেন।

আরও পড়ুন  সরকারি দপ্তরে এআই ব্যবহারে কেন সতর্ক করল সরকার?

২. কিছু গর্ভকালীন জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে

৩৫ বছরের পর গর্ভধারণে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ার মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। গর্ভপাতের সম্ভাবনাও বয়সের সঙ্গে কিছুটা বৃদ্ধি পায়। তবে এসব ঝুঁকি সবার ক্ষেত্রে একই নয়। বয়সের পাশাপাশি নারীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য, ওজন ও আগে থেকে থাকা রোগও গুরুত্বপূর্ণ।

৩. শিশুর ক্রোমোজোমজনিত সমস্যার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে

বয়স বাড়ার সঙ্গে ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোমের অস্বাভাবিকতার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। এর ফলে কিছু ক্রোমোজোমজনিত সমস্যার ঝুঁকিও বাড়ে। তাই গর্ভধারণের পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রসবপূর্ব পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ।

৪. গর্ভধারণের আগেই স্বাস্থ্য ঠিক রাখুন

৩৫ বছরের পর মা হওয়ার পরিকল্পনা থাকলে অন্তত কয়েক মাস আগে থেকেই নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া ভালো। অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম করা এবং ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন  মাস্টারশেফ ইউকেতে পেঁয়াজু দিয়ে বাজিমাত করলেন সাবিনা খান , MasterChef UK 2026

৫. গর্ভধারণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করলে একজন প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা ভালো। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী আগের রোগের ইতিহাস, চলমান ওষুধ, টিকা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারেন। নিজের ইচ্ছেমতো কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

৬. গর্ভধারণে দেরি হলে অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের কাছে যান

৩৫ বছরের বেশি বয়সে নিয়মিত অসুরক্ষিত যৌনসম্পর্কের পরও ছয় মাসের মধ্যে গর্ভধারণ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ৪০ বছরের বেশি হলে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করার সময়ই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা ভালো। এতে প্রয়োজন হলে দ্রুত ফার্টিলিটি মূল্যায়ন ও পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন  বস্তি থেকে দুবাইয়ের বিলিয়নিয়ার রিজওয়ান সাজান

৭. গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি

গর্ভধারণের পর বয়সের কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নিয়মিত চেকআপ করা উচিত। রক্তচাপ, রক্তে শর্করা এবং গর্ভাবস্থার অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সময়মতো করানো গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের দেওয়া পরামর্শ মেনে চললে গর্ভাবস্থার বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, ৩০ বা ৩৫ বছর পার হওয়া মানেই মা হতে সমস্যা হবে—এমন নয়। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে কিছু ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আগে থেকেই পরিকল্পনা করা বুদ্ধিমানের কাজ। নিজের স্বাস্থ্য ভালো রাখা, গর্ভধারণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে সুস্থ মাতৃত্বের সম্ভাবনা বাড়ানো যায়।