ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo # ইটনার হাওরে নৌকাবাইচ, লাখো মানুষের উচ্ছ্বাস নদীর জল কেটে একসঙ্গে ছুটছে দৌড়ের নাও। নৌকার দুই পাশে সারি করে বসেছেন মাঝিরা। গায়েনের গানের তালে তালে শক্ত হাতে একসঙ্গে চলছে বৈঠা। প্রতিযোগিতা যত জমে উঠছে, ততই বাড়ছে বৈঠার গতি। মাঝিদের কণ্ঠে কোরাস—‘হেইও, হেইও’। সেই ছন্দময় শব্দে মুখর হয়ে উঠছে নদীর দুই পাড়। কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ধনপুর বাজারসংলগ্ন সুরমা নদীতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। গ্রামীণ বাংলার চিরচেনা এই আয়োজন দেখতে সকাল থেকেই নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেন হাজারো মানুষ। আয়োজকদের দাবি, বিকেল পর্যন্ত নৌকাবাইচ ঘিরে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। ## ১০টি নৌকা অংশ নেয় শনিবার দুপুরে শুরু হওয়া নৌকাবাইচে মোট ১০টি নৌকা অংশ নেয়। প্রতিটি নৌকায় ছিলেন দক্ষ মাঝি ও বৈঠাচালক। নির্দিষ্ট দূরত্বে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নৌকাগুলো পাশাপাশি ছুটে চলে। বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের সম্মিলিত গান এবং দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা নৌকার দৌড় উপভোগ করেন। কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন, আবার কেউ প্রিয় দলের নৌকাকে উৎসাহ দিতে নানা স্লোগান দেন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী ও প্রবীণরাও এ আয়োজনে অংশ নেন। ## দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীদের আগমন নৌকাবাইচ দেখতে শুধু ইটনা নয়, কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকেও মানুষ আসেন। আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা এসে নদীর দুই পাড়ে অবস্থান নেন। সকাল থেকেই নদীর পাড়ে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও ঘন হয়। নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে ধনপুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ছোট দোকানেও ছিল বাড়তি ব্যস্ততা। খাবার, খেলনা ও বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে বসেন অস্থায়ী দোকানিরা। ফলে নৌকাবাইচ শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও সাময়িক প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করে। ## প্রায় শত বছরের ঐতিহ্য স্থানীয়দের ভাষ্য, কিশোরগঞ্জে নৌকাবাইচের ইতিহাস প্রায় শত বছরের পুরোনো। নদী ও হাওরবেষ্টিত এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে নৌকা বরাবরই ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে। বর্ষাকালে বিস্তীর্ণ হাওর ও নদীতে নৌকাই ছিল মানুষের অন্যতম প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম। একসময় কিশোরগঞ্জের নিকলীতে প্রতিবছর ভাদ্র মাসের প্রথম দিনে নিয়মিত নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হতো। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এ আয়োজন দেখতে আসতেন। তবে সময়ের পরিবর্তন, আধুনিক বিনোদনের বিস্তার এবং নানা কারণে ধীরে ধীরে অনেক এলাকায় নৌকাবাইচের আয়োজন কমে গেছে। স্থানীয়রা মনে করেন, নৌকাবাইচের মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজনগুলো নিয়মিত করা গেলে নতুন প্রজন্ম দেশের লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে। ## হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ধরে রাখার দাবি স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় বর্ষা মৌসুমে নৌকাবাইচ ছিল গ্রামবাংলার অন্যতম প্রধান বিনোদন। নদী ও হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশিতে নৌকার প্রতিযোগিতা দেখতে আশপাশের গ্রামগুলো থেকে মানুষ দলবেঁধে আসতেন। বর্তমানে আধুনিক বিনোদনের নানা মাধ্যম মানুষের জীবনযাত্রায় জায়গা করে নেওয়ায় নৌকাবাইচের মতো লোকজ আয়োজন অনেকটাই কমে গেছে। ফলে এ ধরনের আয়োজনকে নিয়মিত করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার নদী-নির্ভর জীবন, লোকসংগীত, নৌকার কারিগরি ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ মানুষের সামাজিক বন্ধন। ## উৎসবের আবহে মুখর সুরমা নদীর পাড় শনিবারের নৌকাবাইচে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ছিল উৎসবের আমেজ। নদীর বুকে নৌকার ছুটে চলা আর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের উচ্ছ্বাসে সুরমা নদীর পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। মাঝিদের বৈঠার প্রতিটি আঘাতের সঙ্গে দর্শকদের উল্লাস বাড়তে থাকে। নৌকা যত দ্রুত সামনে এগিয়ে যায়, ততই বাড়তে থাকে উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতা উপভোগ করে আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরেন দর্শনার্থীরা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ইটনার এই নৌকাবাইচের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং এর মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের হারিয়ে যেতে বসা নৌকাবাইচের ঐতিহ্য নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে। Logo জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় পরিবেশবান্ধব ব্যবসার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদের Logo ঢাকার প্রেস ক্লাবে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত Logo জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ Logo রিচার্লিসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা, নতুন ক্লাব পাচ্ছেন না ব্রাজিল তারকা Logo শাহজালাল বিমানবন্দরে ১২০টি স্বর্ণবার জব্দ করেছে কাস্টমস Logo বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তারেক রহমান Logo প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে নতুন তথ্য জানালেন হুমায়ুন কবির Logo ডায়াবেটিসে কী খাবেন? ৫ ভুল ধারণার সত্যতা জানুন Logo ঝালকাঠিতে মাদকবিরোধী কর্মসূচি, নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ এলাকাবাসী

