মশা তাড়াতে রসুন ব্যবহার করার কথা অনেকেই ঘরোয়া উপায় হিসেবে জানেন। বর্ষাকালে বাড়িতে মশার উপদ্রব বেড়ে গেলে বাজারের বিভিন্ন পণ্য ব্যবহারের পাশাপাশি রান্নাঘরের এই পরিচিত উপাদান দিয়েও মশা দূরে রাখার চেষ্টা করেন অনেকে। তবে রসুনের গন্ধ মশা কমাতে কতটা কার্যকর, তা নিয়ে নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত। তাই এটিকে মশা নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায় হিসেবে না দেখে অতিরিক্ত একটি ঘরোয়া পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা ভালো।
রসুনে সালফারযুক্ত বিভিন্ন যৌগ রয়েছে, যার কারণে এর গন্ধ বেশ তীব্র। এই গন্ধই মশা ও অন্যান্য কিছু পোকামাকড়ের ক্ষেত্রে বিরক্তিকর হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তাই মশা তাড়াতে রসুন ব্যবহারের একটি প্রচলিত উপায় হলো রসুনের কোয়া থেঁতলে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে তৈরি করা। কয়েকটি রসুনের কোয়া পানিতে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ছেঁকে সেই পানি স্প্রে বোতলে রাখা যায়।
তৈরি করা রসুনের পানি ঘরের কোণ, জানালার আশপাশ, বারান্দা কিংবা মশা বেশি বসে এমন জায়গায় হালকা করে স্প্রে করা যায়। তবে ঘরের কোনো আসবাব, কাপড় বা ত্বকে ব্যবহারের আগে সেটি নিরাপদ কি না পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। রসুনের তৈরি তরলকে সরাসরি ত্বকে লাগানোও ঠিক নয়, কারণ সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালা বা অ্যালার্জির মতো প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
রসুনের সঙ্গে লবঙ্গের মতো তীব্র গন্ধযুক্ত উপাদান ব্যবহার করাও প্রচলিত একটি ঘরোয়া কৌশল। কয়েকটি থেঁতলানো রসুনের কোয়ার সঙ্গে কয়েকটি লবঙ্গ একটি পাত্রে রেখে জানালা বা দরজার কাছে রাখা হয়। এর তীব্র গন্ধ মশা কিছুটা দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে বলে অনেকে মনে করেন। তবে এটিকে নিশ্চিত মশা প্রতিরোধক হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
বর্ষাকালে শুধু মশা তাড়াতে রসুন বা অন্য কোনো ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে মশার বংশবিস্তার বন্ধ করাও জরুরি। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত ফেলে দেওয়া, ফুলের টব ও বিভিন্ন পাত্র পরিষ্কার রাখা, জানালা-দরজায় নেট ব্যবহার এবং ঘুমের সময় মশারি ব্যবহার করা বেশি কার্যকর প্রতিরোধের অংশ। বিশেষ করে ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি থাকলে সতর্কতা আরও জরুরি।
রসুনের গন্ধকে ঘরোয়া সহায়ক পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে এর কার্যকারিতা নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করা ঠিক নয়। মশার উপদ্রব বেশি হলে প্রমাণিত মশা প্রতিরোধক ব্যবহার, মশারি ও ঘরের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার মতো কার্যকর ব্যবস্থা চালু রাখা উচিত। শিশু, অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের আশপাশে যেকোনো স্প্রে বা তীব্র গন্ধযুক্ত উপাদান ব্যবহারের আগে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করাই ভালো।
























