পাকিস্তান ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনা তীব্র হয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ চলাকালীন সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরানো এবং কোচিং স্টাফে পরিবর্তনের পর এবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির সাবেক তারকা স্পিনার সাঈদ আজমল।
তার মতে, তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বর্তমান দলটিকেও বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে পিসিবি। এতে ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দল গঠনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব দেখা দিয়েছে।
সামা টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাঈদ আজমল বলেন, বোর্ডের সিদ্ধান্তই এখন খেলোয়াড়দের সবচেয়ে বেশি হতাশ করছে। ভালো পারফরম্যান্স করা ক্রিকেটাররাও নিয়মিত দলে থাকার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না। তার মতে, একজন খেলোয়াড়কে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সময় ও ধারাবাহিক সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
পাকিস্তান ক্রিকেট ১০ বছর পিছিয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এই স্পিনার। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের জন্য যথেষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় দলকে এখন বারবার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান সিরিজে পাকিস্তানের পারফরম্যান্সও ছিল হতাশাজনক। প্রথম দুই টেস্টে বড় ব্যবধানে হেরে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে দলটি। ফলে তৃতীয় টেস্টে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোই এখন পাকিস্তানের প্রধান লক্ষ্য।
প্রথম দুই টেস্টের পর পিসিবি সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলী আগা, আলী উসমান ও খুররম শাহজাদ। আমির জামাল ও আওয়াইস জাফরকেও দলের বাইরে পাঠানো হয়েছে।
ক্রিকেটারদের পাশাপাশি কোচিং স্টাফেও পরিবর্তন এসেছে। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকে দেশে ফেরানো হয়েছে। তৃতীয় টেস্টে দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাদা বলের প্রধান কোচ মাইক হেসনকে।
সালমান আলী আগাকে উদাহরণ হিসেবে টেনে আজমল বলেন, তিনি ভালো মানের ক্রিকেটার হলেও প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে পারেননি। তবে এমন পরিস্থিতিতে একজন খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়ার আগে তাকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া উচিত বলেই মনে করেন তিনি।
পিসিবির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করতে গিয়ে আকিব জাভেদ ও মাইক হেসনের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন আজমল। তার দাবি, দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে এই দুজনের বড় প্রভাব রয়েছে এবং বর্তমান অস্থিরতার পেছনে তাদের ভূমিকা রয়েছে।
তবে সাঈদ আজমলের এসব বক্তব্য তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন। পিসিবির পক্ষ থেকে তার অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি।



