কাজিপুরে জন্মাষ্টমীতে বৃষ্টিস্নাত মঙ্গল শোভাযাত্রা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৬:২৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১১

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মঙ্গল শোভাযাত্রা। ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সোনামুখীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে পূজা ও মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সোনামুখী শিখা মন্দিরে দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি পালন করা হয়।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। শোভাযাত্রায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি উৎসবের আমেজও দেখা যায়।

মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাজিপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা জাহান সুমাইয়া ও কাজিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুর রাজ্জাক। এছাড়া আফজাল হোসেন মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক শ্রী খোকন উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য, হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সাংবাদিকরা অংশ নেন। এ সময় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা তুলে ধরা হয়।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। তাঁর জন্মতিথিকে স্মরণ করে প্রতিবছর সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উপবাস, পূজা-অর্চনা, গীতাপাঠ ও মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করেন।

জন্মাষ্টমীর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মথুরার রাজা কংসের অত্যাচার, দেবকী ও বসুদেবের কারাবাস এবং শ্রীকৃষ্ণের জন্মের পৌরাণিক কাহিনি। পরবর্তীতে শ্রীকৃষ্ণ কংসকে বধ করে অন্যায় ও অধর্মের বিরুদ্ধে ধর্ম প্রতিষ্ঠার প্রতীক হয়ে ওঠেন। এ বিশ্বাস থেকেই প্রতিবছর নানা ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী পালন করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

# ইটনার হাওরে নৌকাবাইচ, লাখো মানুষের উচ্ছ্বাস নদীর জল কেটে একসঙ্গে ছুটছে দৌড়ের নাও। নৌকার দুই পাশে সারি করে বসেছেন মাঝিরা। গায়েনের গানের তালে তালে শক্ত হাতে একসঙ্গে চলছে বৈঠা। প্রতিযোগিতা যত জমে উঠছে, ততই বাড়ছে বৈঠার গতি। মাঝিদের কণ্ঠে কোরাস—‘হেইও, হেইও’। সেই ছন্দময় শব্দে মুখর হয়ে উঠছে নদীর দুই পাড়। কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ধনপুর বাজারসংলগ্ন সুরমা নদীতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। গ্রামীণ বাংলার চিরচেনা এই আয়োজন দেখতে সকাল থেকেই নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেন হাজারো মানুষ। আয়োজকদের দাবি, বিকেল পর্যন্ত নৌকাবাইচ ঘিরে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। ## ১০টি নৌকা অংশ নেয় শনিবার দুপুরে শুরু হওয়া নৌকাবাইচে মোট ১০টি নৌকা অংশ নেয়। প্রতিটি নৌকায় ছিলেন দক্ষ মাঝি ও বৈঠাচালক। নির্দিষ্ট দূরত্বে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নৌকাগুলো পাশাপাশি ছুটে চলে। বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের সম্মিলিত গান এবং দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা নৌকার দৌড় উপভোগ করেন। কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন, আবার কেউ প্রিয় দলের নৌকাকে উৎসাহ দিতে নানা স্লোগান দেন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী ও প্রবীণরাও এ আয়োজনে অংশ নেন। ## দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীদের আগমন নৌকাবাইচ দেখতে শুধু ইটনা নয়, কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকেও মানুষ আসেন। আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা এসে নদীর দুই পাড়ে অবস্থান নেন। সকাল থেকেই নদীর পাড়ে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও ঘন হয়। নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে ধনপুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ছোট দোকানেও ছিল বাড়তি ব্যস্ততা। খাবার, খেলনা ও বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে বসেন অস্থায়ী দোকানিরা। ফলে নৌকাবাইচ শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও সাময়িক প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করে। ## প্রায় শত বছরের ঐতিহ্য স্থানীয়দের ভাষ্য, কিশোরগঞ্জে নৌকাবাইচের ইতিহাস প্রায় শত বছরের পুরোনো। নদী ও হাওরবেষ্টিত এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে নৌকা বরাবরই ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে। বর্ষাকালে বিস্তীর্ণ হাওর ও নদীতে নৌকাই ছিল মানুষের অন্যতম প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম। একসময় কিশোরগঞ্জের নিকলীতে প্রতিবছর ভাদ্র মাসের প্রথম দিনে নিয়মিত নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হতো। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এ আয়োজন দেখতে আসতেন। তবে সময়ের পরিবর্তন, আধুনিক বিনোদনের বিস্তার এবং নানা কারণে ধীরে ধীরে অনেক এলাকায় নৌকাবাইচের আয়োজন কমে গেছে। স্থানীয়রা মনে করেন, নৌকাবাইচের মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজনগুলো নিয়মিত করা গেলে নতুন প্রজন্ম দেশের লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে। ## হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ধরে রাখার দাবি স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় বর্ষা মৌসুমে নৌকাবাইচ ছিল গ্রামবাংলার অন্যতম প্রধান বিনোদন। নদী ও হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশিতে নৌকার প্রতিযোগিতা দেখতে আশপাশের গ্রামগুলো থেকে মানুষ দলবেঁধে আসতেন। বর্তমানে আধুনিক বিনোদনের নানা মাধ্যম মানুষের জীবনযাত্রায় জায়গা করে নেওয়ায় নৌকাবাইচের মতো লোকজ আয়োজন অনেকটাই কমে গেছে। ফলে এ ধরনের আয়োজনকে নিয়মিত করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার নদী-নির্ভর জীবন, লোকসংগীত, নৌকার কারিগরি ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ মানুষের সামাজিক বন্ধন। ## উৎসবের আবহে মুখর সুরমা নদীর পাড় শনিবারের নৌকাবাইচে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ছিল উৎসবের আমেজ। নদীর বুকে নৌকার ছুটে চলা আর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের উচ্ছ্বাসে সুরমা নদীর পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। মাঝিদের বৈঠার প্রতিটি আঘাতের সঙ্গে দর্শকদের উল্লাস বাড়তে থাকে। নৌকা যত দ্রুত সামনে এগিয়ে যায়, ততই বাড়তে থাকে উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতা উপভোগ করে আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরেন দর্শনার্থীরা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ইটনার এই নৌকাবাইচের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং এর মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের হারিয়ে যেতে বসা নৌকাবাইচের ঐতিহ্য নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে।

কাজিপুরে জন্মাষ্টমীতে বৃষ্টিস্নাত মঙ্গল শোভাযাত্রা

Update Time : ০৬:২৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সোনামুখীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে পূজা ও মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সোনামুখী শিখা মন্দিরে দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি পালন করা হয়।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। শোভাযাত্রায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি উৎসবের আমেজও দেখা যায়।

আরও পড়ুন  কেন ওমরাহ করেছেন নবীজি হজের মাসে

মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাজিপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা জাহান সুমাইয়া ও কাজিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুর রাজ্জাক। এছাড়া আফজাল হোসেন মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক শ্রী খোকন উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য, হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সাংবাদিকরা অংশ নেন। এ সময় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা তুলে ধরা হয়।

আরও পড়ুন  চন্দনাইশে জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রায় এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদ

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। তাঁর জন্মতিথিকে স্মরণ করে প্রতিবছর সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উপবাস, পূজা-অর্চনা, গীতাপাঠ ও মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করেন।

জন্মাষ্টমীর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মথুরার রাজা কংসের অত্যাচার, দেবকী ও বসুদেবের কারাবাস এবং শ্রীকৃষ্ণের জন্মের পৌরাণিক কাহিনি। পরবর্তীতে শ্রীকৃষ্ণ কংসকে বধ করে অন্যায় ও অধর্মের বিরুদ্ধে ধর্ম প্রতিষ্ঠার প্রতীক হয়ে ওঠেন। এ বিশ্বাস থেকেই প্রতিবছর নানা ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী পালন করা হয়।

আরও পড়ুন  উখিয়ার উত্তর হাজীরপাড়ার ব্রিজ নির্মাণ অনিয়মে তদন্ত দাবি জোরালো